kalerkantho

শনিবার ।  ২১ মে ২০২২ । ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৯ শাওয়াল ১৪৪৩  

পল্লবীতে মুসা-হারুনের ভয়ংকর কিশোর গ্যাং

জহিরুল ইসলাম   

২৮ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রাজধানীর পল্লবী এলাকার বাউনিয়া বাঁধ, শহীদবাগ, আদর্শনগর ও কালশী এলাকায় কিশোর গ্যাং সদস্যদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ স্থানীয় লোকজন। নির্যাতনের শিকার হলেও ভয়ে কেউ সরাসরি নাম মুখে আনছে না। গ্যাংয়ের এসব সদস্য চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক পরিবহন, হাঙ্গামা, বিভিন্ন দোকানে ফাউ খাওয়া, মাদক সেবন, যৌন হয়রানিসহ নানা অপরাধে জড়িত। পুলিশের হাতে ধরা পড়লেও নানা কারণে ছাড়া পেয়ে যায় তারা।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ সূত্র জানায়, এলাকায় মুসা-হারুন দুই ভাইয়ের রয়েছে বেশ কয়েকটি কিশোর গ্যাং। মুসাকে সম্প্রতি গ্রেপ্তার করা হলেও তার শিষ্যরা তৎপর।

পুলিশ ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্থানীয় প্রভাবশালীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে কিশোরদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে। করোনার আগে অনেক কিশোর বিভিন্ন কাজে জড়িত থাকলেও এখন বেকার। এদের কেউ মাদক কারবারে জড়াচ্ছে, আবার কেউ ছিনতাইয়ের মতো ঘটনাও ঘটাচ্ছে। কথিত বড় ভাইদের মদদে গ্যাংয়ের সদস্যরা তুচ্ছ ঘটনায় মারামারি-কাটাকাটাটিতে জড়াচ্ছে। বাধা দিতে গিয়ে লাঞ্ছনার ঘটনাও অনেক।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পল্লবী সিরামিক রোডের আলামীন হোটেলের সামনে কয়েকজন কিশোর বাগবিতণ্ডায় লিপ্ত। ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই দুই-তিন মিনিট হৈচৈয়ের পর আবার সব নীরব। পরে জানা যায়, এমন ঘটনা নিয়মিত। পল্লবী ২ নম্বর রোডের মিনার গ্রুপ আর পার্ক লাইনের মাসুদ গ্রুপের কয়েকজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। এ সময় হাতাহাতির ঘটনায় দুই পক্ষের কয়েকজন আহত হয়। মুক্তার হোসেন নামের স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘বিহারি ক্যাম্পের এক মেয়েকে নিয়ে ঝামেলা। দুই গ্রুপের মধ্যে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়। আল্লাহ মাফ করছেন, খুনাখুনি হয়নি। ’

বড় মসজিদ এলাকার বাসিন্দা খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘এক যুগ আগেও পোলাপান মুরব্বিদের যে সম্মান করত এখন তার ধারেকাছেও নাই। প্রকাশ্যে সিগারেট টানতে যেখানে কিশোর বয়সের পোলাপান ভয় পেত, এখন সামনাসামনি গাঁজার দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ’

বিহারি ক্যাম্পের কয়েক হাত দূরের এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করে কালের কণ্ঠকে বলেন, কিশোররা গ্রুপে গ্রুপে ভাগ হয়ে ঘুরে বেড়ায়। কিশোরী-তরুণীদের দেখলে যা খুশি তা-ই করে। প্রতিবাদ করলে অথবা অন্য কারো কাছে বিচার দিলে মারামারি-কাটাকাটি শুরু হয়; যার জন্য অনেকে চুপ থাকে।

কালাপানি ক্যাম্প (বর্তমান ৪ নম্বর রোডের পশ্চিম পাশে পল্লবী শহীদবাগ বিহারি ক্যাম্প) কেন্দ্র করে মাদক কারবার আর কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বাড়ছে। মাজেদ আলী নামের স্থানীয় একজন জানান, ক্যাম্পের চারপাশে রাস্তা থাকায় মিরপুর ১২ নম্বর, সেগুফতা, কালশী পর্যন্ত মাদক ছড়িয়ে পড়ছে।

জানা যায়, ইভ টিজিং, মারধর, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, মাদক কারবার, ছিনতাই এমনকি খুনের মতো অপরাধেও জড়িয়ে পড়ছে কিশোর গ্যাং। বর্তমানে এলাকার ত্রাস কিশোর গ্যাং মুসা-হারুন গ্রুপ। এই বাহিনীর সদস্যরা দল বেঁধে দাপিয়ে বেড়ায় সারা পল্লবী এলাকা। ওই গ্যাংয়ের নেতা মুসা ও হারুন দুই ভাই পল্লবী বাউনিয়া বাঁধ এলাকার বাসিন্দা। এলাকায় মুসা গাঁজা মুসা ও হারুন ইয়াবা হারুন নামে পরিচিত।

সম্প্রতি ইয়াবা বিক্রির সময় হাতেনাতে মুসাকে গ্রেপ্তার করে পল্লবী থানার পুলিশ। বর্তমানে মাদক মামলায় কারাগারে থাকলেও আরেক নেতা হারুন ও তাদের মদদদাতা স্বপন ওরফে চোরা স্বপন এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অপরাধ ও অপকর্ম করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

পল্লবী থানার ওসি পারভেজ ইসলাম বলেন, ‘বিহারি ক্যাম্পের ভেতরে মাদক কারবার চলছে। এটা নিয়ে আমরা কাজ করছি। গ্রেপ্তার করছি। আগে আরো ভয়াবহ অবস্থা ছিল। এখন প্রায় প্রতিদিনই মাদক ধরা পড়ছে। গত শুক্রবার তিন হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। অলিগলিতে মাদকের কারবার চলে। বিহারি ক্যাম্পের রাস্তাগুলো ছোট হওয়ায় পুলিশের গাড়ি বা মোটরসাইকেল নিয়ে ঢোকা যায় না। ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে অপরাধীরা চম্পট দেয়। এ ছাড়া গলির মুখের দোকানপাটের লোকজন আগেই তাদের খবর দিয়ে দেয়। ’



সাতদিনের সেরা