kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৯ ডিসেম্বর ২০২১। ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

বাঘাইছড়িতে জনসংহতির নেতাকে গুলি করে হত্যা

রাঙামাটি প্রতিনিধি   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় সুরেশ চন্দ্র চাকমা জীবেশ নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল শুক্রবার ভোররাতে উপজেলার দুর্গম বঙ্গলতলি ইউনিয়নের বি-ব্লক এলাকায় এই ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে সকালে হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কোনো লাশ পায়নি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। ১০ ঘণ্টা পর ঘটনাস্থল থেকে এক কিলোমিটার দূরে একটি পাহাড়ি ঢালে পরিত্যক্ত অবস্থায় সুরেশ চন্দ্রের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

স্থানীয় একাধিক সূত্র বলেছে, সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন সুরেশ চন্দ্র চাকমা জীবেশ। তিনি মূল জনসংহতি সমিতির (সন্তু লারমা) অনেক পুরনো কর্মী এবং সাবেক গেরিলা সংগঠন শান্তি বাহিনীর সদস্য। তিনি বিভিন্ন সময়ে জনসংহতির সাংগঠনিক নানা দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ উপজেলা কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও সংগঠনটির বিচার কমিটির উপজেলা প্রধানের দায়িত্ব পালন করছিলেন। সূত্রগুলোর দাবি, সুরেশ তাঁর নিজের বাড়িতে নয়, এক প্রতিবেশীর বাড়িতে রাতযাপনের সময় গুলিতে নিহত হন। প্রাণনাশের ভয়ে তিনি নিয়মিতই নিজ বাড়ির বাইরে রাত্রিযাপন করতেন।

তবে এই বিষয়ে মুখ খোলেনি পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (সন্তু লারমা)। সংগঠনটির দায়িত্বশীল কোনো নেতা ফোনও ধরেননি। অন্যান্য ঘটনায় সংগঠনটির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক বিবৃতি পাঠানো হলেও গতকাল সন্ধ্যায় এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত কোনো বিবৃতি পাঠায়নি তারা।

অবশ্য সংগঠনটির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা) কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-তথ্য ও প্রচার সম্পাদক জুপিটার চাকমা বলেন, ‘তাদের নিজেদের (সন্তু লারমা নেতত্বাধীন সংগঠন) মধ্যকার অভ্যন্তরীণ বিবাদে এই ঘটনা ঘটতে পারে বলে জেনেছি। ওই এলাকাটি সম্পূর্ণই জনসংহতির (সন্তু লারমা) ঘনিষ্ঠ সংগঠন ইউপিডিএফের নিয়ন্ত্রণাধীন। সেখানে আমাদের পক্ষে প্রবেশ করাও কঠিন ও কষ্টসাধ্য। তারা নিজেরাই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে আমাদের ওপর দোষ চাপাতে চাইছে। কারণ তারা জানে, যেহেতু তাদের সঙ্গে আমাদের দ্বন্দ্ব সেহেতু সবাই বিশ্বাস করবে।’

বাঘাইছড়ি থানার ওসি আনোয়ার হোসেন খান ঘটনার ১০ ঘণ্টা পর লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে তিনি বলেছিলেন, ‘হত্যাকাণ্ড হয়েছে, সেটি পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখে নিশ্চিতই বলা যায়। তবে লাশ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা চেষ্টা করছি লাশ উদ্ধারের। স্থানীয়রাও এই ব্যাপারে সহযোগিতা করছে না।’

এর আগে বাঘাইছড়িতে সর্বশেষ উপজেলা নির্বাচনে দায়িত্ব পালন শেষে ফেরার পথে সাতজন সরকারি কর্মী হত্যার শিকার হয়েছিলেন। চলতি বছরই উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে ঢুকে একজন ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।



সাতদিনের সেরা