kalerkantho

বুধবার । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৮ ডিসেম্বর ২০২১। ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

চারজনকে ধর্ষণের অভিযোগ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৫ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজবাড়ী ও ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে দুজনকে ধর্ষণ এবং সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে এক মাদরাসাছাত্রকে বলাত্কারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রংপুরে অপহরণ ও ধর্ষণের বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী এক কলেজ শিক্ষার্থী। এসব ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রাজবাড়ী থানায় গতকাল মঙ্গলবার সকালে একটি মামলা করেছেন ভুক্তভোগী তরুণী (২০)। পরে আসামি ট্রাকচালক মো. রাসেল খানকে (২৪) গ্রেপ্তার করা হয়। রাসেল রাজবাড়ী সদর উপজেলার পাঁচুরিয়া ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের মো. হারুন অর রশিদ খানের ছেলে। তরুণীর অভিযোগ, স্বামীর সঙ্গে তাঁর ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর থেকে তিনি বাবার বাড়িতে থাকেন। রাসেল বেশ কিছুদিন ধরে তরুণীর এক আত্মীয়ের ট্রাক চালান। তিন মাস আগে রাসেল তরুণীর মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহ করে তাঁর সঙ্গে কথা বলা শুরু করেন। গত ১৭ জুলাই বিকেলে তাঁকে বিয়ে করার কথা বলে সোনার নাকফুল ও গায়ে হলুদের জিনিস কিনে দেন। পরদিন রাত ১১টার দিকে রাসেল ট্রাক চালিয়ে এসে তরুণীর ভাইয়ের ঘরে শুয়ে থাকেন। এর কিছু সময় পর রাসেল পাশের ঘরে থাকা তরুণীকে ঘুম থেকে তোলেন এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণ করেন। তার পর থেকেই রাসেল টালবাহানা করছিলেন। সর্বশেষ ২৩ আগস্ট তাঁকে বিয়ে করবেন না বলে জানিয়ে দেন রাসেল।

রংপুর সিটি প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে গতকাল সকালে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কলেজ শিক্ষার্থী জানান, কলেজে যাতায়াতের সময় লালমনিরহাটের মহিষখোচা রসুলপাড়ার আবুজালের ছেলে মনির হোসেন তাঁকে প্রেমের প্রস্তাব দিতেন। পরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়েন। গত ১১ আগস্ট মনির তাঁকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে চট্টগ্রামে নিয়ে যান এবং একটি বাড়িতে নিয়ে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে ১২ থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত ধর্ষণ করেন। এ সময় মনিরকে বিয়ের কথা বললে তিনি টালবাহানা করেন এবং বাড়িতে ফিরে বিয়ে করবেন বলে ১৫ আগস্ট রিজার্ভ মাইক্রোবাসে করে তরুণীকে লালমনিরহাটের মোস্তফিতে পাঠিয়ে দেন। এ সময় মনির তাঁর সহযোগী আব্দুল হকের ফোন নম্বর দিয়ে বলেন, তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি সব ব্যবস্থা করে দেবেন। ১৬ আগস্ট তিনি আব্দুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করে মহিষখোচা চৌধুরী বাজার এলাকায় তাঁর বাড়িতে যান। কিন্তু তাঁকে বাড়িতে ডেকেও পালিয়ে যান হক। পরে ১৯ আগস্ট লালমনিরহাটের আদিতমারী থানায় এ ব্যাপারে তিনি অভিযোগ করেন।

হালুয়াঘাট উপজেলায় সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী (১৪) তার বাবার (৩৫) বিরুদ্ধে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ করেছে। আর এতে সহযোগিতা করতেন তার সত্মা (২৭)। ঘটনা কাউকে না বলতে হুমকিও দেওয়া হয় মেয়েটিকে। নির্যাতনের পর তাকে ট্যাবলেট খাওয়ানো হতো। গত সোমবার সাংবাদিকদের কাছে এসব অভিযোগ জানিয়ে সুষ্ঠু বিচার দাবি করে মেয়েটি। এ ঘটনায় মেয়েটির নানা হালুয়াঘাট থানায় ১৫ আগস্ট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন।

শাহজাদপুরে ১৬ আগস্ট মাদরাসাছাত্রকে (৮) বলাত্কারের অভিযোগে গত সোমবার (২৩ আগস্ট) থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন শিশুটির বাবা। সোমবার রাতেই অভিযুক্ত শিক্ষক আরিফুল ইসলামকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তিনি উপজেলার আলোকদিয়ার সুবহানিয়া নুরানী হাফিজিয়া মাদরাসার শিক্ষক। তাঁর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

শাহজাদপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন ) আব্দুল মজিদ জানান, অভিযুক্ত শিক্ষককে গতকাল আদালতের মাধ্যমে সিরাজগঞ্জ জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

[প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন কালের কণ্ঠ’র রংপুর অফিস এবং প্রতিনিধি রাজবাড়ী, হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) ও শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ )]



সাতদিনের সেরা