kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৯ ডিসেম্বর ২০২১। ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

চাকরির প্রলোভনে মধ্যপ্রাচ্যে নিয়ে নারীদের বিক্রি

চক্রের হোতাসহ দুজন গ্রেপ্তার পাচারের অন্যতম গন্তব্য ইরাক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্লিনিক, সুপারশপ ও বিউটি পার্লারে উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে চাকরিপ্রত্যাশী দক্ষ নারীদের ফাঁদে ফেলে ওরা। এরপর তিন-চার লাখ টাকা করে নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশে ট্যুরিস্ট ভিসায় নিয়ে যায়। সেখান থেকে পাচার করে ইরাকে। সেখানে আবারও জনপ্রতি তিন-চার লাখ টাকা করে নিয়ে ওদের দালালদের হাতে তুলে দেয়। আর পাচারের শিকার নারীদের ভিনদেশে ভিন্ন পরিস্থিতিতে জিম্মি করে অনৈতিক কাজে বাধ্য করা হয়।

নারী পাচারকারী এমন এক চক্রের সন্ধান পেয়েছে র‌্যাব, যারা অন্তত ৩৫ জন নারীকে এভাবে পাচার করেছে। ভ্রমণ ভিসার নামে পাচার করেছে অন্তত ২০ পুরুষকে। গতকাল শনিবার রাজধানীর মিরপুর ও উত্তরায় অভিযান চালিয়ে চক্রের হোতা লিটন মিয়া ওরফে ডাক্তার লিটন ও আজাদ রহমান খান নামে তাঁর এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ৪০৭ পিস ইয়াবা, বেশ কিছু পাসপোর্ট ও ব্যাংেকর চেক বই জব্দ করা হয়।

র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, লিটন ইরাকের রাজধানী বাগদাদে একটি হাসপাতালের চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে পাচার সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। আর আজাদ জনশক্তি রপ্তানি এজেন্সির আড়ালে পাচারচক্রে জড়িত হন। তাঁরা ইয়াবা সেবন ও মাদকের কারবারেও জড়িত।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের ব্যাপারে বিস্তারিত জানান র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। তিনি বলেন, এই চক্রে দেশ-বিদেশে ১৫-২০ জন সক্রিয় সদস্য রয়েছেন। চক্রটি প্রতারণামূলক ফাঁদে ফেলে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মানবপাচার করে। পুরুষের পাশাপাশি চক্রটি নারীদেরও পাচার করে থাকে।

খন্দকার আল মঈন জানান, পেশায় দক্ষ নারী যেমন নার্স, পার্লার ও বিক্রয়কর্মীদের টার্গেট করে চক্রটি। ওরা সংশ্লিষ্টদের মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন হাসপাতাল, ক্লিনিক, মার্কেট, সুপারশপ, বিউটি পার্লারসহ বিভিন্ন স্থানে চাকরির প্রলোভন দেখায়। প্রতারণার কৌশল হিসেবে চক্রের হোতা লিটন নিজেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ থেকে পাস করা এমবিবিএস ডাক্তার হিসেবে ভুয়া পরিচয় দিতেন। তিনি ইরাকের বাগদাদে একটি স্বনামধন্য হাসপাতালে কর্মরত বলেও দাবি করতেন।

র‌্যাব জানায়, ইরাকে পাচারের পর কয়েকটি সেফ হাউসে ভিকটিমদের রেখে সুবিধাজনক সময়ে তাদের বিক্রি করে দিতেন লিটন। এর আগে চাকরির নাম করে প্রথমে ভিকটিমদের কাছ থেকে জনপ্রতি নেওয়া হতো তিন লাখ থেকে চার লাখ টাকা। একই পরিমাণ টাকায় আবার তাদের বিক্রি করে দিতেন। চক্রটি রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বেশ কয়েকটি এলাকায় সক্রিয়। এরই মধ্যে তারা প্রায় আড়াই শ মানুষকে পাচার করেছে। এর মধ্যে অন্তত ৩৫ জন নারী রয়েছেন।

খন্দকার আল মঈন জানান, গ্রেপ্তারকৃত লিটন সরকারি একটি সংস্থায় মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কিছুদিন চাকরি করেন। অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০১০ সালে তিনি চাকরিচ্যুত হন। এরপর ২০১৩ সালে ইরাকে গিয়ে পাচার সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন তিনি। ২০১৬ সালে আজাদের সঙ্গে মিলে মানবপাচার শুরু করেন। লিটন ইরাকে দুবার গ্রেপ্তার হন বলে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি বালুর ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। লিটন বিয়ের প্রলোভন দিয়েও নারীদের পাচার করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলাও রয়েছে।



সাতদিনের সেরা