kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

ইভ্যালি থেকে সরে দাঁড়াচ্ছে যমুনা গ্রুপ

অডিট শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণার দায়ে অভিযুক্ত ইভ্যালি থেকে সরে দাঁড়াবে যমুনা গ্রুপ। গ্রুপের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে এক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের কথা জানানো হলেও কোনো টাকা বিনিয়োগের আগেই ওই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার কথা ভাবছেন যমুনার শীর্ষ কর্মকর্তারা। তবে যমুনার উদ্যোগে ইভ্যালিতে চলমান অডিট (নিরীক্ষা) শেষে তা চূড়ান্তভাবে জানানো হবে।

যমুনা গ্রুপের মার্কেটিং, সেলস ও অপারেশনস পরিচালক মোহাম্মদ আলমগীর আলম গতকাল শুক্রবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিনিয়োগের আগে ইভ্যালির গ্রাহকদের ও পণ্য সরবরাহকারীদের পাওনা বা দায়দেনা নির্ধারণের লক্ষ্যে যমুনা গ্রুপের উদ্যোগে অডিট চলছে।

বিজ্ঞাপন

যেহেতু এখনো অডিট কার্যক্রম শেষ হয়নি এবং অডিটের চূড়ান্ত রিপোর্ট যমুনা গ্রুপের হাতে এখনো আসেনি, তাই ইভ্যালিতে বিনিয়োগের বিষয়ে যমুনা গ্রুপ এখনো চূড়ান্ত কোনো অফিশিয়াল বিবৃতি দিতে প্রস্তুত নয়। অডিট শেষ হলে যথাসময়ে যমুনা গ্রুপ বিনিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত ও বিস্তারিত কর্মপদ্ধতি মিডিয়ার সামনে প্রকাশ করবে। ’

গত ২৭ জুলাই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে যমুনা গ্রুপ ইভ্যালিতে এক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়। প্রাথমিকভাবে ২০০ কোটি টাকা, এরপর ধাপে ধাপে মোট এক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করার কথা ছিল। এমন বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়েছিলেন ইভ্যালির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ রাসেল। কিন্তু মাত্র এক মাসের মাথায় বিতর্কিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানটি থেকে যমুনা গ্রুপের সরে আসার আভাস পাওয়া গেল।

যমুনা গ্রুপের পরিচালক মনিকা ইসলাম একটি গণমাধ্যমকে গত বৃহস্পতিবার ইভ্যালিতে বিনিয়োগ থেকে সরে আসার কথা জানান। এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, বাজারে ইভ্যালির রেপুটেশনের খারাপ অবস্থা। ইভ্যালির নেটওয়ার্ক ছাড়া কিছুই নেই। এমন প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগে যমুনা গ্রুপের রেপুটেশন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কায় তারা সিদ্ধান্ত বদলাতে যাচ্ছে।

মোহাম্মদ আলমগীর আলম বলেন, ‘আমরা নীতিগতভাবে বিজনেস অপরচুনিটি মনে করে সিদ্ধান্তটি নিয়েছিলাম। একটি কম্পানি অধিগ্রহণ করলে ঋণের দায়ও চলে আসে। আমরা অডিটের রিপোর্টের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব। ’ যমুনা গ্রুপ চুক্তির পর গত এক মাসে ইভ্যালিতে এখনো কোনো বিনিয়োগ করেনি বলে জানান তিনি।

এদিকে ইভ্যালির বিরুদ্ধে তদন্তে নেমেছে সরকারি একাধিক সংস্থা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইভ্যালির দায়দেনার হিসাব চেয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকও এর এমডি ও চেয়ারম্যানের ব্যাংক হিসাব তলব করেছে।

গত বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ইভ্যালির পক্ষ থেকে জমা দেওয়া দায়দেনার হিসাবে দেখা যায়, দুই লাখ ১৪ হাজার গ্রাহক ইভ্যালির কাছে পণ্য কেনার জন্য বুকিং দিয়েছেন। গত ১৫ জুলাই পর্যন্ত বুকিং বাবদ গ্রাহকরা ইভ্যালির কাছে ৩১০ কোটি টাকা পাবেন। গ্রাহকদের কাছ থেকে আগাম অর্থ নিয়ে যথাসময়ে পণ্য সরবরাহ না করা কিংবা অর্থ ফেরত (রিফান্ড) না দেওয়া এবং পণ্য সরবরাহকারী মার্চেন্টদের বকেয়া পরিশোধ না করায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইভ্যালির বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। ইভ্যালির কাছ থেকে সব কটি প্রতিবেদন পাওয়ার পর আন্ত মন্ত্রণালয় বৈঠকে ইভ্যালির ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে বলে জানা গেছে।

আলোচিত ওই ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে মামলা হয়েছে, তাঁদের দেশত্যাগে জারি হয়েছে নিষেধাজ্ঞা।

যমুনা গ্রুপের এই অবস্থানের বিষয়ে ইভ্যালির মোহাম্মদ রাসেলের বক্তব্য জানতে তাঁকে কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তাঁদের জনসংযোগ প্রতিষ্ঠানও এ বিষয়ে কিছু জানাতে পারেনি।



সাতদিনের সেরা