kalerkantho

মঙ্গলবার । ৩ কার্তিক ১৪২৮। ১৯ অক্টোবর ২০২১। ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ইভ্যালির ১২ জনের নামে আরেক মামলা

আসামিদের ধরতে অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সময়ের আলোচিত ই-কমার্সভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির বিরুদ্ধে রাজধানীর ধানমণ্ডি থানায় আরেকটি মামলা হয়েছে। কামরুল ইসলাম নামের এক ব্যবসায়ী গত শুক্রবার রাতে মামলাটি করেন। মামলায় ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনসহ ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। ধানমণ্ডি থানার ওসি ইকরাম আলী মিয়া গতকাল রবিবার বিকেলে কালের কণ্ঠকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন ইভ্যালির ভাইস প্রসিডেন্ট আকাশ, ব্যবস্থাপক জাহেদুল ইসলাম, সিনিয়র অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার তানভীর আলম, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ (কমার্শিয়াল) জাওয়াদুল হক চৌধুরী, অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার জুবায়ের আল মাহমুদ, অ্যাকাউন্টস শাখার কর্মী সেলিম রেজা, সোহেল, আকিবুর রহমান তুর্য, সিইওর পিএস রেজওয়ান ও বাইক ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তা সাকিব রহমান। এ ছাড়া মামলার এজাহারে আরো ১৫-২০ জন অচেনা আসামির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে ধানমণ্ডি থানার ওসি ইকরাম আলী বলেন, ‘রাসেল ও শামীমা গুলশান থানায় রিমান্ডে রয়েছেন। ধানমণ্ডি থানার মামলায়ও আমরা তাঁদের গ্রেপ্তার দেখিয়েছি। আদালতে সাত দিনের রিমান্ড আবেদনও করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

মামলার এজাহারে কামরুল ইসলাম আরো বলেন, মামলার বাদী কামরুল ইসলাম মেট্রো কভারেজ, স্মার্ট ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, ফ্রিডম এক্সপোর্ট ইম্পোর্ট বিডি ও ফিউচার আইটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি ইভ্যালির সঙ্গে চুক্তি করে মোট ৩৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকার পণ্য গ্রাহকদের কাছে সরবরাহ করেছেন। পণ্য সরবরাহের বিপরীতে ইভ্যালি তাঁদের একটি চেক দিলেও ব্যাংক হিসাবে কোনো টাকা ছিল না। এ ঘটনায় গত ১২ জানুয়ারি বাদী ইভ্যালির বিরুদ্ধে ধানমণ্ডি থানায় একটি জিডি করেন। এর পরও ইভ্যালি তাঁদের কোনো টাকা পরিশোধ করেনি।

এর আগে ইভ্যালির বিরুদ্ধে গত ১৬ সেপ্টেম্বর গুলশান থানায় এক গ্রাহকের মামলার পর বিকেলে মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে রাসেল ও তাঁর স্ত্রী শামীমা নাসরিনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। পরদিন র‌্যাব জানায়, ইভ্যালির হাজার কোটি টাকারও বেশি দেনা রয়েছে। এসব দেনা পরিশোধ না করে প্রতিষ্ঠান ‘দেউলিয়া’ ঘোষণার পরিকল্পনা করেছিলেন রাসেল। পরে গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হলে পুলিশ তাঁদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।

রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে : রিমান্ডে রাসেল দম্পতি মুখ খুলতে শুরু করেছেন জানিয়ে মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, ‘শুরুর দিকে অসুস্থতার কথা বলে রাসেল কোনো কথা বলেননি। এখন এই দম্পতিকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলছে। আমরা এগুলো যাচাই-বাছাই ও তদন্ত করে দেখছি।’

ইভ্যালিকে ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে রাসেল তরুণদের টার্গেট করেছিলেন জানিয়ে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শুরুতে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে চমকপ্রদ অফার যোগ করেন তিনি, যাতে বিজ্ঞাপন দেখে লুফে নেয় তরুণরা। এতে কাজও হয়, লোভনীয় অফারের ফাঁদে বিপুলসংখ্যক তরুণ বিনিয়োগ করতে শুরু করে। এতে রাসেল তাঁর ব্যবসার পরিসর বাড়াতে থাকেন। আর তাঁর এই অপকর্মের মূলে কলকাঠি নাড়েন স্ত্রী শামীমা। ইভ্যালি অফিসেও ছিল রাসেলের স্ত্রীর আত্মীয় ও বন্ধুদের আধিপত্য।

রিমান্ডে আরো অনেক বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে জানিয়ে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইভ্যালির দেনা ৪০৩ কোটি টাকা বলা হলেও রাসেল ও শামীমা নাসরিন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, গ্রাহকদের কাছে তাঁদের মোট দায় এক হাজার কোটি টাকার বেশি।



সাতদিনের সেরা