kalerkantho

শুক্রবার । ৭ মাঘ ১৪২৮। ২১ জানুয়ারি ২০২২। ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

খুলেছে চিড়িয়াখানা বিপুল দর্শনার্থী

আগ্রহের কেন্দ্রে হাতির ফুটবল খেলা আর বাঘশাবক

মোবারক আজাদ   

২৮ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খুলেছে চিড়িয়াখানা বিপুল দর্শনার্থী

খুলে দেওয়া হয়েছে রাজধানীর জাতীয় চিড়িয়াখানার দরজা। গতকাল শুরুর দিনই পশুপাখি দেখতে ভিড় জমায় বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী। ছবি : মীর ফরিদ

করোনা সংক্রমণে সৃষ্ট নিস্তব্ধতা ভেঙে সরব হয়ে উঠেছে রাজধানীর জাতীয় চিড়িয়াখানা। দর্শনার্থীর জন্য গতকাল শুক্রবার খুলে দেওয়া হয়েছে দরজা। আর শুরুর দিনেই বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী ভিড় জমিয়েছে। ওদিকে টানা প্রায় পাঁচ মাস দর্শনার্থী প্রবেশ বন্ধ থাকায় গোটা চিড়িয়াখানা যেন পশুপাখির প্রজননের উত্কৃষ্ট স্থান হয়ে ওঠে।

বিজ্ঞাপন

সে সুবাদে বেড়েছে পশুপাখির সংখ্যা।

দর্শনার্থীরাও গতকাল চিড়িয়াখানায় প্রবেশ করেই নতুন নতুন অতিথির দেখা পেয়েছে। এগুলোর মধ্যে গত ২৬ মে বাঘ দম্পতি টগর-বেলীর ঘরে জন্ম নেওয়া দুর্জয় ও অবন্তিকা ছিল দর্শনার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এই দুই শাবকের খাঁচার সামনে ছিল দর্শনার্থীর ভিড়। দর্শনার্থীর দৃষ্টি কেড়ে নিয়েছে হাতির ফুটবল খেলাও।

বাঘশাবক দুর্জয় ও অবন্তিকার খাঁচার সামনে গতকাল দুপুরের দিকে কথা হয় কায়সার হামিদ নামের এক দর্শনার্থীর সঙ্গে। সোবহানবাগ এলাকা থেকে দুই সন্তান নিয়ে ঘুরতে আসা এই দর্শনার্থী বলেন, ‘মিডিয়াতে কয়েক দিন ধরেই শুনছি বাঘশাবক দুর্জয় ও অবন্তিকার কথা। আজ নিজ চোখে ওদের দেখলাম। সন্তানরাও ছোট বাঘ দেখে বিপুল আনন্দ পেয়েছে। ’ 

কায়সারের মতোই অন্য অনেক দর্শনার্থী কৌতূহল ও আগ্রহ নিয়ে দুর্জয় ও অবন্তিকাকে দেখতে চিড়িয়াখানায় এসেছে। অন্যদিকে বিনোদনে নতুনত্ব দিতে দর্শনার্থীদের জন্য চিড়িয়াখানায় দুটি হাতির ফুটবল খেলা দেখিয়েছে কর্তৃপক্ষ। খেলায় নানা কসরত করে দর্শনার্থীদের আনন্দ দিয়েছে হাতি সুন্দরী ও রাজা বাহাদুর।

শামসুল আরেফিন নামের এক দর্শনার্থী বলেন, ‘প্রথমবারের মতো মা ও ছোট ভাইকে নিয়ে হাতির ফুটবল খেলা দেখলাম। আমরা সবাই বেশ উপভোগ করেছি। ’

করোনা সংক্রমণের কারণে চার মাস ২৫ দিন টানা বন্ধ ছিল মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানা। গতকাল খোলার প্রথম দিনেই সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত টিকিট কাউন্টার ও প্রবেশপথে ছিল লম্বা লাইন। বন্ধুবান্ধবের পাশাপাশি পরিবার নিয়েও ঘুরতে এসেছে অনেকে। স্বাভাবিক সময়ে যেখানে ১০ থেকে ১২ হাজার দর্শনার্থী হয়, সেখানে গতকাল প্রায় ১৪ হাজার দর্শনার্থী এসেছে।

উত্তরা থেকে আসা নাজমা-আজিজ দম্পতি বললেন, ‘কয়েক মাস থেকেই শুনছি করোনায় চিড়িয়াখানা বন্ধ থাকায় প্রজননের মাধ্যমে এখানে প্রাণীর সংখ্যা বেড়েছে। এতটাই বেড়েছে যে হরিণসহ বিভিন্ন প্রাণী বিক্রির প্রচারণাও করা হয়েছে। তাই দেখতে এসেছি। চিড়িয়াখানা ঘুরে খুবই ভালো লাগল। ’

দুপুর ১২টার দিকে চিড়িয়াখানার প্রবেশপথের টিকিট চেকার মোহাম্মদ খোকন বলেন, ‘বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দর্শনার্থী বাড়ছে। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে আসছে। আমরা তাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঢুকতে দিচ্ছি। ’

এদিকে গত ১৯ আগস্ট থেকে কয়েকটি শর্তে পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্রগুলো খোলা হলেও করোনা সংক্রমণ থেকে খাঁচাবন্দি প্রাণী রক্ষায় চিড়িয়াখানা বন্ধ রাখা হয়। গতকাল চিড়িয়াখানা খোলার প্রথম দিনে দর্শনার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টি নজরদারিতে রাখা হয়। দেখা গেছে, দর্শনার্থীদের বাধ্যতামূলক মাস্ক পরার পাশাপাশি চিড়িয়াখানার ১২টি স্থানে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, সাবান ও পানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য একমুখী রাস্তা ব্যবহার, বিধি-নিষেধ মানতে সার্বক্ষণিক মাইকিং এবং ডিজিটাল ডিসপ্লেতে স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে সতর্ক করা হয়।

জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ডা. মো. আব্দুল লতিফ জানান, সর্বশেষ চার মাস ২৫ দিন বন্ধ থাকার পর জাতীয় চিড়িয়াখানা সরকারি নির্দেশনায় খুলে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে রবিবার ছাড়া সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চিড়িয়াখানা খোলা থাকবে।



সাতদিনের সেরা