kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২ ডিসেম্বর ২০২১। ২৬ রবিউস সানি ১৪৪৩

চিনির দর আকাশছোঁয়া ভোগাচ্ছে ভোজ্য তেলও

বেড়েছে সবজির দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চিনির দর আকাশছোঁয়া ভোগাচ্ছে ভোজ্য তেলও

করোনার বৈরী সময়ে বাজার থেকে জুস কিনে খাওয়ার সামর্থ্য হারিয়েছেন অনেকেই। তাঁদের ভরসা লেবুর শরবতে। কিন্তু তাতেও বাদ সাধছে চিনির দাম। লেবু সস্তায় মিললেও চিনির দর আকাশ ছুঁয়েছে।

শুধু চিনি নয়, সপ্তাহের ব্যবধানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যে অন্যতম ভোজ্য তেলের দামও বেড়েছে। বেড়েছে সব ধরনের সবজির দামও।

খোলা চিনির কেজি এখন কোথাও কোথাও ৮০ টাকা পেরিয়ে গেছে। তবে অনেক জায়গায়ই পাওয়া যাচ্ছে ৭৫ থেকে ৭৮ টাকায়। আর প্যাকেট চিনি কিনতে লাগছে ৮৪ টাকা পর্যন্ত। অথচ সপ্তাহ দেড়েক আগেও খোলা চিনি ছিল ৭০ টাকা কেজি।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাব বলছে, গত বছর এই সময় চিনির দাম ছিল ৫৮ থেকে ৬৫ টাকা কেজি। সেই হিসাবে চিনির দাম বেড়েছে কেজিতে ২০ টাকার বেশি।

গতকাল বৃহস্পতিবার হাতিরপুল বাজারে পণ্য কিনতে আসা ক্রেতা মো. কবির হোসেন বলেন, ‘প্রতিটি বাড়িতেই প্রতিদিন কিছু না কিছু চিনি লাগে। বিশেষ করে করোনা ও গরমের এই সময়ে শরবত খেতে চিনির প্রয়োজন হয়। এ ছাড়া চা, সেমাইসহ অন্যান্য খাবারেও লাগে চিনি। তবে যে হারে চিনির দাম বেড়েছে তাতে এসব খাওয়া ছেড়ে দিতে হবে। শুধু চিনি নয়, মাছ, তরকারি, তেল—সব কিছুর দামই বাড়তি। সাধারণ ভোক্তা কোথায় যাবে?’

সয়াবিন তেলের ক্ষেত্রে টিসিবির বাজারমূল্য তালিকা বলছে, এক মাস আগে খোলা সয়াবিন তেলের দাম ছিল ১১৫ থেকে ১১৮ টাকা লিটার। গত সপ্তাহে তা বেড়ে ওঠে ১২৪ থেকে ১২৬ টাকায়। চলতি সপ্তাহে তা বিক্রি হচ্ছে ১২৫ থেকে ১২৮ টাকা লিটার।

সয়াবিনের সঙ্গে বেড়েছে পাম তেলের দামও। ১১০ থেকে ১১৪ টাকা লিটারের পাম সুপার তেল এখন ১১৬ থেকে ১২০ টাকা।

গত বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এক বৈঠকে ব্যবসায়ীরা খুচরায় চিনির দাম ৭৫ থেকে ৮০ টাকা করার সুপারিশ করেন। আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়াকে তেল ও চিনির দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তাঁরা।

চলতি সপ্তাহে সব ধরনের সবজি ও মুরগির দামও বেড়েছে আরেক দফা। মাছ, মাংস ও ডিমের বাড়তি দামও কমেনি। তবে স্থিতিশীল রয়েছে পেঁয়াজ, রসুন ও আদার বাজার।

মালিবাগ কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, সব ধরনের সবজির দামই ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, বর্ষা মৌসুমের অনেক সবজির সরবরাহ কমে এসেছে। এতে দামও বাড়ছে। নতুন করে আবার উৎপাদন শুরু হলে দাম কমে আসবে। বাজারে গড়ে সবজির দাম এখন ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি, যা এক সপ্তাহ আগে ৪০ থেকে ৫০ টাকা ছিল। কিছু সবজির দাম ৮০ টাকা ছাড়িয়েছে, যা আগের সপ্তাহে ৬০ টাকার মধ্যে পাওয়া যেত। পটোল, ঢেঁড়স, বেগুন, শসা, চিচিঙ্গা চিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি। বরবটি, টমেটো, গাজর, শিমসহ কয়েক ধরনের সবজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১২০ টাকায়। পেপের দাম কিছুটা কম, ৩০ টাকা কেজি। লাউ ৪০ থেকে ৬০ টাকা পিস। এ ছাড়া কাঁচা মরিচের দাম কিছুটা কমেছে, কেজিপ্রতি ১২০ থেকে ১৪০ টাকা চাইলেন বিক্রেতারা। বাজারে এখন সবচেয়ে সস্তা লেবু। মাঝারি লেবুর হালি মিলছে ১৫ থেকে ২০ টাকায়। কিছুটা বড় লেবুর হালি ২০ থেকে ২৫ টাকা। ছোটগুলো পাওয়া যায় পাঁচ থেকে ১০ টাকার মধ্যে।

আলু আগের মতোই ২৫ টাকা কেজি পর্যন্ত রাখছেন ব্যবসায়ীরা। এ ছাড়া পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমেছে। ৪৩ থেকে ৪৫ টাকায় মিলছে দেশি পেঁয়াজ। রসুনের দাম ১২০ টাকার মধ্যে রয়েছে। এ ছাড়া চায়না আদা ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

মাছের মধ্যে ইলিশের দাম কিছুটা কমেছে। এক কেজি থেকে দেড় কেজির মধ্যে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে এক হাজার থেকে এক হাজার ১০০ টাকা কেজি। এক কেজির নিচে ইলিশ হাজার টাকার কমে পাওয়া যায়। এ ছাড়া দেশি টাকি, টেংরা, কইসহ ছোট মাছগুলোর দামও আগের চেয়ে কিছুটা কম। বিক্রি হচ্ছে কেজি ২০০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে।



সাতদিনের সেরা