kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৯ ডিসেম্বর ২০২১। ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

মাটি কাটতে গিয়ে মিলল ‘গুপ্তধন’

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মাটি কাটতে গিয়ে মিলল ‘গুপ্তধন’

প্রাচীন ঘরের ভিটার মাটি কেটে সরানোর সময় গ্লাসে রাখা শত বছরের পুরনো মুদ্রাগুলো উঠে আসে। গতকাল গাজীপুর সদর উপজেলার দিগধা গ্রাম থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

গাজীপুরে পুরনো একটি বাড়ির মাটি কেটে সরানোর সময় পাওয়া গেছে শত বছরের পুরনো ‘গুপ্তধন’। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর উপজেলার দিগধা গ্রামের কৃষক দ্বিগেন্দ্র চন্দ্র মল্লিকের বাড়িতে মাটি কাটার সময় শ্রমিকরা এর সন্ধান পান। কাঁসার দুটি গ্লাসের ভেতরে রাখা এই গুপ্তধনের মধ্যে রয়েছে প্রতিটি এক ভরি ওজনের ৩০টি রৌপ্যমুদ্রা। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার মানুষ দল বেঁধে ওই বাড়িতে ভিড় জমায়। খবর পেয়ে শনিবার জয়দেবপুর সদর ফাঁড়ির পুলিশ মুদ্রাগুলো উদ্ধার করে ফাঁড়িতে নিয়ে আসে। বর্তমানে সেগুলো জয়দেবপুর থানায় রয়েছে।

গতকাল রবিবার ওই বাড়িতে গেলে বৃদ্ধ দ্বিজেন্দ্র বলেন, মুদ্রাগুলো যেখানে পাওয়া যায় সেখানে একটি প্রাচীন মাটির ঘর ছিল। বাবা রাজেন্দ্র মল্লিকের মৃত্যুর পর ১৬ বছর ধরে তিনি ওই ঘরে বাস করতেন। তার আগে বাস করতেন তাঁর দাদা বান্দুরাম মল্লিক। দাদা ঘরটি পেয়েছিলেন শ্বশুর গুরুচরণ মল্লিকের কাছ থেকে। গত বুধ ও বৃহস্পতিবার ছয় শ্রমিক ওই ঘরের ভিটের মাটি কেটে সরানোর সময় গ্লাসে রাখা মুদ্রাগুলো উঠে আসে। কিন্তু শ্রমিক ইদ্রিস তাঁকে কিছু না জানিয়ে মুদ্রাগুলো লুকিয়ে নিজ বাড়িতে নিয়ে রেখে আসেন। আরেক শ্রমিক মুদ্রাগুলো দেখে ফেললে ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ বাধে। পরে ঘটনা প্রকাশ হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে শনিবার ইদ্রিস মুদ্রাগুলো নিয়ে হাজির হন সদর পুলিশ ফাঁড়িতে।

দ্বিজেন্দ্রর স্ত্রী কিরণমালা বলেন, ‘আমার স্বামী পক্ষাঘাতে আক্রান্ত। অভাবের সংসার। টাকার অভাবে স্বামীর চিকিৎসা করাতে পারছি না। ওই মুদ্রাগুলো আমাদের। আমরা ওগুলো ফেরত চাচ্ছি। তাহলে স্বামীর চিকিৎসা করাও সম্ভব হবে।’

সদর ফাঁড়ির পরিদর্শক আশরাফ জানান, রুপার মুদ্রাগুলো জয়দেবপুর থানায় জমা দেওয়া হয়েছে। এগুলো দ্রুতই আদালতে জমা দেওয়া হবে। এগুলোর গায়ে খোদাই করে ইংরেজিতে লেখা আছে ‘ইন্ডিয়ান ওয়ান রুপি’। মুদ্রাগুলোর একেকটির গায়ে ১৯০৭, ১৯১২, ১৯১৪ ও ১৯১৬ সাল লেখা আছে। কোনোটিতে রানি ভিক্টোরিয়া আবার কোনোটিতে জর্জ কিংয়ের ছবি রয়েছে।



সাতদিনের সেরা