kalerkantho

সোমবার । ৯ কার্তিক ১৪২৮। ২৫ অক্টোবর ২০২১। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

দাম বেঁধে দেওয়ার প্রভাব নেই বাজারে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তেল ও চিনির সর্বোচ্চ খুচরা দাম ঠিক করেছিলেন মিল মালিকরাই। তাতে সায় ছিল সরকারেরও। দুই পক্ষ মিলে ঠিক করা সেই দামেও বাজারে মিলছে না তেল ও চিনি। খোলা চিনির কেজি এখনো ৮০ টাকা করে। আর প্যাকেটজাত চিনি কিনতে গুনতে হচ্ছে আরো পাঁচ টাকা। সবচেয় বেশি ভুগছে ব্রাউন সুগার বা লাল চিনির ক্রেতারা। বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে বাজারে প্রতি কেজি লাল চিনি কিনতে হচ্ছে ১৫ টাকা বেশি দিয়ে। ফলে লাল চিনির দাম এখন ১০০ টাকার কাছাকাছি।

একই অবস্থা সয়াবিন ও পাম ওয়েলের বাজারেও। সবজির সরবরাহ বাড়লেও দাম নামছে না এখনো। বিক্রেতারা বলছেন, আরো সপ্তাহ দুয়েক সময় লাগবে সবজির দাম কমতে। ডিমের দাম ডজনে আরো পাঁচ টাকা বেড়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরায় খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি, কোথাও তা দুই টাকা কমে মিলছে। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত এক কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৮৬ টাকা পর্যন্ত। আর লাল চিনির প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা কেজি। গতকাল রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ফটকে অবস্থিত সায়েদ আলী সুপারমার্কেটে লাল চিনি কিনতে আসা আব্দুল আজিজ নামের সেই ব্যক্তি বলেন, ‘পত্রিকায় দেখেছি, চিনির দাম সর্বোচ্চ ৭৫ টাকা বেঁধে দিয়েছে সরকার, কিন্তু বাস্তবে ৯০ টাকায় খেতে হচ্ছে।’

গত ৯ সেপ্টেম্বর ট্যারিফ কমিশন ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে চিনির দাম বাড়ায় বাংলাদেশ সুগার রিফাইনার্স অ্যাসোসিয়েশন। সেদিন পরিশোধিত খোলা চিনির সর্বোচ্চ খুচরা দাম ৭৪ টাকা ও প্যাকেটজাত সর্বোচ্চ ৭৫ টাকা নির্ধারণ করে তারা, কিন্তু এক সপ্তাহ পার হলেও চিনির দাম কমেনি। একই অবস্থা ভোজ্য তেলের বাজারেও। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে গত ৫ সেপ্টেম্বর সয়াবিন ও পাম তেলের দাম বাড়ায় বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। নতুন দাম অনুযায়ী, খোলা সয়াবিন প্রতি লিটার বিক্রি হবে ১২৯ টাকায়। বোতলজাতের দাম হবে ১৫৩ টাকা। পাঁচ লিটারের দাম ঠিক করা হয় ৭২৮ টাকা। পাম ওয়েল সুপার এক লিটার ১১৬ টাকা, কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পাঁচ লিটারের বোতলের মোড়কে ৭৬০ টাকা পর্যন্ত মূল্য লেখা রয়েছে।

বিক্রেতারা বলছেন, কম্পানি বা পাইকারি বাজার বেশি দামে কেনা হচ্ছে বলে বিক্রিও বেশি দামে করতে হচ্ছে। বেঁধে দেওয়া দামে বিক্রি করতে হলে কেনার খরচও কমে আসতে হবে। তেল, চিনি ছাড়া চাল, ডাল ও অন্যান্য মুদি পণ্যের দাম আগের মতোই বেশি। ডিমের দাম ডজনে আরো পাঁচ টাকা বেড়ে ১২০ ছুঁয়েছে। মুরগি ও গরুর মাংসের দাম আগের মতোই আছে।

চলতি সপ্তাহে বাজারে সবজির সরবরাহ আগের তুলনায় বেড়েছে। আমদানি করা টমেটোর সঙ্গে নতুন করে এসেছে দেশি টমেটো, শিম, কাঁচা মরিচসহ কয়েক ধরনের সবজি। এ ছাড়া লাউ, বরবটি, কাঁকরোল, পটোলসহ প্রায় সব ধরনের সবজিতে বাজার ভরপুর, কিন্তু তবুও দাম নামছে না। বেশির ভাগ সবজির দাম এখনো ৬০ টাকার ওপরে।

মালিবাগ বাজারের সবজি বিক্রেতা আনোয়ার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখনো বর্ষার রেশ কাটেনি। ব্যাপারিরা একেক সবজি আনেন একেক এলাক থেকে। এক মোকামে সব সবজি পাওয়া যায় না। ফলে খরচও বেশি পড়ে।’

তবে পেঁয়াজের দামে স্বস্তি আসছে। চলতি সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি পাঁচ টাকা কমে ৪০ টাকা পর্যন্ত নেমেছে। প্রতি কেজি আমদানি করা ও দেশি পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। চীনা আদা ও রসুনের সরবরাহ বেড়েছে। তবে প্রতি কেজির দাম এখনো ১০০ টাকার ওপরে।



সাতদিনের সেরা