kalerkantho

বুধবার । ৭ আশ্বিন ১৪২৮। ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৪ সফর ১৪৪৩

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ ২৪ সেপ্টেম্বর

নিউ ইয়র্কের পর যাবেন ওয়াশিংটন ডিসিতেও

শামীম আল আমিন, নিউ ইয়র্ক   

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ ২৪ সেপ্টেম্বর

কভিড-১৯-এর কারণে মধ্যে এক বছর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সরাসরি যোগ দিতে পারেননি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবার জাতিসংঘের ৭৬তম অধিবেশন স্বল্প পরিসরে হলেও তাতে যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে যাচ্ছেন তিনি। আর এ কারণেই উৎসবের রং লেগেছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে। বিশেষ করে দলের প্রধানকে বরণ করে নেওয়ার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের রাস্তা এখন প্রতিদিনই স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে তুলছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। চলছে একের পর এক প্রস্তুতিসভা। অন্যান্য স্টেট থেকেও আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা নিউ ইয়র্কে আসার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। অনেকেই ভাবছেন, দলীয় সভানেত্রী হিসেবে এবার হয়তো যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি ঘোষণা করতে পারেন শেখ হাসিনা। সেই প্রত্যাশায় অনেকে নিজেদের বিভিন্ন পদপ্রার্থী ভেবে এক ধরনের জনসংযোগও শুরু করেছেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুর দেড়টায় জেএফকে এয়ারপোর্টে পৌঁছবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত থেকে প্রিয় নেত্রীকে স্বাগত জানাবেন।

ড. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘বৈশ্বিক মহামারির কারণে এবার অনেক কর্মসূচিই হবে সীমিত আকারে। প্রধানমন্ত্রী তিন থেকে চারবার জাতিসংঘের ভেতরে যাবেন। সেখানেও তাঁর সঙ্গী হবেন হাতে গোনা কয়েকজন। ফলে এবার নেতাকর্মীরা সেই অর্থে হয়তো সরাসরি নেত্রীর সাক্ষাৎ পাবেন না। এর পরও তিনি আসছেন, এতেই আমরা খুব আনন্দিত।’

আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের ৭৬তম অধিবেশনে সরাসরি ভাষণ দেবেন। একই দিন তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ভার্চুয়ালি ভাষণ দেবেন। লাগোর্ডিয়া ম্যারিয়ট হোটেল উপস্থিত হয়ে নেতাকর্মীরা বড় স্ক্রিনে বঙ্গবন্ধুকন্যার ভাষণ ও দিকনির্দেশনা শুনবেন বলে জানিয়েছেন ড. সিদ্দিকুর রহমান। একই সঙ্গে একটি সংবাদ সম্মেলনেও প্রধানমন্ত্রীর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবার সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়া ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, এবারও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে রোহিঙ্গা ইস্যুটি থাকতে পারে। তবে জোরালো হবে কভিড মোকাবেলায় বাংলাদেশের বিভিন্ন কার্যক্রম, টিকার সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার মতো বিষয়গুলো। থাকবে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবেলা সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি এবং বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য আহ্বানও থাকতে পারে তাঁর বক্তব্যে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন গত সোমবার ঢাকায় সাংবাদিকদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী এবার রোহিঙ্গা ইস্যুতে নতুন কোনো প্রস্তাব দেবেন না। প্রধানমন্ত্রী আগে যে প্রস্তাবগুলো দিয়েছেন, সেগুলো এখনো বিশ্বের সামনে আছে। রোহিঙ্গাদের যত দ্রুত সম্ভব মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর ওপর বাংলাদেশ গুরুত্ব দিচ্ছে।

জানা গেছে, ২৫ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্ক থেকে ওয়াশিংটন ডিসিতে যাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে সপ্তাহখানেক থেকে লন্ডন হয়ে তাঁর বাংলাদেশে ফেরার কথা রয়েছে।



সাতদিনের সেরা