kalerkantho

শনিবার । ২৫ জুন ২০২২ । ১১ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৪ জিলকদ ১৪৪৩

ঝুটপল্লীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

চোখের সামনে পুড়ল কয়েক কোটি টাকার সম্পদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চোখের সামনে পুড়ল কয়েক কোটি টাকার সম্পদ

গাজীপুর মহানগরীর পুবাইলে গতকাল ঝুটপল্লীতে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা চার ঘণ্টার চেষ্টায় যখন আগুন নেভান, ততক্ষণে সেখানকার ৬০টি গুদাম ছাই হয়ে গেছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

গাজীপুরে একটি ঝুটের গুদাম থেকে ছড়িয়ে পড়া আগুনে ঝুটপল্লীর ৬০টি গুদামের প্রায় কয়েক কোটি টাকার ঝুট পুড়ে গেছে। গতকাল রবিবার সকালে মহানগরীর পুবাইলের মাজুখান এলাকার একতা ঝুট ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মার্কেটে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। চোখের সামনে কোটি কোটি টাকার সম্পদ পুড়তে দেখলেও আগুনের ভয়াবহতায় কিছু করতে পারেননি মালিকরা। সম্পদ রক্ষা করতে না পেরে অনেককে অঝোরে কাঁদতে ও আহাজারি করতে দেখা গেছে।

বিজ্ঞাপন

অগ্নিকাণ্ডের কারণে কালো ধোঁয়ায় আশপাশ আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। গাজীপুর, টঙ্গী, উত্তরা ও সদর দপ্তরের মোট সাতটি ইউনিট একযোগে কাজ করে প্রায় চার ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয়রা জানায়, সকাল ১০টার দিকে টঙ্গীর মো. নজরুল ইসলামের মালিকানাধীন তুলার গোডাউনে সাত-আটজন নারী কাজ করার সময় বস্তার ফাঁকে আগুন দেখতে পান। মুহূর্তে দাউ দাউ করে আগুন পুরো গুদামে এবং পরে একের পর এক আশপাশের গুদামে ছড়িয়ে পড়ে। নজরুল ইসলাম বলেন, ‘গুদামে প্রায় কোটি টাকার তুলা ছিল। চোখের সামনে সব পুড়ে গেছে। চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করতে পারিনি। আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। ’

আরেক ঝুট ব্যবসায়ী মো. খলিলুর রহমান বলেন, ‘তারা প্রথমে টঙ্গীর বাজার এলাকায় ঝুটের ব্যবসা শুরু করেছিলেন। জায়গা স্বল্পতার কারণে কয়েকটি এলাকার ঝুট ব্যবসায়ীরা মিলে পুবাইলের মাজুখান এলাকায় এই জায়গায় ১০-১২ বিঘা জমিতে গুদামঘর তৈরি করেন। এখানে দুই শতাধিক ব্যবসায়ী ব্যবসা করতেন। সর্বনাশা আগুনে তাঁদের ৭০টির মতো গুদাম পুড়ে গেছে। সেই সঙ্গে পুড়েছে কপালও। ’

একতা ঝুট ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মার্কেটের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান টিটু বলেন, ‘বিভিন্ন গার্মেন্ট কারখানার পরিত্যক্ত মালামাল (ঝুট থেকে তৈরি তুলা, ববিন, সুতা ও টুকরো কাপড়) গুদামগুলোতে মজুদ করে রাখা ছিল। কিছুদিন আগেও তাঁদের ওই মার্কেটে আগুন লেগেছিল। সেই আগুন তুলনামূলক ছোট ছিল। কিন্তু এবারের আগুন ভয়াবহ। আমারসহ ৭০টির মতো গুদাম পুড়ে অন্তত ১০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। আগুন আমাদের পথে বসিয়ে দিয়েছে। ’

টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা ইকবাল হাসান জানান, আগুন দ্রুত মার্কেটের অন্যান্য গুদামে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে টঙ্গী ফায়ার স্টেশনের পাঁচটি এবং পরে উত্তরা ও হেডকোয়ার্টার থেকে আরো দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। চার ঘণ্টার চেষ্টায় দুপুর ২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল হালিম জানান, গুদামগুলোর ঝুট কাপড়গুলো ছিল অ্যাথরেটিক ও পলিয়েস্টার জাতীয়। যার জন্য আগুনে পানি দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আরো বেশি আকারে জ্বলে ওঠে। গুদামঘরগুলোও তৈরি করা হয়েছে অপরিকল্পিতভাবে। এ ধরনের ব্যবসা করতে হলে গুদামে আগুন নেভানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। শেডগুলো একীভূত হওয়ার কারণে কতগুলো ঘর পুড়েছে তা নিশ্চিত করা যায়নি। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর ক্ষতিগ্রস্ত ঘরের সংখ্যা এবং ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে।



সাতদিনের সেরা