kalerkantho

সোমবার । ৯ কার্তিক ১৪২৮। ২৫ অক্টোবর ২০২১। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জামালপুরের তিন ছাত্রী ঢাকায় উদ্ধার

‘গ্রেপ্তার শিক্ষকরা জড়িত নন’

জামালপুর প্রতিনিধি   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইসলামপুরে আবাসিক একটি কওমি মাদরাসা থেকে তিন শিশু শিক্ষার্থী নিখোঁজের পাঁচ দিন পর গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মাণ্ডা বস্তি থেকে উদ্ধার হয়েছে। জামালপুরের পুলিশ সুপার নাছির উদ্দিন আহমেদ গতকাল শুক্রবার নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছেন।

ইসলামপুর উপজেলার দারুত তাকওয়া মহিলা কওমি মাদরাসার তিন শিশু শিক্ষার্থী গত রবিবার ভোরে মাদরাসা থেকে নিখোঁজ হয়। তারা ওই মাদরাসার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী। তাদের বয়স ৯ থেকে ১১ বছরের মধ্যে। এ ঘটনায় নিখোঁজ শিশুদের একজনের বাবা বাদী হয়ে গত বুধবার মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে ইসলামপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার প্রধান আসামি মাদরাসাটির মুহতামিম মো. আসাদুজ্জামানসহ চারজন শিক্ষক জেলা কারাগারে আটক রয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, ওই তিন শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার পর জঙ্গিবাদসংশ্লিষ্টতাকে বিবেচনায় নিয়ে উদ্ধার অভিযান চালায় পুলিশ। তবে ওই তিন শিশুর বক্তব্যে তাদের নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে মাদরাসাটির গ্রেপ্তার হওয়া চার শিক্ষক জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

নাছির উদ্দিন আহমেদ জানান, তিন ছাত্রী নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ পেয়ে ইসলামপুর থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। এক পর্যায়ে কল্যাণ মার্কেটের সিসিটিভি ফুটেজে ওই তিন ছাত্রীকে ইসলামপুর রেলস্টেশনের দিকে যেতে দেখা যায়। এর সূত্র ধরে পুলিশ গত বৃহস্পতিবার কমলাপুর রেলস্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে। তাতে ওই তিন ছাত্রীকে স্টেশন থেকে বের হতে দেখা যায়।

কমলাপুরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে রাজা মিয়া নামে কিশোর বয়সের এক রিকশাচালক ওই তিন ছাত্রী সম্পর্কে পুলিশকে তথ্য দেয়। রাজা মিয়া ওই তিন ছাত্রীকে স্টেশন এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখে তাদের কাছে জানতে চায় তারা কোথায় যাবে। তখন ওই তিন ছাত্রী তাকে জানায়, তাদের মা-বাবা বেঁচে নেই। তারা ঢাকায় কাজ করবে বলে বাড়ি থেকে না বলে পালিয়েছে। রাজা পরে তাদের রাজধানীর মুগদার মাণ্ডা বস্তিতে ১৫০০ টাকায় একটি ঘর ভাড়া করে দেয়। দুই শিশুকে স্থানীয় এক পোশাক কারখানায় কাজও নিয়ে দেয় সে। বৃহস্পতিবার রাতে মাণ্ডা বস্তি থেকে ওই তিন ছাত্রীকে উদ্ধার করে গতকাল সকালে জামালপুরে নিয়ে আসা হয়।

পুলিশ সুপার আরো জানান, ওই মাদরাসার মুহতামিম মো. আসাদুজ্জামানের স্ত্রীর এক হাজার টাকা হারিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে মাদরাসার শিক্ষক ও অন্য ছাত্রীরা ওই তিন শিশু শিক্ষার্থীকে সন্দেহ করলে ওরা নিজেদের অসহায় মনে করে রবিবার ভোরে মাদরাসার জানালা দিয়ে পালিয়েছিল।



সাতদিনের সেরা