kalerkantho

বুধবার । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৮ ডিসেম্বর ২০২১। ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

‘চাকরির জন্য সৌদি আরবে মেয়েদের পাঠানো ঠিক না’

সিরাজগঞ্জে গৃহবধূকে এসিড নিক্ষেপের ঘটনায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড বহাল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে গৃহবধূকে এসিড নিক্ষেপের ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী মো. আকবর আলী ওরফে জেলহক মণ্ডলের মৃত্যুদণ্ডের সাজা বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আসামির আপিল আবেদন খারিজ করে গতকাল বুধবার এ রায় দেন। আদালতে আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট ফরিদ আহমেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মেহেদী হাসান চৌধুরী।

সাড়ে ১৩ বছর আগের ঘটনায় আসামি মো. আকবর আলী ওরফে জেলহক মণ্ডল শাহজাদপুর উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের আমির হোসেন মণ্ডলের ছেলে।

রায়ের আগে শুনানিতে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘সৌদি আরবে মেয়েদের চাকরির জন্য পাঠানো ঠিক না। সেখানে যা হয়...।’ তিনি বলেন, স্বামী-স্ত্রী একই সঙ্গে রাতে ঘরে ছিলেন। স্ত্রী এসিড আক্রান্ত হলেন। আর স্বামী ঘর ছেড়ে পালালেন? এর দায় তাঁকেই নিতে হবে। আদালত বলেন, গৃহবধূকে গৃহকর্মী হিসেবে সৌদি নিতে চাচ্ছিলেন স্বামী। এ থেকেই বোঝা যায়, সেখানে স্ত্রীকে নিয়ে কী করা হতো।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, সৌদি আরবফেরত আকবর আলীর সঙ্গে ভুক্তভোগীর ২০০৬ সালের ৪ সেপ্টেম্বর বিয়ে হয়। বিয়ের পর আকবর আবার সৌদি আরব চলে যান। এর কয়েক মাস পর দেশে ফিরে স্ত্রীকে সৌদি আরব নিয়ে যেতে চাইলে এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রী ও দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ হয়। এই ঘটনার জের ধরে ২০০৮ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে স্ত্রীর গায়ে এসিড ঢেলে দেন আকবর। আহত গৃহবধূকে উদ্ধার করে পাবনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাঁকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এই ঘটনায় পরদিন ১৯ ফেব্রুয়ারি ভুক্তভোগীর বাবা একই উপজেলার বড় বাসুরিয়া গ্রামের মো. আব্দুল আউয়াল শেখ জামাতার বিরুদ্ধে শাহজাদপুর থানায় মামলা করেন। এই মামলায় ২০০৯ সালে আত্মসমর্পণ করেন আকবর। এরপর সিরাজগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালত বিচার শেষে ২০০৯ সালের ২৩ আগস্ট এক রায়ে এসিড অপরাধ দমন আইনের ৫ (ক) ধারায় আকবরকে মৃত্যুদণ্ড দেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে ডেথ রেফারেন্স ও কারাবন্দি আসামির আপিল শুনানি শেষে হাইকোর্ট আকবরের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে ২০১৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর রায় দেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে আসামি আপিল বিভাগে আপিল করেন।



সাতদিনের সেরা