kalerkantho

শনিবার । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৭ নভেম্বর ২০২১। ২১ রবিউস সানি ১৪৪৩

জলবায়ু নিয়ে তরুণদের কথা শোনা হয় না

গ্লোবাল ইয়ুথ লেটার উন্মোচন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিশ্বজুড়ে তরুণরা জলবায়ু পরিবর্তনকে হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে, কিন্তু অনেকেই এ বিষয়ে অর্থবহ কোনো কার্যক্রমে যুক্ত হতে কিংবা এ ব্যাপারে কথা বলার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হন। এ ছাড়া বেশির ভাগ তরুণ মনে করেন, দেশের নেতারা জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়টি নিয়ে নিজ থেকে কিছু করেননি। ব্রিটিশ কাউন্সিল প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের ২৩টি দেশের ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী আট হাজার তরুণের মতামত, অভিজ্ঞতা, সদিচ্ছা এবং জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি জানতে গ্লোবাল ইয়ুথ লেটারের এই প্রতিবেদনে মিশ্র পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। এ গবেষণা ব্রিটিশ কাউন্সিলের ক্লাইমেট কানেকশন প্রগ্রামের অংশ। গত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত চলা গবেষণার ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি গত ৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা হয়।

জরিপে অন্তর্ভুক্ত তরুণদের ২৫ শতাংশই প্রান্তিক অঞ্চলের, যাঁদের কাছে সহজে পৌঁছনোও কঠিন এবং ৭৫ শতাংশ শহরাঞ্চলের। এর মধ্যে ৫৫ শতাংশই নারী। সাধারণভাবে উপেক্ষিত জনগোষ্ঠী, যেমন—শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং সংখ্যালঘু ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত তরুণদেরও মতামত নেওয়া হয়। জরিপে অংশ নেওয়া ৬৭ শতাংশ তরুণ মনে করেন, দেশের নেতারা জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়টি নিয়ে নিজ থেকে কিছু করেননি। তাঁরা আশঙ্কা ব্যক্ত করে বলেন, বর্তমান জলবায়ু পরিবর্তন পলিসিতে নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মতামত উপেক্ষিত রয়েছে। এতে নীতিগত সিদ্ধান্তে তরুণদের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য একটি সামগ্রিক আহ্বানের বিষয় উঠে এসেছে।

তরুণরা মনে করেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় তাঁদের সম্পৃক্ততা এ ক্ষেত্রে উদ্ভাবনী নানা ধারণা নিয়ে আসবে, যার ফলে আরো কার্যকর উপায়ে এ বিষয়ে অনেকের কাছে পৌঁছানো যাবে। নীতিনির্ধারকদের বাস্তবিক ও কাঠামোগত উপায়ে তরুণদের আগ্রহ ও উদ্দীপনাকে এ ব্যাপারে কাজে লাগানোর বিষয়ে এ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। জানা যায়,  অনেক তরুণই অর্থবহ অবদান রাখতে চান, কিন্তু অনেক সময় তাঁরা পর্যাপ্ত সুযোগ পান না। ৭৫ শতাংশ তরুণ জানিয়েছেন, তাঁদের কমিউনিটিতে জলবায়ু পরিবর্তনসংশ্লিষ্ট বিষয় মোকাবেলায় তাঁদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা রয়েছে এবং ৬৩ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা জাতিসংঘের ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজ’ সম্পর্কে জানতেন।

ব্রিটিশ কাউন্সিল জানায়, জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে তরুণদের উদ্দীপনা ও সুপারিশগুলো নির্ধারণের কর্মপরিকল্পনা হচ্ছে গ্লোবাল ইয়ুথ লেটার। যেসব নীতিনির্ধারক ও বিশ্বনেতা জাতিসংঘের ক্লাইমেট চেঞ্জ কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজে (কপ ২৬) অংশগ্রহণ করবেন, তাঁদের উদ্দেশে প্রতিবেদনে প্রাপ্ত তথ্যগুলো ব্যবহার করে গ্লোবাল ইয়ুথ লেটার লিখতে ব্যবহার করা হয়।

এ বিষয়ে ব্রিটিশ কাউন্সিলের ডেপুটি চিফ এক্সিকিউটিভ কেট এওয়ার্ট-বিগস বলেন, ‘আমাদের প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাপী তরুণদের জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় অবদান রাখার ক্ষেত্রে তাঁদের সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। তরুণরাই আগামীর নেতা এবং তাঁরাই বিশ্বকে প্রভাবিত করবেন; তাই তাঁদের কথা সরকারি নেতাদের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ করে দেওয়া এবং নীতিগত সিদ্ধান্ত, যা তাঁদের ভবিষ্যেক প্রভাবিত করবে, তাঁদের সম্পৃক্ত করা অত্যন্ত জরুরি।’

প্রসঙ্গত, আগামী ১ থেকে ১২ নভেম্বর স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে অনুষ্ঠেয় ‘কপ ২৬’ আয়োজন করবে যুক্তরাজ্য। এ সম্মেলনকে অন্তর্ভুক্তিমূলক করার জন্য যুক্তরাজ্যের সরকারের উদ্দেশ্যের সমর্থনে বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষকে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণে উৎসাহিত করতে নিজেদের বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছে ব্রিটিশ কাউন্সিল।



সাতদিনের সেরা