kalerkantho

শনিবার । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৭ নভেম্বর ২০২১। ২১ রবিউস সানি ১৪৪৩

আপন অন্যলোকে ৯ বছর

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



আপন অন্যলোকে ৯ বছর

‘বিকেলে আমি না-ও থাকতে পারি, নিজের ভেতর থেকে/বেরিয়ে পড়তে পারি অযথাই—ঘোষণা ছাড়াই ছড়িয়ে/পড়তে পারি দূরে, অতীতে...’—এসব বাক্য কবিতায় লিখেছিলেন আপন মাহমুদ। হয়তো বেঁচে থাকতে চেয়েছিলেন জীবনের বিকেল পর্যন্ত, কিন্তু ৯ বছর আগের এই দিনে খুব সকালে তিনি পাড়ি জমান অন্যলোকে।

শূন্য দশকের অন্যতম এই কবি বটগাছের মতো বড় হতে চেয়েছিলেন। চেয়েছিলেন শিল্পের প্রেমের জীবন। যে পথে কবিতা ছাড়া আর কিছুু দেখা যায় না, দেখা যায় না মানুষপোড়া ছাই, যেখানে বন্দুক নাই, মসজিদ-মন্দির নাই, যেখানে আদালতের চোখ মানুষের মতো, যেখানে পথহারাকে রাজহাঁস ডেকে বলে, আসুন, একই গান সবাই গাই—সেই সমাজের কল্পনা করতেন তিনি।

কবিতার পাশাপাশি কিছু গদ্য, ছোটগল্প, ছড়া ও গান লিখেছিলেন আপন। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘সকালের দাঁড়ি কমা’ প্রকাশ পায় ২০১১ সালে। ২০১৭ সালে তাঁর সব লেখাপত্র নিয়ে কবি সফেদ ফরাজীর সম্পাদনায় চৈতন্য প্রকাশনী থেকে বের হয় ‘আপন মাহমুদ সমগ্র’। লেখালেখির শুরুটা লিটলম্যাগে হলেও পরে বিভিন্ন দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক সাময়িকীতে ছাপা হয়েছে তাঁর কবিতা।

অসম্ভব কল্পনাশক্তি ও কবিত্বশক্তির অধিকারী ছিলেন আপন মাহমুদ। তাঁর কবিতায় ব্যক্তি মানুষের স্বপ্ন, স্বপ্নভঙ্গ, সম্পর্কের টানাপড়েন, সমাজ-সংসারের রূঢ় বাস্তবতা ও মনোজগতের নানা বিষয় নিপুণভাবে ফুটে উঠেছে। বিশেষ করে মা-বাবার প্রসঙ্গ ঘুরেফিরে এসেছে কবিতায়। ‘মা প্রজাপতি ও অন্যান্য ছায়া’ শিরোনামে তাঁর বিখ্যাত একটা সিরিজ শুরু হয়েছে এভাবে, ‘মায়ের উদ্দেশে বাবা যে চুমুটা ছুড়ে দিয়েছিলেন বাতাসে/ শুনেছি, সেই হাওয়াই চুমুটা থেকেই জন্ম নিয়েছিল/ পৃথিবীর প্রথম প্রজাপতি’।

অধুনালুপ্ত আজকের কাগজ পত্রিকায় তাঁর সাংবাদিকতা জীবনের শুরু। এরপর যায়যায়দিন হয়ে ২০১০ সালে যোগ দেন কালের কণ্ঠে; এখানে জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক হিসেবে ছিলেন মৃত্যুর আগ পর্যন্ত।

আপনের জন্ম ১৯৭৬ সালের ১ জানুয়ারি লক্ষ্মীপুরের মান্দারীবাজার এলাকার কড়ইতলা গ্রামে। ২০১২ সালের ১২ সেপ্টেম্বর মৃত্যুর পর তাঁকে সমাহিতও করা হয় সেই কড়ইতলা গ্রামের একটি কড়ইগাছের নিচে। আজ তাঁর নবম মৃত্যুবার্ষিকী। তাঁর আত্মার শান্তি কামনায় সবার দোয়া চেয়েছেন তাঁর পরিবার ও কবিবন্ধুরা।



সাতদিনের সেরা