kalerkantho

বুধবার । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৮ ডিসেম্বর ২০২১। ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

জোয়ারে ডুবছে উপকূলের নিম্নাঞ্চল হুমকির মুখে জীবন-জীবিকা

মিট দ্য প্রেসে সংসদ সদস্যরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে জনজীবনে সংকট প্রতিনিয়ত বাড়ছে। সুপার সাইক্লোন আম্ফান ও ইয়াসের আঘাত সংকট আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। আগে ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে জনজীবনে ভোগান্তি বাড়লেও এখন তা নিত্যদিনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপকূল রক্ষাবাঁধ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এখন স্বাভাবিক জোয়ারের পানিতেই উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ফলে ওই অঞ্চলের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।

উপকূলীয় জনপদের প্রতিনিধিত্বকারী সংসদ সদস্যরা গতকাল মঙ্গলবার মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেছেন। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নাগরিক সংগঠন ‘সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলন’ এবং উন্নয়ন সংস্থা ‘ফেইথ ইন অ্যাকশন’। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি।

সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্রের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান বাবু, আমিরুল ইসলাম মিলন, এস এম শাহজাদা, সৈয়দা রুবিনা আক্তার ও অ্যাডভোকেট গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার, ডিআরইউ সভাপতি মোরসালিন নোমানী, ডিআরইউর সাবেক সাধারণ সম্পাদক শুকুর আলী শুভ, নৌ সড়ক রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে, কেএনএইচ জার্মানির প্রতিনিধি মনিরুজ্জামান মুকুল, ফেইথ ইন অ্যাকশনের নৃপেন বৈদ্য, স্কাসের জেসমিন প্রেমা, লিডার্সের মোহন কুমার মণ্ডল, সচেতন সংস্থার সাকিলা পারভীন প্রমুখ।

মীর মোস্তাক আহমেদ রবি বলেন, ‘বাধাহীনভাবে ঢুকে পড়া জোয়ারের পানিতে শুধু উপকূলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে তা নয়, সাতক্ষীরা শহরেও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। তাই টেকসই বেড়িবাঁধের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করতে হবে।’

আমিরুল আলম মিলন বলেন, ‘আমার নির্বাচনী এলাকার জনগণ ঘূর্ণিঝড় সিডরের ক্ষত আজও বয়ে বেড়াচ্ছে। আকাশে মেঘ দেখলেই এখানে জনমনে আতঙ্ক দেখা দেয়। এই আতঙ্ক থেকে রক্ষায় উপকূলে টেকসই বাঁধের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নিতে হবে।’

আক্তারুজ্জামান বাবু বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা নির্ভর করে বেড়িবাঁধের ওপর। বাঁধের ক্ষতি হলে তাদের সব কিছু ভেসে যায়। বাড়িঘর নষ্ট ও ফসলের ক্ষতি হয়। তাই ওই অঞ্চলের মানুষের প্রধান দাবি বাঁধটা শক্ত করে নির্মাণ করা।

সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উপকূলের অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব উল্লেখ করে এস এম শাহজাদা বলেন, গুরুত্ব বিবেচনায় না নিয়ে ও যাচাই-বাছাই ছাড়াই অনেক প্রকল্প নেওয়া হয়। এতে সরকারি অর্থের অপচয় হয়। অথচ উপকূলের জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো পাসের অপেক্ষায় পড়ে থাকে।

কাউকে পেছনে ফেলে নয়, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে—প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণা বাস্তবায়ন হলেই উপকূলের উন্নয়ন নিশ্চিত হবে বলে মন্তব্য করেন সৈয়দা রুবিনা আক্তার। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী উপকূলীয় জনপদের সংকট মোকাবেলায় সরকার এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রকল্প নিয়েছে।

নদ-নদী শুকিয়ে যাওয়ায় উপকূলের জনজীবনে সংকট বেড়েছে বলে উল্লেখ করেন এমপি গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার। তিনি বলেন, ‘আমরা সংকট সমাধানে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করছি। করোনা পরিস্থিতি বাধার সৃষ্টি করলেও ভবিষ্যতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ পাওয়া যাবে।’ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় উন্নয়নকাজ সহজতর হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।



সাতদিনের সেরা