kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৯ ডিসেম্বর ২০২১। ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

মেহেরপুরে স্কুলে অর্ধেক উপস্থিতি

ইয়াদুল মোমিন, মেহেরপুর   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার এক সপ্তাহ পেরিয়েছে। কিন্তু এখনো স্কুলমুখী হয়নি অর্ধেক শিক্ষার্থী। তাদের স্কুলমুখী করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো শিক্ষকরা হোম ওয়ার্ক শুরু করেননি। শিক্ষকদের মধ্যে আতঙ্কও রয়েছে, আবার হয়তো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে।

গতকাল রবিবার মেহেরপুর সদর, গাংনী ও মুজিবনগর উপজেলার প্রায় ১০টি বিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান যাচাই করে এ চিত্র দেখা গেছে।

মেহেরপুর সদর উপজেলার কুলবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী রয়েছে ৯০ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৫৮ জন এবং ছাত্রী ৩২ জন। কিন্তু গতকাল রবিবার বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ২৪ জন ছাত্র এবং ১৩ জন ছাত্রী উপস্থিত ছিল। দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রয়েছে ৮১ জন। তাদের মধ্যে ছাত্র ৪৮ জন এবং ছাত্রী ৩৩ জন। কিন্তু উপস্থিত ছিল ১৪ জন ছাত্র এবং ১৯ ছাত্রী। উপস্থিতির হার ৪০ শতাংশ।

গাংনী উপজেলার ধলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রয়েছে ৭৪ জন। তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিল ৩২ জন। এসএসসি পরীক্ষার্থী ৪৭ জনের মধ্যে উপস্থিত ছিল ৪১ জন।

সদর উপজেলার বর্শিবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৩২ জন এসএসসি পরীক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ১৫-১৬ জন এবং দশম শ্রেণির ৫২ জনের বিপরীতে উপস্থিত ২২-২৩ জন বলে জানান একজন সহকারী শিক্ষক।

মুজিবনগর আম্রকানন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী রয়েছে ১১৫ জন। সেখানে উপস্থিত হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ জন। তাদের মধ্যে অনুপস্থিতির হার ছাত্রীদের বেশি।

গাংনীর রাইপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান জানান, অনেক মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ার কারণে এখন উপস্থিতি কম। কয়েক দিনের মধ্যে শিক্ষকরা হোমওয়ার্ক শুরু করবেন।

গাংনীর হিজলবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমার বিদ্যালয়ে আগের তুলনায় উপস্থিতি ঠিক আছে। তার পরও দীর্ঘ ছুটির পর স্কুল খোলা হয়েছে। অনেকেরই বিয়ে হয়ে গেছে। যার ফলে উপস্থিতিটা একটু কম। তবুও আমার বিদ্যালয়ে উপস্থিতি সন্তুষ্টজনক।’

বেশির ভাগ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা স্বীকার করেন, করোনার কারণে বন্ধ থাকায় মেয়েদের বাল্যবিয়ে ও ছেলেরা আয়মূলক বিভিন্ন কাজে জড়িয়ে পড়েছে। যে কারণে তারা বিদ্যালয়মুখী হতে পারছে না। ৫০ শতাংশের ওপরে তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

গাংনী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মীর হাবিবুল বাসার বলেন, যারা অনুপস্থিত রয়েছে তাদের মধ্যে নারী শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বেশি। দীর্ঘদিন বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় অনেক শিক্ষার্থী তাদের পরিবারের হাল ধরতে কর্ম বেছে নিয়েছে। অনেকে টাকার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে কাজ করছে। তারা বিদ্যালয়মুখী হচ্ছে না। অনেক মেয়েকে অভিভাবকরা বিয়ে দিয়েছেন। তার পরও শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নিতে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে দিন দিন উপস্থিতির সংখ্যা বাড়ছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

মেহেরপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মাহফুজুল হোসেন বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিদ্যালয়ে আসছে কি না, তাদের জ্বরসহ বিভিন্ন সমস্যা হচ্ছে কি না সব বিষয় পর্যবেক্ষণ করে প্রতিদিন মাউশিতে প্রতিবেদন পাঠানো হচ্ছে। একই সঙ্গে উপস্থিতি যাতে বাড়ে, সে বিষয়গুলোর ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।’



সাতদিনের সেরা