kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ মাঘ ১৪২৮। ২৫ জানুয়ারি ২০২২। ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস আজ

করোনায় সাক্ষরতা কার্যক্রম গতিহীন

শরীফুল আলম সুমন   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনার আগ্রাসনে গেল দেড় বছর শ্রেণিকক্ষে বসতেই পারেনি শিক্ষার্থীরা। ফলে ছেদ পড়ে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রমে। তবে এ সময়টায় ডিজিটাল শিক্ষা ছড়িয়েছে আলো। যেসব শিক্ষক ও শিক্ষার্থী অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রমের কথা ভাবনাতেই আনতে পারেনি, তারাও পা রাখে ডিজিটাল দুনিয়ায়।

বিজ্ঞাপন

তবে চারদিকে করোনোর ঝাঁজ থাকায় সাক্ষরতা কার্যক্রম হয়ে পড়ে গতিহীন। অন্যদিকে আগের চেয়েও পিছিয়ে পড়ে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা। গেল এক বছরে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মাঠ পর্যায়ে কোনো কার্যক্রম না থাকলেও সাক্ষরতার হার কিছুটা বেড়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যানুযায়ী, ২০১৯ সালের হিসাবে দেশে গড় সাক্ষরতার হার ছিল ৭৪.৭ শতাংশ। বিবিএসের ২০২০ সালের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী দেশে এখন সাক্ষরতার হার ৭৫.৬ শতাংশ। ফলে করোনার মধ্যে কোনো কার্যক্রম না থাকলেও সাক্ষরতার হার বেড়েছে ০.৯০ শতাংশ।

এ রকম প্রেক্ষাপটে ‘মানবকেন্দ্রিক পুনরুদ্ধারের জন্য সাক্ষরতা : ডিজিটাল বিভাজন কমিয়ে আনা’ এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে আজ বুধবার পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। দিবসটি জাঁকজমকভাবে আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালন করা হলেও সারা বছর আর খোঁজ থাকে না। ফলে প্রকৃত অর্থে সাক্ষরতার হার কোন পর্যায়ে রয়েছে তা নিয়ে অনেকেই সন্দিহান।

জানা যায়, ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন করতে হলে নিরক্ষরমুক্ত করতে হবে দেশ। কিন্তু যে গতিতে সাক্ষরতা কার্যক্রম চলছে, তাতে এই সময়ের মধ্যে আদতে দেশ নিরক্ষরমুক্ত হবে কি না তা নিয়ে রয়েছে সংশয়। এবারের প্রতিপাদ্যে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষায় ডিজিটাল বিভাজন কমিয়ে আনার কথা বলা হলেও বাস্তবে তেমন কোনো ডিজিটাল কার্যক্রমই নেই। এ ছাড়া দেশে যে প্রক্রিয়ার সাক্ষরতার হার নিরূপণ করা হয় তা-ও যথাযথ নয় বলে মত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের।

তাঁরা বলছেন, সাক্ষরতার হার ও সংজ্ঞা নিয়েও রয়েছে বিভ্রান্তি। বিবিএস সাক্ষরতার হার নিয়ে জরিপ করার সময় মানুষের কাছে জানতে চায়, আপনি লিখতে পারেন কি না? তিনি বললেন, পারি। হয়তো তিনি সই করতেও জানেন। কিন্তু তাঁকে যদি এক পৃষ্ঠা লিখতে দেওয়া হয় তাহলে তিনি পারবেন না। আবার এক পৃষ্ঠা পড়তে বলা হলে সেটাও হয়তো তিনি পারবেন না। আর বেসরকারি জরিপে একজন মানুষ লিখতে ও পড়তে পারে কি না তা যাচাই করা হয়। ফলে সরকারি-বেসরকারি তথ্যে বড় ধরনের ফারাক থেকে যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সংজ্ঞানুযায়ী, সাক্ষরতা হচ্ছে পড়া, অনুধাবন করা, মৌখিকভাবে ও লেখার বিভিন্ন পদ্ধতিতে ব্যাখ্যা করা, যোগাযোগ স্থাপন করা এবং গণনা করার দক্ষতা। অর্থাৎ সাক্ষরতা বলতে লিখতে, পড়তে, গণনা করতে ও যোগাযোগ স্থাপন করার সক্ষমতাকে বোঝানো হয়। সাক্ষরতাসম্পন্ন একজন ব্যক্তি বাংলাদেশের পঞ্চম শ্রেণি পাস করা শিক্ষার্থীর সমমানের হতে হবে বলে মানদণ্ড নির্ধারণ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

গণসাক্ষরতা অভিযানের উপপরিচালক কে এম এনামুল হক বলেন, ‘২০৩০ সালের মধ্যে যদি আমরা দেশকে নিরক্ষরমুক্ত করতে চাই, তাহলে নন-ফরমাল এডুকেশনে ডিজিটাল বাধা দূর করতে হবে। ফরমাল এডুকেশনের পাশাপাশি নন-ফরমাল এডুকেশনেও ব্যাপক বিনিয়োগ করতে হবে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ছেলেমেয়ে ও বয়স্কদের জন্য ইন্টারনেট সংযোগসহ ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এ ছাড়া যাচাইয়ের মাধ্যমে সাক্ষরতার হারের প্রকৃত তথ্য নির্ণয় করে সে অনুযায়ী দেশকে নিরক্ষরমুক্তকরণে লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। ’

জানা যায়, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর অধীনে দেশে এখন ৬৪ জেলায় নির্বাচিত ২৫০টি উপজেলার ১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী ৪৫ লাখ নিরক্ষরকে সাক্ষরতা ও জীবন দক্ষতা দেওয়ার লক্ষ্যে ‘মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্প (৬৪ জেলা)’ বাস্তবায়নের কাজ চলছে। এ ছাড়া ‘চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির (পিইডিপি-৪)’ সাব-কম্পোনেন্টের আওতায় আট থেকে ১৪ বছর বয়সী বিদ্যালয়বহির্ভূত ১০ লাখ শিশুকে উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়ার একটি কর্মসূচি প্রস্তুত রয়েছে।



সাতদিনের সেরা