kalerkantho

রবিবার । ৮ কার্তিক ১৪২৮। ২৪ অক্টোবর ২০২১। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাবি শিক্ষার্থীকে মারধর

অবরোধ বিক্ষোভ, চার আনসার বহিষ্কার

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের প্রতিবাদ ও দোষীদের বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন। আন্দোলনের মুখে এই ঘটনায় জড়িত চার আনসার সদস্যকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

জানা গেছে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নূর হোসাইন গত সোমবার দুই ভাগ্নেকে নিয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ঘুরতে যান। এ সময় দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা দর্শনার্থী প্রবেশ নিষিদ্ধ জানিয়ে তাঁদের স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে প্রবেশে বাধা দেন। অথচ তখনো অনেক দর্শনার্থী টাকা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করছিলেন। নূর এই অনিয়মের প্রতিবাদ করলে আনসার সদস্যরা তাঁকে একটি কক্ষে আটকে রেখে মারধর করেন। পরে থানা পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করে সাভার এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সেখান থেকে নূরকে নিউরোসায়েন্স ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়। স্মৃতিসৌধে দায়িত্বরত গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।

এই ঘটনার প্রতিবাদ ও দোষী আনসার সদস্যদের বিচারসহ চার দফা দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন ও ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের দাবিগুলো হলো মারধরের শিকার শিক্ষার্থীর চিকিৎসার ব্যয় বহন, দোষীদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার ও গ্রেপ্তার এবং স্মৃতিসৌধে সব ধরনের অনিয়ম ও অনৈতিক কাজ বন্ধ করা। পরে আশুলিয়া থানা পুলিশ ও জাবি প্রক্টরের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেন।

আহত নূর হোসেন বলেন, ‘টাকার বিনিময়ে দর্শনার্থীদের ভেতরে প্রবেশ করানোর অনিয়মের প্রতিবাদ করায় দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা আমাকে জবরদস্তি একটি কক্ষে নিয়ে বন্দি করে রাখেন। পরে সাত-আটজন আনসার সদস্য আমাকে মারধর করেন। তাঁরা আমার মাথায়ও আঘাত করেন।’

ঢাকা জেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়ের কমান্ড্যান্ট আফজাল হোসেন বলেন, ‘এ ঘটনায় স্মৃতিসৌধে দায়িত্ব পালন করা চার আনসার সদস্য মোহর আলী, ওমর ফারুক, রমজান আলী ও যুগল সরকারকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। তারা যাতে অন্য কোথাও কাজ করতে না পারে, সেজন্য তাদের কালো তালিকায় রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার সব খরচের দায়িত্ব নেবে আনসার। আমরা এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।’

আশুলিয়া থানার ওসি এস এম কামরুজ্জামান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবি মানার ব্যাপারে তাঁদের আশ্বাস দিয়েছি। এরই মধ্যে দোষী আনসারদের বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ব্যবস্থা নিয়েছেন বলেও জেনেছি। আহত শিক্ষার্থীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, ‘আমরা আহত শিক্ষার্থীর সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছি।’



সাতদিনের সেরা