kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৯ ডিসেম্বর ২০২১। ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

দেশেই তৈরি করতে হবে অ্যান্টিভেনম

আজ বিশ্ব সর্পদংশন সচেতনতা দিবস

তৌফিক মারুফ   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দেশে প্রতিবছর সাপের কামড়ের শিকার হয় ছয় লাখের বেশি মানুষ এবং মারা যায় ছয় হাজারের বেশি। যারা বেঁচে থাকে তাদের বেশির ভাগেরই বিভিন্নভাবে বিকলাঙ্গ হতে হয়। কারো হাত-পা কেটে ফেলতে হয়, কারো শরীরে পচন ধরে, কেউ বা ভয়ের কারণে দীর্ঘ সময় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকে। এ অবস্থার মধ্যেই আজ রবিবার উদযাপন করা হচ্ছে বিশ্ব সর্পদংশন সচেতনতা দিবস। দিবসটি উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারিভাবে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের আলোচনাসভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি রয়েছে।

সরকারের জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ১৯৮৫ সালে দেশে সাপে কাটা রোগীর প্রাণ বাঁচাতে অ্যান্টিভেনম তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিল, কিন্তু ওই প্রকল্প নানা কারণে আলোর মুখ দেখেনি গত ৩৬ বছরে। এখন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে অ্যান্টিভেনম এনে দেশে বোতলজাত করে তা সরবরাহ করছে সরকারকে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে সাপে কামড়ায় ঠিক সেই জাতের সাপের বিষ থেকেই তৈরি অ্যান্টিভেনম দিতে হয় রোগীকে। তা না হলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই লাভ হয় না। তাই সাপে কাটা মানুষকে বাঁচাতে হলে নিজ দেশের সাপ থেকেই অ্যান্টিভেনম তৈরি করা জরুরি, যেটা কার্যকর উদ্যোগের কারণে হচ্ছে না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এম এ ফয়েজ কালের কণ্ঠকে বলেন, বাংলাদেশ সরকার জাতিসংঘের এসডিজির আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে সাপে কাটা রোগীর মৃত্যু ও বিকলাঙ্গতা ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনার অঙ্গীকার করেছে। তবে দেশে ২০১০ সালের পরে এ বিষয়ে নেই কোনো নতুন তথ্য-উপাত্ত ও জরিপ। এই বিশেষজ্ঞ জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে ১৯৮৫ সালে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে দেশেই অ্যান্টিভেনম তৈরির প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছিল, কিন্তু পরে তা বিভিন্ন সমস্যার কারণে বাতিল হয়ে যায়; আর শুরু করা যায়নি। সরকারি ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাপের কামড়ের ওষুধ বিষয়ে কিছু গবেষণা চলছে। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আছে সাপে কাটা রোগীর জন্য আলাদা ইউনিট ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োমেডিক্যাল টেকনোলজির অধ্যাপক মো. আবু রেজা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা সাপের বিষ নিয়ে গবেষণা করছি। এখন রাসেলস ভাইপার (উত্তরাঞ্চলে বেশি), গোখরা, কোবরা প্রজাতির সাপের কামড়ে দেশে বেশি মানুষের মৃত্যু হচ্ছে বা ক্ষতি হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে এসব সাপের বিষ থেকেই অ্যান্টিভেনম তৈরি করা দরকার।’

ওই বিশেষজ্ঞ আরো বলেন, ‘আমরা চট্টগ্রামে সরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এবং জার্মানিসহ আরো কয়েকটি দেশের সম্মিলিত কার্যক্রমের আওতায় একটি ভেনম রিসার্চ সেন্টারের মাধ্যমে কাজ করছি। চেষ্টা করছি সাপ ধরে লালন-পালনের মাধ্যমে সেগুলোর বিষ সংগ্রহ করে কোস্টারিকায় পাঠিয়ে সেখান থেকে অ্যান্টিভেনম তৈরি করে আনার জন্য। দেশেই অ্যান্টিভেনম তৈরি করতে গেলে অনেক ঘোড়া ও সাপ লাগে, কিন্তু আমরা এত ঘোড়া পাচ্ছি না, বাজেটও নেই আমাদের।’

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমীন বলেন, ‘চট্টগ্রামে ভেনম রিসার্চ সেন্টারটি দেশে অ্যান্টিভেনম তৈরির নতুন এক দুয়ার খুলে দেবে বলে আশা করছি।’ তিনি বলেন, ‘এখন প্রতিটি উপজেলায়ই সাপে কাটা রোগীর জন্য অ্যান্টিভেনম রাখতে বলা হয়েছে প্রত্যেক সিভিল সার্জনকে। ভারত থেকে বাল্ক আকারে অ্যান্টিভেনম এনে দেশে ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস্ লিমিটেড তা বোতলজাত করে আমাদের সরবরাহ করে থাকে, যাতে আর্থিকভাবে কিছুটা সাশ্রয় হয়।’

ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস্ লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা ২০১৫ সাল থেকে অ্যান্টিভেনম উৎপাদন করে সরকারকে দেওয়ার পাশাপাশি প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিকেও দিচ্ছি, যাতে মানুষ প্রয়োজন অনুযায়ী হাতের কাছেই এটা পেতে পারে।’



সাতদিনের সেরা