kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৯ ডিসেম্বর ২০২১। ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

আশুলিয়ায় ১৭ স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি

৪০ জনকে আসামি করে মামলা

কোটি টাকার বেশি সম্পদ লুট

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঢাকার আশুলিয়ায় বংশী নদীসংলগ্ন নয়ারহাট বাজারের ১৭টি স্বর্ণের এবং একটি মুদি দোকানে ডাকাতির ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ৩০ থেকে ৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ডাকাতি হওয়া শুভ জুয়েলার্সের মালিক মনোরঞ্জন রাজবংশী বাদী হয়ে সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আশুলিয়া থানায় মামলাটি করেন। এ সময় ছয়টি স্বর্ণের দোকানের মালিক উপস্থিত ছিলেন। মামলাটি তদন্ত করছেন থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আব্দুর রাশিদ।

মনোরঞ্জন রাজবংশী কালের কণ্ঠকে জানান, তিনি প্রতিদিনের মতো রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাঁর শুভ জুয়েলার্স বন্ধ করে বাসায় চলে যান। অন্যান্য জুয়েলার্সের মালিকরা রাত সাড়ে ১০টার মধ্যে তাঁদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাসায় যান। প্রতিদিনের মতো নিরাপত্তা প্রহরী মো. বাবুল হোসেন (৫০), মহেন্দ্র দাস (৬৫), সমর চন্দ্র হালদার (৫৫), মো. হাসানসহ (৫৬) পাঁচজন বাজার পাহারা দিচ্ছিলেন। ভোর রাত সাড়ে ৪টার দিকে তিনি লোক মারফত জানতে পারেন, রাত দেড়টার দিকে বংশী নদী দিয়ে স্পিডবোট ও ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি ডাকাতদল রাইফেল, রাম দা, হাইড্রোলিক কাটার, সেলাই রেঞ্জ, রড নিয়ে বাজারে ঢোকে। তারা নিরাপত্তা প্রহরীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পিঠমোড়া দিয়ে বেঁধে বাজারের মজিদের মুদি দোকানের মধ্যে ফেলে রাখে। পরে ১৭টি স্বর্ণের দোকানে হানা দিয়ে ১২৬ ভরি স্বর্ণালঙ্কার (আনুমানিক মূল্য ৭৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা), ৯১২ ভরি রুপা (আনুমানিক মূল্য ৯ লাখ ১২ হাজার টাকা) এবং ১৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা লুটে নিয়ে যায় ডাকাতরা। খবর পেয়ে স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা সকালে নয়ারহাট বাজারে জড়ো হন। এ সময় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

মনোরঞ্জন রাজবংশী আরো জানান, ভোররাতে তিনি তাঁর দোকানে গিয়ে কেচি গেট ও তালা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান। ডাকাতরা দোকানের শোকেস ও কাঠের ক্যাশ টেবিলের ড্রয়ার ভেঙে আনুমানিক ১৫ ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার, ৬০ ভরি ওজনের রুপার অলঙ্কার এবং দুই লাখ টাকা লুটে নিয়ে গেছে। এ ছাড়া পাশের জবা জুয়েলার্স থেকে আনুমানিক দুই ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার, ২০০ ভরি রুপার অলঙ্কার, প্রমা জুয়েলার্স থেকে ১৫ ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার, ৩৫ ভরি ওজনের রুপার অলঙ্কার এবং এক লাখ ২৫ হাজার টাকা; ভূমি জুয়েলার্স থেকে চার ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার, ৪০ ভরি রুপার অলঙ্কার এবং ৩৫ হাজার টাকা; আরিফা গোল্ড পালিশ হাউস থেকে আনুমানিক তিন ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার, ১০ ভরি রুপার অলঙ্কার এবং ছয় লাখ ৭০ হাজার টাকা; পার্থ জুয়েলার্স থেকে তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কার, ৩০ ভরি রুপা ও ২০ হাজার টাকা লুটে নিয়েছে। মোট ১৭টি স্বর্ণের দোকান থেকে টাকা, স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কার লুট করেছে।

স্বর্ণের দোকানদাররা জানান, ডাকাতরা রাত দেড়টা থেকে ভোররাত পৌনে ৪টা পর্যন্ত ডাকাতি করে আবার ইঞ্জিনচালিত নৌকাযোগে চলে যায়। ডাকাত সদস্যদের বয়স ২৫ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। হাফ প্যান্ট, লুঙ্গি, গেঞ্জি ও স্যান্ডো গেঞ্জি পরা ডাকাতদের কারো কারো মুখে দাঁড়ি ছিল। তাদের মুখমণ্ডল খোলা ছিল। তারা বিভিন্ন জেলার আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলছিল। পরে নিরাপত্তা প্রহরীরা ডাকাত সদস্যদের দেখলে চিনতে পারবেন বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন।

নয়ারহাট বাজারের নিরাপত্তা প্রহরী মোহাম্মদ বাবুল বলেন, “ওই রাতে চারজন নিরাপত্তারক্ষী ডিউটিতে রইছিল আর আমি ছিলাম রাউন্ডে। রাইত ১টার দিকে আমি যখন মাছ বাজারের দিকে গেছি, দেখি সাত-আটজন লোক বাজারের দিকে আসতেছে। এরপর দেখি অনেক লোক। এক শর ওপরে। আমি মনে করছি যে মাঝেসাজে তো এ রকম লোকজন যায়। পরে হঠাৎ একজন আমাকে বলে, ‘তুই সিকিউরিটি না?’ আমি কইছি, সিকিউরিটি কি না আপনে জানেন না? পরে আমারে বাইন্দা ফালাইছে।”

বাবুল বলেন, ‘তাদের কাছে রাইফেল, দুই নলা বন্দুক, চাপাতি, শাবলসহ দেশীয় অস্ত্র ছিল। আমারে তারা চোখ-মুখ বাইন্দা কইল নড়াচড়া করিস না, শব্দ করিস না। নইলে মাইরা ফালামু। আমারে বেশ মারছে। পরে তারা স্বর্ণের দোকানের দিকে চইলা গেল।’



সাতদিনের সেরা