kalerkantho

শনিবার ।  ২১ মে ২০২২ । ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৯ শাওয়াল ১৪৪৩  

বাণিজ্যিক ব্যাংকে রূপ নিচ্ছে সমবায় ব্যাংক

বিলের খসড়া প্রণয়ন সংসদের আগামী অধিবেশনে উত্থাপনের সম্ভাবনা

নিখিল ভদ্র   

২৮ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সমবায় ব্যাংক বিশেষায়িত বাণিজ্যিক ব্যাংকে রূপান্তর হচ্ছে। সমবায় চরিত্র ও বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে ব্যাংকটিকে একটি স্বাধীন ও স্বয়ংসম্পূর্ণ বিধিবদ্ধ আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে এসংক্রান্ত আইনের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। ‘বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক আইন-২০২১’ নামের বিলটি মন্ত্রিসভার অনুমোদন সাপেক্ষে জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনে উত্থাপন করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সম্পদের মালিকানার নীতিতে গঠিত সমবায়ী মালিকানাকে গুরুত্ব দিয়ে গঠিত বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক লিমিটেড সমবায় সমিতির সদস্যদের আমানত দিয়েই পরিচালিত হয়। কিন্তু ব্যাংকটি সীমিত আকারে পরিচালিত হওয়ায় দেশের সমবায়সংশ্লিষ্ট প্রায় সাড়ে চার কোটি মানুষের চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। কারণ ব্যাংকটির বিদ্যমান আইন ও বিধিতে ব্যবস্থাপনা, পরিচালনা ও কাঠামোবিন্যাসের বিষয়ে কিছু বলা নেই। ব্যাংকের ঋণ কার্যক্রম ব্যবস্থাপনা নিয়েও কোনো বিধান নেই। তাই নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য এ বিষয়ে কালের কণ্ঠকে বলেন, আর্থিকভাবে শক্তিশালী সমবায় কাঠামো গড়ে তুলতে সমবায় ব্যাংকের বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও বহুমুখীকরণ করা প্রয়োজন। তাই সমবায়ীদের জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা বহাল রেখে অন্যান্য ব্যাংকের মতো সব ধরনের ব্যাংকিং ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন আইন কার্যকর হলে সমবায় ব্যাংকের কার্যক্রমে গতিশীলতা আসবে। সমিতিগুলোর আমানতের ওপর নির্ভরশীলতাও অনেকাংশে কমে আসবে। সমিতির সদস্যদের মধ্যে ঋণ বিতরণের সুবিধাও বাড়বে। আর তা দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।

সমবায় ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক ও প্রধান নির্বাহী মোমিনুল হক তালুকদার কালের কণ্ঠকে বলেন, এরই মধ্যে মন্ত্রী পর্যায়ে অনুমোদনের পর প্রস্তাবিত আইনের চূড়ান্ত খসড়ার ওপর সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত চাওয়া হয়েছে। তাদের মতামত পেলে মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। তিনি আরো বলেন, সমবায় খাতে অর্থায়নের জন্য গঠিত ব্যাংকটি এখন সীমিত আকারে পরিচালিত হয়। নতুন আইন হলে কাজের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি বাণিজ্যিক লেনদেন পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন আইন কমিশন প্রস্তাবিত ‘বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক আইন-২০২১’-এর খসড়া গত ডিসেম্বরে চূড়ান্ত করেছে। প্রস্তাবিত বিলে বলা হয়েছে, ব্যাংকের শেয়ার মূল্য হবে এক হাজার কোটি টাকা। অনুমোদিত শেয়ার মূলধন এক হাজার টাকায় এক কোটি সাধারণ শেয়ারে সমভাবে বিভক্ত হবে। পরিশোধিত শেয়ার মূলধন হবে ৪০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার ৪৯ শতাংশ এবং নিবন্ধিত সমবায় সমিতি ৫১ শতাংশ দেবে। সমবায় আইনে নিবন্ধিত যেকোনো সমবায় সমিতি এই ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার হতে পারবে।

বিলের ২৩ (১) ধারায় বলা হয়েছে, ব্যাংকটি নির্ধারিত মেয়াদ ও শর্ত সাপেক্ষে জামানতসহ বা ব্যতীত নগদ বা বস্তুগত ঋণ দিতে পারবে। বিলের ২৫ ধারায় ব্যাংক থেকে ১০ লাখ টাকার অধিক ঋণ প্রদানে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তিপত্র গ্রহণের বিধানের কথা বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া যাবে।

প্রস্তাবিত আইনের ৪০ ধারায় বলা হয়েছে, প্রেষণে নিযুক্ত কর্মকর্তা ছাড়া সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী নতুন ব্যাংকে আত্তীকৃত হবে। এ ক্ষেত্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কমানো ও বাড়ানোর বিধান রাখা হয়েছে। কারো ব্যাংকের সিদ্ধান্ত পছন্দ না হলে স্থায়ীদের ক্ষেত্রে ছয় মাসের বেতনের সমপরিমাণ এবং অস্থায়ীদের ক্ষেত্রে তিন মাসের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণসহ অন্যান্য প্রাপ্য নিয়ে চাকরি থেকে অব্যাহতি নিতে পারবেন।

নতুন ব্যাংকের পরিচালনা বোর্ডে চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ১৬ জন সদস্যের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বিধান অনুযায়ী, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় ব্যাংকের সচিব পদাধিকারবলে এই বোর্ডের চেয়ারম্যান হবেন। অথবা পল্লী ও সমবায় বিষয়ে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সচিব পদমর্যাদার নিচে নয়, এমন একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দিষ্ট মেয়াদে সরকার চেয়ারম্যান নিয়োগ দিতে পারবে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক হবেন এই ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী। কোনো তফসিলি ব্যাংকে উপব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালনে অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে সরকার ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ দেবে।

এ ছাড়া ব্যাংকের পরিচালনা বোর্ডে থাকবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মনোনীত নির্বাহী পরিচালক পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও অর্থ বিভাগ মনোনীত যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার দুজন প্রতিনিধি, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা, সমবায় বিভাগের অতিরিক্ত নিবন্ধক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ দুজন প্রতিনিধি এবং ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার সমবায় সমিতি থেকে একজন ভাইস চেয়ারম্যান ও ছয়জন প্রতিনিধি।



সাতদিনের সেরা