kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ কার্তিক ১৪২৮। ২৬ অক্টোবর ২০২১। ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

খুলনায় ইউপি নির্বাচন

বিদ্রোহীদের চ্যালেঞ্জে নৌকার প্রার্থীরা

নিখিল ভদ্র ও কৌশিক দে, খুলনা থেকে   

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নতুন করে ২০ সেপ্টেম্বর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর ফের প্রচার-প্রচারণায় মুখর খুলনা জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল। প্রথম দফায় জেলার দিঘলিয়া, পাইকগাছা, কয়রা, বটিয়াঘাটা ও দাকোপ উপজেলার ৩৪টি ইউনিয়নে নির্বাচন হবে। এর আগে গত ১১ এপ্রিল এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন, কিন্তু করোনার কারণে নির্বাচন স্থগিত করা হয়। নতুন করে ভোটগ্রহণের তারিখ ঘোষণার পর এখন আবার প্রচার-প্রচারণায় নির্বাচনী উত্তেজনা বাড়ছে।

সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, বিএনপি এই নির্বাচন বর্জন করলেও স্বতন্ত্র হিসেবে অংশ নিয়েছে। আর বিভিন্ন ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা পড়েছেন চ্যালেঞ্জের মুখে। কারণ আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি নন। এ কারণে বিভিন্ন স্থানে বিদ্রোহী প্রার্থী ও নৌকার প্রার্থীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। এ অবস্থায় বিদ্রোহীদের মোকাবেলায় খুলনা জেলায় ১১ জন প্রার্থীকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন খুলনা জেলা কমিটির সদস্য হায়দার মোড়ল, কয়রা উপজেলার সাধারণ সম্পাদক বিজয় কুমার সরকার ও সহসভাপতি আমির আলী গাইন, দিঘলিয়া উপজেলার যুগ্ম সম্পাদক মফিজুল ইসলাম ঠাণ্ডু মোল্যা, পাইকগাছা উপজেলা কমিটির আব্দুল মজিদ গোলদার, দিঘলিয়ার সেনহাটী ইউনিয়নের গাজী জিয়াউর রহমান, কয়রার বেদকাশী ইউনিয়নের মোড়ল আছের আলী, বটিয়াঘাটা উপজেলার শেখ মো. আসাবুর রহমান, দাকোপ ইউনিয়নের সঞ্জয় মোড়ল, বানিশান্তা ইউনিয়নের সুভাংশু বদ্ধ্য এবং কামারখোলা ইউনিয়নের সমরেশ রায়।

তবে তাঁরা কোনোভাবেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন না বলে জানিয়েছেন একাধিক চেয়ারম্যান প্রার্থী। তাঁরা বলছেন, তাঁদের কাছে এখন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ নৌকার প্রার্থীরা পেশিশক্তির আশ্রয় না নিলে বেশির ভাগ ইউনিয়নে বিদ্রোহীরাই জয় পাবেন।

পাইকগাছা উপজেলার রাড়ুলি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদ গোলদার অভিযোগ করেছেন, তাঁর কর্মীদের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়া হচ্ছে। ভয়-ভীতি দেখানো হচ্ছে। কর্মীদের ওপর একাধিকবার হামলাও করা হয়েছে। এসব ঘটনার পরও ভোটাররা ভোট দিতে পারলে নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হবেন।

অন্যদিকে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করতে বিদ্রোহী প্রার্থীরা পরিকল্পিতভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি করছেন বলে দাবি করেছেন সেনহাটী ইউনিয়ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ফারহানা হালিম। তিনি জানান, সরকারের বিপুল উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে নৌকার প্রার্থীরা বিজয়ী হবেন।

গত রবিবার খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটীতে নির্বাচনী সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। ওই দিন দুপুরে সেনহাটী পুলিশ ক্যাম্পের সামনে সেনহাটী ইউনিয়ন নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী ফারহানা হালিমের এক সমর্থকের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান গাজী জিয়াউর রহমান ওরফে জিয়া গাজীর সমর্থকের বাগবিতণ্ডা হয়। এরপর চন্দনীমহলের স্টার জুট মিলের ২ নম্বর গেট থেকে ফারহানা হালিমের সমর্থকরা মোটরসাইকেলে এসে সেনহাটী পুলিশ ফাঁড়ির সামনে জিয়া গাজীর সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। আর ওই দিন সন্ধ্যায় ফারহানা হালিমের বড় ছেলে নিলয় চন্দনীমহল বাজারে জিয়া গাজীর নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর করে। এ নিয়ে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।

প্রথম ধাপে জেলার পাঁচটি উপজেলার ৩৪টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন ১৫৬ জন। তাঁদের মধ্যে দাকোপের লাউডোব ইউনিয়নে শেখ যুবরাজ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি নৌকার প্রার্থী ছিলেন।



সাতদিনের সেরা