kalerkantho

শনিবার । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৭ নভেম্বর ২০২১। ২১ রবিউস সানি ১৪৪৩

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বললেন

মন্ত্রীদেরও সম্পদের হিসাব জমা দেওয়া হবে

♦ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ‘স্যার’, ‘ম্যাডাম’ সম্বোধন করার কোনো নীতি নেই
♦ দুর্ব্যবহার দুর্নীতির শামিল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রীদেরও সম্পদের হিসাব জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। একই সঙ্গে তিনি এও বলেন, সরকারি সেবা নিতে আসা জনসাধারণকে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ‘স্যার’ বা ‘ম্যাডাম’ সম্বোধন করতে হবে—এমন কোনো নীতি নেই। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে আয়োজিত এক সংলাপে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম এই সংলাপের আয়োজন করে। ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা ১৯৭৯ অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি প্রতি পাঁচ বছর পর পর মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রীদের সম্পদের হিসাব নেওয়া হবে। মন্ত্রীদের সম্পদের হিসাবও জমা দেব।’ সংলাপে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি তপন বিশ্বাস। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাসউদুল হক। এতে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান তথ্য কর্মকর্তা শাহেনুর মিয়া। সংলাপে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী সরকারের উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে গত ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক লাখ ৪০ হাজার ৮৬০টি পদ সৃজন করেছে। ৩৭তম বিসিএসের মাধ্যমে এক হাজার ২৪৯ জন, ৩৮তম বিসিএসের মাধ্যমে দুই হাজার ১৩৪ জন, ৩৯তম বিসিএসের মাধ্যমে ছয় হাজার ৭২৭ জনসহ মোট ১০ হাজার ১১০ জন ক্যাডার কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘মন্ত্রীরা নিয়মিত আয়কর রিটার্ন জমা দেন। তথ্য অধিকার আইনের আওতায় গণমাধ্যমকর্মীরাও মন্ত্রীদের আয়কর রিটার্নের কপি সংগ্রহ করতে পারেন। একসময় সরকারি কর্মকর্তারা তাঁদের ইচ্ছামতো আয়কর দিতেন, এখন সে অবস্থা নেই। এখন সবাই বাধ্যতামূলকভাবে আয়কর জমা দেন।’ তিনি  আরো বলেন, ‘আইন অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর পর পর সব কর্মকর্তা তাঁদের সম্পদের হিসাব দেবেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে আমরা এসংক্রান্ত একটি চিঠিও দিয়েছি। তারা চাইলে মন্ত্রীদের হিসাবও নিতে পারে। সরকারের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি মন্ত্রীদের সম্পদের হিসাবও জমা দেব, যদিও আমরা পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব পাই। তার পরও অন্তত একবার আমরা হিসাব জমা দিতে পারি।’ সরকারি কর্মকর্তাদের ‘স্যার’ বা ‘ম্যাডাম’ ডাকা নিয়ে একটি সমস্যা তৈরি হচ্ছে। বিষয়টি তিনি কিভাবে দেখেন এমন প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সব সময়ই বলি, জনগণের সেবক হোন। জনগণের টাকায় বেতন হয়। সরকারি কর্মকর্তাদের জনগণের সঙ্গে মিশে যেতে হবে। এখানে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না। আমি বলেছি, আপনার অ্যাটিচুড (ভাবভঙ্গি) খুব ইমপর্ট্যান্ট। আমি বারবার বলছি, দুর্ব্যবহার দুর্নীতির শামিল। আইনের মধ্যে থেকে একজন মানুষকে সাধ্যমতো সহযোগিতা করতে হবে। আপনার আচরণ ভালো হতে হবে। কাউকে স্যার ডাকতে হবে, এমন কোনো রীতি নেই।’ তিনি আরো বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তাদের অনেক ভালো নজির রয়েছে। এমন অনেক উপজেলা আছে, যেখান থেকে ইউএনও চলে আসার সময় লোকজন কান্না করে।’



সাতদিনের সেরা