kalerkantho

বুধবার । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৮ ডিসেম্বর ২০২১। ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

জুনে না হলে পদ্মা সেতুতে ডিসেম্বরে চলবে ট্রেন

মাওয়া-ভাঙ্গা পথে রেললাইন বসানো শুরু

সজিব ঘোষ পদ্মা সেতু এলাকা থেকে ফিরে   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মূল পদ্মা সেতুর কাজ প্রায় ৯৫ শতাংশ শেষ। বড় কাজের মধ্যে এখন বাকি রয়েছে সড়কপথে কার্পেটিং করা। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী বছরের জুন মাসে চলাচলের জন্য পদ্মা সেতু উদ্বোধন করা হবে। তবে এখনো মূল সেতুতে রেললাইন বসানোর কাজ শুরু করতে পারেনি রেলপথ মন্ত্রণালয়। সেতুতে রেললাইন বসাতে সময় লাগবে অন্তত ছয় মাস। কিন্তু আগামী বছরের মার্চের আগে পদ্মা সেতুর রেললাইনের অংশ রেলপথ মন্ত্রণালয়কে হস্তান্তর করবে না সেতু কর্তৃপক্ষ।

এমন পরিস্থিতিতে গতকাল মঙ্গলবার পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ প্রকল্প পরিদর্শন করেন রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। সেখানে পানগাঁওয়ে চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেডের কার্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের তিনি বলেন, আগামী বছরের জুনে পদ্মা সেতু দিয়ে সড়ক পরিবহন চালুর সঙ্গে সঙ্গে ট্রেন চলাচল শুরুরও চেষ্টা চলছে। তবে ডিসেম্বরের মধ্যে সেতু কর্তৃপক্ষ পদ্মা সেতুর রেলপথ স্থাপনের অংশ রেলওয়েকে বুঝিয়ে না দিলে এই রেলপথ স্থাপনের কাজ যথাসময়ে শুরু করা যাবে না। যথাসময়ে রেলপথ স্থাপন করা না গেলে আগামী জুনে পদ্মা সেতু দিয়ে ট্রেন চলাচল শুরুর বিষয়ে সংশয় আছে।

রেলমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সেতু কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করার চেষ্টা করছি। যদি কোনো কারণে আগামী জুন মাসে পদ্মা সেতু দিয়ে ট্রেন চলাচল শুরু করা না যায়, তবে আগামী বছরের ডিসেম্বরে ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা রেলপথ অংশ চালু করতে আমাদের বিকল্প চিন্তা-ভাবনা আছে।

গতকাল কেরানীগঞ্জের পানগাঁও থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ প্রকল্পের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন রেলপথমন্ত্রী। এ সময় মন্ত্রী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রেলপথের স্ল্যাব বসার পর কংক্রিটের ঢালাই কাজের সময় সড়কের কম্পনে কিছুটা অসুবিধা হতে পারে। আমরা চাই সড়ক ও রেলপথ একসঙ্গে উদ্বোধন হোক। সে ক্ষেত্রে সেতু কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে রেলপথ দ্রুত বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করছি।’

এদিকে পদ্মা রেল লিংক প্রকল্পের মাওয়া থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে রেললাইন বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। গতকাল পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্ত থেকে রেললাইন স্থাপনের এই কাজ উদ্বোধন করেন মন্ত্রী।

পদ্মা রেল সেতু সংযোগ প্রকল্পের আওতায় ১৬৯ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ করা হবে। লুপ ও সাইডিং ৪২.২২ কিলোমিটার এবং তিন কিলোমিটার ডাবল লাইনসহ মোট ২১৫.২২ কিলোমিটার রেলওয়ে ট্র্যাক নির্মাণ করা হবে। এই পুরো পথে নিচু জায়গায় ২৩.৩৭৭ কিলোমিটার উড়াল (ভায়াডাক্ট) রেলপথ নির্মাণ করা হবে। থাকছে ৬৬টি বড় সেতু। ছোট সেতু, কালভার্ট ও আন্ডারপাস থাকবে ২৪৪টি। নির্মাণ করা হবে একটি হাইওয়ে ওভারপাস এবং ২৯টি লেভেলক্রসিং। একই সঙ্গে ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত এই রেলপথে ১৪টি স্টেশন নির্মাণ করা হবে। আর বিদ্যমান ছয়টি স্টেশনের অবকাঠামো নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় উন্নয়ন করা হবে।

প্রাথমিকভাবে পুরো রেলপথকে তিন ভাগে ভাগ করে কাজ করছে রেল মন্ত্রণালয়, যেখানে মাওয়া থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত অংশকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ঢাকা থেকে মাওয়া এবং ভাঙ্গা থেকে যশোর পর্যন্ত অংশ দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। রেল মন্ত্রণালয় বলছে, মাওয়া-ভাঙ্গা অংশটি পদ্মা সেতুর সড়কপথের সঙ্গেই চালু করা হবে। আর অন্য দুই অংশের কাজ ২০২৩ সাল নাগাদ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সর্বশেষ গত জুলাই পর্যন্ত পুরো রেলপথের সার্বিক কাজের অগ্রগতি ৪৩ শতাংশ। এর মধ্যে ঢাকা-মাওয়া অংশের অগ্রগতি ৩৯ শতাংশ, ভাঙ্গা-যশোর অংশের অগ্রগতি ৩১ শতাংশ এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চলমান মাওয়া-ভাঙ্গা অংশের সার্বিক কাজের অগ্রগতি ৬৯ শতাংশ।



সাতদিনের সেরা