kalerkantho

রবিবার । ৮ কার্তিক ১৪২৮। ২৪ অক্টোবর ২০২১। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

বাবা ডাকার রইল না আর কেউ

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বাবা ডাকার রইল না আর কেউ

রিচির জন্মদিনে দুই বোনের সেলফি। এখন বেদনার স্মৃতি

দুই মেয়েকে অসম্ভব ভালোবাসতেন বাবা সোলায়মান হোসেন (৫৬)। আর কোনো সন্তান না থাকায় মেয়ে রিচি আক্তার (১৫) ও রিয়া আক্তারকে (১১) ঘিরেই ছিল তাঁর সব স্বপ্ন। ইচ্ছা ছিল বড় মেয়ে হবে চিকিৎসক আর ছোটটা আইনজীবী। স্বপ্ন পূরণে মেয়েদের স্কুলে ভর্তি করেছিলেন ব্যবসায়ী সোলায়মান। করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর গত রবিবার স্কুল খোলে। প্রথম দিন দুই মেয়েকে হাত ধরে স্কুলে নিয়ে যান তিনি। পরদিন খালের পানিতে ডুবে প্রাণ গেছে সোলায়মানের দুই মেয়েরই। একই ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে আরো দুই ছাত্রীর।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে গাজীপুর সদর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের পাইনশাইল গ্রামের সোলায়মানের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে মাতম। দুই সন্তানের শোকে বাকরুদ্ধ মা আকলিমা আক্তার। বিলাপ করছিলেন আর যাকে পাচ্ছিলেন তাকেই জড়িয়ে ধরছিলেন সোলায়মান। বলছিলেন, ‘বাবা ডাকার আমার আর কেউ রইল না।’ স্বজনরা তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছিল। কিছুক্ষণ পর পর মূর্ছা যাচ্ছিলেন তিনি।

সোলায়মানের প্রতিবেশী লাবিব উদ্দিন জানান, গ্রামের মাঠে নতুন পানি এসেছে। সোমবার দুপুরে সেই পানিতে নেমে ঘুরছিল সোলায়মানের দুই মেয়ে রিচি ও রিয়া এবং মায়া ও আইরিন নামের দুই ছাত্রী। ঘুরতে ঘুরতে পানিতে মাঠের সঙ্গে একাকার হয়ে যাওয়া খালে হঠাৎই তাদের পা পড়ে গেলে ডুবে যায় তারা। আর খালের স্রোত টেনে নিয়ে যায় তাদের। সোমবারই রিচি, মায়া ও আইরিনের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজ ছিল রিয়া। গতকাল দুপুরে উদ্ধার হয় রিয়ার লাশও। তিনি বলেন, ‘ঘটনার পর গ্রামে মাতম সৃষ্টি হয়। আমরা আশায় ছিলাম রিয়াকে জীবিত পাওয়ার। সব আশা ভঙ্গ করে রিয়ার লাশ পাওয়ার সংবাদে আরেক দফা কান্নার রোল ওঠে গ্রামে। সোলায়মান ও তার স্ত্রীকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে কাঁদছেন অনেকেই।’

মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল হক মুসল্লি বলেন, ‘ইট-বালু সরবরাহের ব্যবসা করেন সোলায়মান। তাঁর দুই মেয়েই ছিল খুব মেধাবী। মেয়েদের ঘিরেই ছিল তাঁর দিন-রাত। একসঙ্গে চার ছাত্রীকে হারিয়ে আমরা গ্রামের মানুষ শোকাহত। তবে সোলায়মানের আর কোনো সন্তান রইল না।’



সাতদিনের সেরা