kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৯ ডিসেম্বর ২০২১। ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

‘জিয়া মুক্তিযোদ্ধা হলে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করতেন’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘জিয়া মুক্তিযোদ্ধা হলে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করতেন’

জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা হলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের বিচার করতেন বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। সংসদ অধিবেশনে বিল পাসের প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড এবং ওই ঘটনার বিচার কার্যক্রম বন্ধে ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি’র বিষয়টি নিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য মো. হারুনুর রশিদের বক্তব্যের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

গতকাল শনিবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপিকে আমার প্রশ্ন, যদি খুনি জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা হতেন; কেউ কি তাঁর হাতটা চেপে ধরেছিল যে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করা যাবে না? কেউ কি তাঁর হাতটা চেপে ধরেছিল যে ২৬ সেপ্টেম্বর এই ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স পাস করা হয়েছে, এই অর্ডিন্যান্স বাতিল করা যাবে না? এ রকম তো কেউ করেনি। উনি এই বিচারটা করলেন না কেন?’ তিনি বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত আপনারা বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা হিসেবে গ্রহণ না করবেন, ততক্ষণ তর্ক-বিতর্ক বন্ধ হবে না। আপনারা গ্রহণ করেন আর না করেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তাতে কিছু যায়-আসে না। তার কারণ, তিনি সত্যি সত্যিই জাতির পিতা। বাঙালি জাতি সেটা জানে এবং বাঙালি জাতি সেটা ধরে রাখবে। সেখানে এই বিতর্ক চলবেই, যতক্ষণ পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনীতিকে পাকিস্তানীকরণে বিএনপির যে উদ্দেশ্য ছিল, সেটা ধুয়েমুছে শেষ হয়ে না যাচ্ছে।’

আনিসুল হক বলেন, ‘এই সংবিধান বলেন, আর সংবিধান যদি না-ও ধরেন, এইটা জনগণের সিআরপিসিতে অধিকার। কোর্ট অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউরেও অধিকার যে একটা হত্যাকাণ্ড যদি সংঘটিত হয় বা একটা অপরাধ যদি সংঘটিত হয়, সে থানায় গিয়ে একটা এজাহার দায়ের করতে পারে। সেই অধিকারটুকুও হরণ করে নিয়েছিলেন ২১ বছর, এটাও কারেক্ট করেননি। আর আজকে আপনি বিএনপির সংসদ সদস্য হয়ে বলছেন যে এই তর্ক-বিতর্ক বন্ধ হোক।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘উনি (হারুনুর রশিদ) বললেন যে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ১৫ আগস্ট সম্পর্কে শোকের মাসের যে আলোচনাসভা সেখানে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দরা কোথায় ছিল? প্রধানমন্ত্রী তো এই সৎসাহস দেখিয়েছেন যে তিনি এটা প্রশ্ন করেছেন। তার মানেই তিনি এটা কগনিজেন্সে নিয়েছেন। সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদ বিএনপির ব্যাপারে যেটা বলছেন, সেটা যদি সত্য হতো তাহলে আমি খুশি হতাম।’

আনিসুল হক বলেন, ‘সেদিন সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের এখন যে সম্পাদক, তিনি বিএনপি সমর্থিত একজন ভালো ক্যাডার। তিনি উল্লেখ করেছেন, কালুরঘাটে সেদিন যদি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা না দিতেন এবং যদি গুলি না করতেন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ওপরে তাহলে স্বাধীনতা কোথায় থাকত সেইটা তিনি উল্লেখ করেছেন। ইতিহাস নাকি অন্য রকম হতো। যারা এখনো স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে, আমরা যেখানে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করছি, সেখানে যারা এ রকম মিথ্যা কথা বলার ধৃষ্টতা দেখায় তাদের কি কোনো পরিবর্তন হয়েছে বলে কেউ মনে করবে?’

এর আগে গান্ধী আশ্রম ট্রাস্ট বিলের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির হারুনুর রশিদ বলেন, হানাহানি ও প্রতিহিংসার রাজনীতির মধ্য দিয়ে দেশ পরিচালনা করা হচ্ছে। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষমতাকে কুক্ষিগত করেছে। তিনি আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন তুলেছেন, ১৫ আগস্টের সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কোথায় ছিল? ওই সময়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল। পার্লামেন্ট ছিল আওয়ামী লীগের। বঙ্গবন্ধুর লাশকে সৎকার না করে সংসদ বহাল রেখে নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নিয়েছে। যাঁরা শপথ নিয়েছিলেন তাঁরা সবাই আওয়ামী লীগের। আমরা ৪৫ বছর আগের ওই ঘটনা নিয়ে বিতর্ক করতে চাই না। আমরা বঙ্গবন্ধুকে সম্মান জানাতে চাই। জাতীয় নেতাদের সম্মান জানাতে চাই।’ যার যেটা প্রাপ্য তাকে সেটা দেওয়ার মাধ্যমে জাতির কল্যাণ হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।



সাতদিনের সেরা