kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২ ডিসেম্বর ২০২১। ২৬ রবিউস সানি ১৪৪৩

জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

চন্দ্রিমায় জিয়ার লাশ নাই জেনেও কেন নাটক

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৭ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানের লাশ নেই, তা খালেদা জিয়াসহ বিএনপির নেতারাও ভালো করেই জানেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনাসভায় অংশ নিয়ে এই মন্তব্য করেন তিনি। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সভায় যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী।

সম্প্রতি চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে জড়ানোর প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, ‘চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়ার কবরে গিয়ে ওই যে মারামারি করল বিএনপি, বিএনপি জানে না যে সেখানে জিয়ার কবর নাই? জিয়া নাই ওখানে? জিয়ার লাশ নাই? তারা তো ভালোই জানে। তাহলে এত নাটক করে কেন?’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়াও ভালোভাবে জানেন। খালেদা জিয়া বা তারেক জিয়া কি বলতে পারবেন যে তাঁরা লাশ দেখেছেন? গুলি খাওয়া লাশ তো দেখাই যায়। তাঁরা কি দেখেছেন কখনো? বা কোনো একটা ছবি দেখেছে কেউ? দেখেনি। কারণ, ওখানে কোনো লাশ ছিল না।’

তিনি বলেন, ‘ওখানে একটা বাক্স আনা হয়েছিল। আর সেখানে ওই বাক্সের ফাঁক থেকে যারা দেখেছে একটু, এরশাদের মুখ থেকেই শোনা, কমব্যাট ড্রেস পরা ছিল। জিয়াউর রহমান তো তখন প্রেসিডেন্ট। তখন তো সে কমব্যাট ড্রেস পরে না। এটা কি বিএনপির লোকেরা জানে না? তাদের সেখানে গিয়ে মারামারি, ধস্তাধস্তি করার চরিত্র তো এখনো যায়নি।’

গত ১৭ আগস্ট চন্দ্রিমা উদ্যানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হন বিএনপির অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী। সে সময় পরিকল্পনা কমিশনের সচিবের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় তিনটি মামলা করা হয়েছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর দেশের কোনো উন্নয়ন হয়নি বরং দেশ পিছিয়ে যায় মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতাকে হত্যার পর জিয়াউর রহমান, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, খালেদা জিয়া যাঁরাই ক্ষমতায় এসেছেন তাঁরা দেশের কোনো উন্নতি করেননি। তাঁদের শাসনামলে, বিশেষ করে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে দেশে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, মেধাবী ছাত্রদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া এবং দেশটাকে একেবারে শেষ করে দেওয়ার চক্রান্ত হয়েছিল।’

ওই সময় আওয়ামী লীগের অগণিত নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার, অত্যাচার-নির্যাতন হয়েছিল জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আর কিছু প্রচার করেছেন সে (জিয়াউর রহমান)। জিয়া নাকি গণতন্ত্র দিয়েছে। যে দেশে প্রতি রাতে কারফিউ থাকে সেটা আবার গণতন্ত্র হয় কিভাবে? ভোট চুরি থেকে শুরু করে সব কিছুই কিন্তু এই জিয়াউর রহমান শুরু করেছে এবং সংবিধান লঙ্ঘন করা, সেটাও জিয়াউর রহমান করেছে। আমাদের সৌভাগ্য যে হাইকোর্টের একটা রায়ে জিয়ার ক্ষমতা দখল, এরশাদের ক্ষমতা দখল, মার্শাল ল দিয়ে যে ক্ষমতা দখল, সেগুলোকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।’

জিয়াউর রহমানকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভার সদস্য খন্দকার মোশতাক বঙ্গবন্ধু হত্যার চক্রান্ত করেছিল বলেও জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘সেই (জিয়া) ছিল তার (খন্দকার মোশতাক) শক্তি, মূল শক্তির উৎস। কারণ ক্ষমতা যদি এভাবে দখল করতে হয়, হত্যাকাণ্ড যদি চালাতে হয় তাহলে সামরিক বাহিনীর নিশ্চয়ই কিছু সহযোগিতা তার দরকার ছিল এবং সেই মোশতাক-জিয়া মিলেই কিন্তু এই চক্রান্তটা করেছিল।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘মোশতাক জিয়ার ওপর নির্ভর করে যে রাষ্ট্রপতি হয়েছিল, কত দিন থাকতে পেরেছিল? থাকতে কিন্তু পারে নাই। মীরজাফরও পারে নাই। মীরজাফর সিরাজউদদৌলার সঙ্গে বেঈমানি করে নবাব হয়েছিল, কিন্তু তিন মাসও পূর্ণ করতে পারে নাই। কারণ বেঈমানদের ব্যবহার করে সবাই, কিন্তু তাদের বিশ্বাস করে না। ঠিক জিয়াউর রহমান সেই কাজ করেছিল। মোশতাকও কিন্তু তিন মাস পূর্ণ করতে পারে নাই। তাকে বিদায় নিতে হয়েছে।’

জেলখানায় হত্যাকাণ্ডও জিয়াউর রহমানের নির্দেশে হয় মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সে-ই করেছে। কারণ সে তখন সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী এবং সে এতই মোশতাকের আস্থাভাজন ছিল যে মোশতাক নিজেকে অবৈধভাবে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কিন্তু জিয়াউর রহমানকেই সেনাবাহিনী প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেয়।’

জাতির পিতাকে হত্যার আগে তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত হচ্ছে এটা শোনা গেলেও বঙ্গবন্ধু কখনোই তা বিশ্বাস করতেন না জানিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘তিনি তো বাংলাদেশের মানুষকে গভীরভাবে ভালোবাসতেন। তাঁকে অনেক রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান—এমনকি ইন্দিরা গান্ধী নিজেও বলেছেন। উনি (বঙ্গবন্ধু) বলেছেন, ওরা আমার ছেলে, আমার সন্তানের মতো। ওরা আমাকে কেন মারবে? উনার একটা অন্ধবিশ্বাস এ দেশের মানুষের ওপর ছিল যে উনার গায়ে কেউ হাত দেবে না, কেউ মারবে না। কিন্তু যারা ঘরের, সেখান থেকেই ষড়যন্ত্র।’

আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয় প্রান্তে এই সময় ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মান্নাফি, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবিরসহ মহানগর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র : বাসস।



সাতদিনের সেরা