kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২ ডিসেম্বর ২০২১। ২৬ রবিউস সানি ১৪৪৩

বেলির ঘরের আলো দুর্জয় ও অবন্তিকা

মোবারক আজাদ   

১৭ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বেলির ঘরের আলো দুর্জয় ও অবন্তিকা

বনের রাজা, চিড়িয়াখানারও প্রধান আকর্ষণ। সম্প্রতি দুই শাবকের জন্ম দিয়ে সংসার বড় করেছে। গতকাল মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানা থেকে তোলা। ছবি : শেখ হাসান

শুধুই ছুটছে ওরা। একবার এদিক তো পরক্ষণেই আরেক দিকে দৌড়ে যাচ্ছে। আবার গিয়ে হানা দিচ্ছে টুকরা করে কেটে রাখা গোশতে। সামান্য কিছুটা খেয়েই আবার ছোটাছুটি। আবার এক ফাঁকে গিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে মায়ের বুকে। কখনো বা উঠে যাচ্ছে মায়ের পিঠে। এভাবেই দিনমান দুষ্টুমিতে মাতিয়ে রেখেছে চারপাশ। এত দিন ওদের কোনো নাম ছিল না। গতকাল সোমবার আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে ওরা পেয়েছে জুতসই দুটি নাম—দুর্জয় আর অবন্তিকা।

রাজধানীর মিরপুরে জাতীয় চিড়িয়াখানায় আড়াই মাস আগে বাঘ পরিবারে নতুন দুই অতিথির আগমন ঘটে। ওদের মধ্যে একটি পুরুষ ও একটি মেয়ে শাবক। গতকাল দুপুরে চিড়িয়াখানায় আনুষ্ঠানিকভাবে বাঘশাবক দুটির নামকরণ করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। একই দিনে চিড়িয়াখানায় অবমুক্ত করা হয়েছে ২৪৬টি পাখি। এগুলোর মধ্যে মন্ত্রী নিজ হাতে অবমুক্ত করেছেন ১৫টি বক। এই আনুষ্ঠানিকতায় আরো উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিববৃন্দ, যুগ্ম সচিব, উপসচিব, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, চিড়িয়াখানার পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

মন্ত্রী রেজাউল করিম বলেন, করোনাকালীন লকডাউনে বিধি-নিষেধে নির্মল পরিবেশে অনেক প্রাণীর প্রজনন খুবই ভালো হয়েছে। গত ২৬ মে দুটি বাঘের বাচ্চা হয়েছে। এ দুটিসহ চিড়িয়াখানায় এখন বাঘের সংখ্যা ১১। পুরুষ শাবকটির নাম রাখা হয়েছে দুর্জয়, যার অর্থ হলো যা সহজে জয় করা যায় না। আর মেয়ে শাবকটির নাম অবন্তিকা, যার নিকটবর্তী শব্দ হচ্ছে রানি।

করোনার এই সময়ে ঢাকা চিড়িয়াখানায় অন্য পশুপাখিও পর্যাপ্ত রয়েছে। তাদের সংকুলান করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই ঢাকার বাইরে রংপুরের চিড়িয়াখানাসহ অন্যান্য জায়গায় দিতে হচ্ছে। হরিণ বেড়ে যাওয়ায় বাইরে বিক্রি করতে হয়েছে। এর মধ্যে বন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ৩৬ লাখ টাকার হরিণ বিক্রি করা হয়েছে। জলহস্তী বেড়ে ১৪টি হয়ে গেছে। বকের প্রজনন বেড়ে যাওয়ায় ২৪৬টি আজ উন্মুক্ত করা হচ্ছে। বকগুলোর মধ্যে ছিল ওয়াক্স বক, পানিবক ও কানিবক।

চিড়িয়াখানার আধুুনিকায়ন নিয়ে শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘পৃথিবীর অনেক দেশে চিড়িয়াখানা দেখতে গিয়ে নয়নাভিরাম পরিবেশ দেখে আমরা মুগ্ধ হই। পরিকল্পনা নিয়েছি, আমাদের জাতীয় চিড়িয়াখানাকে মাস্টারপ্ল্যানের মধ্য দিয়ে আধুনিক চিড়িয়াখানায় রূপান্তর করব। সে অনুযায়ী এরই মধ্যে কাজও শুরু হয়ে গেছে। খাঁচার ভেতরে আবদ্ধ অবস্থায় প্রাণী থাকবে না। ওদের সাফারি কায়দায় আলাদাভাবে রাখা হবে।’

চিড়িয়াখানা পরিচালনার জন্য পৃথক আইন হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, তখন আইনি বিধি-বিধানের অধীনে জাতীয় চিড়িয়াখানা পরিচালিত হবে। সরকারি নির্দেশনা মেনে অর্ধেক দর্শনার্থী নিয়ে আগামী বৃহস্পতিবার থেকে ঢাকা জাতীয় চিড়িয়াখানা খোলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি। আর ওই দিন থেকেই দর্শনার্থীরা দুর্জয় ও অবন্তিকার দুরন্তপনা দেখার সুযোগ পাবে।

জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ডা. আব্দুল লতিফ বলেন, ‘সাফারি পার্কে পরিণত করা হলে জাতীয় চিড়িয়াখানা হবে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন। বন্য প্রাণীর জুতসই পরিবেশের জন্য খাঁচার পরিবর্তে প্রাকৃতিক আবাস গড়ে তোলা হবে। আর দর্শনার্থীরা সুরক্ষিত থেকে উন্মুক্ত প্রাণী দেখতে পারবে। এ ছাড়া বনভূমির প্রাকৃতিক রূপ দেওয়ার জন্য জলজ প্রাণীর জন্য হ্রদ ও বিশাল বনভূমি থাকবে।’



সাতদিনের সেরা