kalerkantho

শনিবার । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৭ নভেম্বর ২০২১। ২১ রবিউস সানি ১৪৪৩

চাঁদার ভাগ না দেওয়ায় খুন হন আওয়ামী লীগ নেতা ফরহাদ

রেজোয়ান বিশ্বাস   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চাঁদার ভাগ-বাটোয়ারা বন্ধ করে দেওয়ায় খুন হন রাজধানীর বাড্ডা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি ফরহাদ আলী। ভারতে আত্মগোপন করে থাকা অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী নরোত্তম সাহা ওরফে আশিকসহ ৯ জন এই খুনে জড়িত। তাঁদের নামে চার্জশিট দিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

তবে যাঁর পরিকল্পনা ও নির্দেশে খুন হন ফরহাদ, যুক্তরাষ্ট্রে আত্মগোপন করে থাকা বাড্ডা এলাকার সেই শীর্ষ সন্ত্রাসী মেহেদী হাসানের নাম চার্জশিটে নেই। এর কারণ হিসেবে ডিবি সূত্রে জানা গেছে, মেহেদীর ঠিকানা না পাওয়ায় তাঁর নাম চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে তাঁর ঠিকানা পাওয়া গেলে এ ব্যাপারে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করা যাবে।

চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট আদালতে দাখিল করেন ডিবির পরিদর্শক আব্দুস সোবাহান। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মুর্শিদা বেগমের দায়ের করা মামলাটি প্রথমে তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ। পরে তদন্তের দায়িত্ব পায় ডিবি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তদন্তকালে নুর ইসলাম ওরফে সানি, মাহাবুবুল আলম ওরফে অমিত ও রমজান আলী পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। পরে জহিরুল হক সুজন, জাকির হোসেন, আরিফ মিয়া, বদরুল হুদা সৌরভ, বিল্লাল হোসেন রনি, সুজন, মারুফুল ইসলাম পুলক ও নরোত্তম সাহা ওরফে আশিকের নামে চার্জশিট দেওয়া হয়। আর আওয়ামী লীগ নেতা দুলাল, বিপ্লব, আব্দুর রহিম ও কামরুলকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

যেভাবে ফরহাদকে হত্যা : চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়, উত্তর বাড্ডার অটোস্ট্যান্ড ও ফুটপাত নিয়ন্ত্রণ করতেন ফরহাদ আলী। এই এলাকার চাঁদাবাজির টাকার ভাগ পেতেন শীর্ষ সন্ত্রাসী মেহেদীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী রমজান ও সুজন। আমেরিকায় অবস্থান করা মেহেদীর কাছে রমজান ও সুজন চাঁদাবাজির একটি ভাগ পাঠাতেন। কিন্তু হঠাৎ ফরহাদ চাঁদার ভাগ দেওয়া বন্ধ করে দেন। এতে ক্ষিপ্ত হন মেহেদী। তিনি ফরহাদকে সরিয়ে ফেলতে আমেরিকা থেকে মোবাইল ফোনে রমজান ও পুলককে নির্দেশ দেন। ২০১৮ সালের ১৫ জুন উত্তর বাড্ডার সুবাস্তু নজরভ্যালি টাওয়ারের সামনে সন্ত্রাসী রমজান, সুজন, জাকির, আরিফ-১, আরিফ-২, পুলকসহ আরো কয়েকজন একটি চায়ের দোকানে খুনের পরিকল্পনা করেন। এর আগের দিন ১৪ জুন দুপুরে হাতিরঝিলের বোটঘাটে তাঁরা ভাড়াটিয়া কিলার গ্রুপের সদস্য অমিত, আবুল কালাম আজাদ ওরফে অনির, নুর ইসলাম ও সৌরভের সঙ্গে দেখা করেন। ওই দিন বিকেলে রমজান কিলার গ্রুপের সদস্যদের ফরহাদের অফিস, বাসা ও রাস্তাঘাট চিনিয়ে দেন।

চার্জশিট অনুযায়ী, ঘটনার দিন ২০১৮ সালের ১৫ জুন শুক্রবার সকালে আরিফ-১ ও আরিফ-২ বাদে সবাই সুবাস্তু টাওয়ারের সামনে মিলিত হন। এরপর তাঁরা আরিফ-২-এর বাসায় যান। সেখান সকালের নাশতা করেন। এরপর বাসা থেকে বের হয়ে ফরহাদের অবস্থান নিশ্চিত হন। সে অনুযায়ী আলীর মোড়ে অবস্থিত বায়তুস সালাত জামে মসজিদের সামনে অবস্থান নেন তাঁরা। জুমার নামাজ শেষে ফরহাদ অন্য মুসল্লিদের সঙ্গে বের হয়ে আসছিলেন। রমজান, পুলকসহ অন্যরা ভাড়াটিয়া কিলার গ্রুপের সদস্য নুর ইসলাম, অনির, অমিত ও সৌরভকে ইশারা দিয়ে ফরহাদকে দেখিয়ে দেন। এই চারজনের কাছে চারটি পিস্তল ছিল। ফরহাদ তাঁর বন্ধু গোলাম মোস্তফার সঙ্গে রাস্তায় দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। এ সময় নুর ইসলাম পেছন থেকে একটি গুলি করেন। সেটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে গোলাম মোস্তফার পেটের বাম পাশে লাগে। এরপর ফরহাদের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করেন নুর ইসলাম। ফরহাদ লুটিয়ে পড়লে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে আরেকটি গুলি করেন তিনি। এ সময় মুসল্লিরা এগিয়ে এলে তাঁরা পিস্তল উঁচিয়ে ভয় দেখিয়ে পালিয়ে যান। একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় নুর ইসলাম ও অনির পালানোর সময় গুলশান-১ নম্বর গোল চত্বরে পুলিশ চেকপোস্টে তল্লাশির মুখে পড়েন। নুর ইসলাম তখন পুলিশকে লক্ষ্য করে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়েন।



সাতদিনের সেরা