kalerkantho

রবিবার । ৮ কার্তিক ১৪২৮। ২৪ অক্টোবর ২০২১। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

অবাধে কথা বলার অধিকার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে : টিআইবি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



স্বাধীনতার ৫০ বছরে এসে গণতান্ত্রিক যাত্রায় বাংলাদেশের অবস্থান মূল্যায়নে একেবারেই স্বস্তিকর কোনো পর্যায়ে যাওয়া যায়নি, যা হতাশার। এই ঘাটতি রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে শুরু করে স্বচ্ছ নির্বাচনী ব্যবস্থা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, নাগরিকের আইনি ও সামাজিক অধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রে সর্বজনগ্রাহ্য জাতীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং শুদ্ধাচার চর্চা সব কিছুর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তাই বাস্তবতাকে অস্বীকার না করে, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন টেকসই করতে এবং দেশের শাসনব্যবস্থাসহ সব রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সুস্থ গণতান্ত্রিক চর্চার পূর্ণ বিকাশে এখনই সর্বোচ্চ শুদ্ধাচার নিশ্চিত করা দরকার।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আজ বুধবার আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলেছে। বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘সম্প্রতি প্রকাশিত বৈশ্বিক গণতন্ত্র সূচকে চার ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশের ৭৬তম অবস্থান সাময়িক স্বস্তিদায়ক হলেও দীর্ঘ মেয়াদে তা আশাব্যঞ্জক নয়। কারণ ৫.৯৯ স্কোর নিয়ে আমরা এখনো হাইব্রিড রিজিমে অবস্থান করছি, যাকে পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বলা যাবে না।’

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘গণতান্ত্রিক উৎকর্ষ সাধনে প্রতিবন্ধক নানা আইন ও নীতি কাঠামোর মাধ্যমে এখনো ভয়হীন, মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার সংকুচিত করা হচ্ছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ বিভিন্ন নিবর্তনমূলক আইনের মাধ্যমে গণমাধ্যম ও জনগণের সমালোচনা এবং রাষ্ট্রীয় স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে অবাধে কথা বলার অধিকার বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। এগুলো সব ক্ষেত্রে শুদ্ধাচার নিশ্চিত করতে নেতিবাচক ভূমিকা রাখছে। অবিলম্বে এসব বাধা অপসারণ করে জনগণের পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক অধিকার প্রদানে সব ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক শুদ্ধাচার নিশ্চিত করতে হবে।’

ড. জামান বলেন, ‘দেশে নির্বাচনকেন্দ্রিক এক দিনের গণতন্ত্রও বিলীন হতে চলেছে বলে সংসদে সম্প্রতি যে আলোচনা হয়েছে, সেটিও দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার দুর্বলতাকে যথার্থভাবে ফুটিয়ে তোলে, যা কোনোভাবেই কাম্য ছিল না।’

জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে নির্বাচন কমিশন শক্তিশালী ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘অনেক বছর ধরেই আমাদের নির্বাচন কমিশন কেমন যেন রুটিন দায়িত্বের অংশ হিসেবে শুধু ভোটের আয়োজনেই সন্তুষ্ট; অংশগ্রহণমূলক, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট হলো কি না, তা নিয়ে তাদের মাথাব্যথা নেই।’ 

 



সাতদিনের সেরা