kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৯ ডিসেম্বর ২০২১। ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

ফগিং সবচেয়ে ব্যয়বহুল কিন্তু অকার্যকর উপায়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি মশা নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয়ভাবে কর্মসূচি নিতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক অঙ্গীকার থাকতে হবে। এই কাজটি করতে হবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়কে। পাশাপাশি মশা মারতে ব্যবহৃত ওষুধের আমদানি শুল্ক কমাতে হবে। না হলে ব্যবসায়ীরা এই ওষুধ আমদানিতে আগ্রহী হবেন না। গতকাল শনিবার ‘নগরীর মশা নিবারণে সমস্যা : টেকসই সমাধানের একটি রূপরেখা’ শীর্ষক সেমিনারে এই মতামত দিয়েছেন কীটতত্ত্ববিদ, চিকিৎসক ও নাগরিক সমাজের নেতারা।

সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত সেমিনারে পূর্ণাঙ্গ মশা নিধনে ফগিংকে সবচেয়ে ব্যয়বহুল কিন্তু অকার্যকর উপায় হিসেবে আখ্যা দিয়ে বক্তারা বলেন, এখনই রাজধানীর ড্রেনগুলো পরিষ্কার করতে হবে এবং কিউলেক্সের হটস্পটগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। তাহলে রাজধানীবাসী এ বছর কিউলেক্সে আক্রান্ত হবে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এডিস নিধনে প্রতি সপ্তাহে মশার ওষুধ ছিটানোরও পরামর্শ দেন তাঁরা।

সেমিনারে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘ডেঙ্গু অনেক পুরনো রোগ। আজও আমরা সেটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি নাই। এটা নিয়ন্ত্রণের জন্য যাঁরা ফ্ল্যাট বাসায় থাকেন বা কুঁড়েঘরেই থাকেন, সবারই উচিত নিজের ঘরের আশপাশ পরিষ্কার করা। সচেতন না হলে এটার প্রতিকার হবে না।’ কিছু ব্যক্তি ওষুধের দাম বাড়িয়ে সংকট সৃষ্টি করেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ওষুধ খাতে যেন দুর্নীতি না হয় সেটা খেয়াল রাখতে হবে। ব্যবসা যখন জঙ্গিবাদে পরিণত হয়, তখনই সমস্যার সৃষ্টি হয়। আজকাল সবাই সব জায়গায় চুরি করছেন। আমি বলব চুরি করেন, তবে একটু কম করেন।’

সেমিনারে কীটতত্ত্ববিদ এবং রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা তৌহিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, মশক নিধনে জরিমানার আইন থাকা ভালো; কিন্তু সেটা যেন জনগণের ভীতির কারণ না হয়। বর্তমানে শুধু জরিমানায় সীমাবদ্ধ থাকছে করপোরেশনের মশক নিয়ন্ত্রণের কাজ। কিন্তু এর পাশাপাশি জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। বর্ষা কমে গেলে নিজে থেকেই মশা কমে যাবে, তখন যদি সিটি করপোরেশন ক্রেডিট নেয় যে তাদের প্রচেষ্টায় মশা কমেছে, তাহলে তো হলো না। ঢাকা শহরে মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার প্রধান কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এখানে ডেঙ্গু আক্রান্তদের নিয়ে সিটি করপোরেশনের নিজেদের কোনো জরিপ নেই। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরিপ দিয়ে তারা কাজ করে। এ সময় তিনি সমন্বয়হীন কর্মকাণ্ড, দিকনির্দেশনাহীন কার্যপদ্ধতি, মশা ও সংক্রামক কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় দপ্তর প্রতিষ্ঠার অভাব এবং প্রশিক্ষিত জনবলের অভাবকেও মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

সেমিনারে সিজিএসের চেয়ারম্যান এবং কীটতত্ত্ববিদ ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ডা. মো. আব্দুল মজিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. মো. নিজামুল হক ভূইয়া, স্বাধীনতা চিকিৎসা পরিষদের মহাসচিব ডা. এম এ আজিজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।



সাতদিনের সেরা