kalerkantho

মঙ্গলবার । ৩ কার্তিক ১৪২৮। ১৯ অক্টোবর ২০২১। ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

১৩ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ওপর রুল জারি, কমিটি গঠনের নির্দেশ

হবিগঞ্জের সুতাং নদী ও শৈলজুড়া খাল রক্ষা

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



১৩ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ওপর রুল জারি, কমিটি গঠনের নির্দেশ

হবিগঞ্জের সদর, শায়েস্তাগঞ্জ, লাখাই ও চুনারুঘাট উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত সুতাং নদী ও শৈলজুড়া খালকে দূষণ থেকে রক্ষায় ১৩টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ওপর রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। গতকাল রবিবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চ বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) করা এক জনস্বার্থমূলক মামলার প্রাথমিক শুনানি শেষে এ রুল জারি করেন। বেলার আইনজীবী সাঈদ আহমেদ কবীর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

সুতাং নদী ও নদীর সঙ্গে সংযুক্ত শৈলজুড়া খালকে রক্ষায় হবিগঞ্জের ১৩টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতাকে কেন সংবিধানবিরোধী, বেআইনি, আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত এবং জনস্বার্থবিরোধী ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে বিবাদীদের ওপর রুলটি জারি করেন আদালত। একই সঙ্গে সুতাং নদীকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা ও পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫, পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা ১৯৯৭ ও অন্যান্য প্রযোজ্য আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে ১৩টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অবৈধ ও অননুমোদিত কার্যক্রমের ফলে সংঘটিত পানি, বায়ু, মাটি ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে। এ ছাড়া ১৩টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান (বিবাদী নং ১০-২২) পরিচালিত ইন্ডাস্ট্রিতে ইটিপি এবং অন্যান্য দূষণনিরোধক যন্ত্র নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিচালনা নিশ্চিত করতে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫, পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা ১৯৯৭ ও পরিবেশগত ছাড়পত্রের পরিপূর্ণ অনুসরণ না করা পর্যন্ত বিবাদীদের (বিবাদী নং ১০-২২) পরিচালিত ইন্ডাস্ট্রিগুলোর পরিবেশগত ছাড়পত্র স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে। আর দুই মাস অন্তর সুতাং নদী ও নদীর সঙ্গে সংযুক্ত শৈলজুড়া খালের পানি পরীক্ষা ও তিন মাস অন্তর আদালতে প্রতিবেদন দিতে আদালত দুই মাসের মধ্যে নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় পরিচালককে একটি স্বাধীন কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন।

৮২ কিলোমিটার দীর্ঘ সুতাং নদী একসময় এলাকাবাসীর যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বোরো মৌসুমে নদীটির পানি কৃষিকাজে ব্যবহার করা হয়। সনাতন ধর্মের লোকজন একসময় এ নদীতে পুণ্যস্নান করত। দেশের অন্যান্য নদীর মতো এ নদীর অবস্থাও আজ সংকটাপন্ন। সম্প্রতি কালের কণ্ঠসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে সুতাং নদী দূষণের সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী শিল্প-কারখানার বর্জ্য শৈলজুড়া খালের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়ে সুতাং নদী দূষিত করছে। দূষণে নদীটির পানি কালো রং ধারণ করেছে, পানি থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ, কষ্টকর হয়ে পড়েছে নদীর পার দিয়ে চলাচল। দূষণের কারণে মৎস্যশূন্য হয়ে পড়েছে নদীটি। অন্যদিকে পানি দূষিত হওয়ায় তা নদীর অববাহিকায় বিস্তীর্ণ হাওরের বোরো ফসলের সেচকাজে ব্যবহার করতে পারছেন না কৃষকরা। পানি ব্যবহারকারীরা পড়েছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে, আক্রান্ত হচ্ছে চর্মরোগসহ নানা অসুখে, মারা যাচ্ছে হাঁস-মুরগি ও গবাদি পশু। এমতাবস্থায় দূষণ থেকে সুতাং নদীকে রক্ষা করতে বেলা জনস্বার্থমূলক মামলাটি করে।



সাতদিনের সেরা