kalerkantho

শনিবার । ১৫ মাঘ ১৪২৮। ২৯ জানুয়ারি ২০২২। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

জাহাজে নিম্নমানের চাল, খালাস বন্ধ করল খাদ্য বিভাগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

৭ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সরকারিভাবে ভারত থেকে আমদানীকৃত একটি চালানে নিম্নমানের চাল সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। ‘এমভি ড্রাগন’ জাহাজ থেকে প্রায় আড়াই হাজার টন চাল খালাসের পর মিলেছে নিম্নমানের ‘লাল চাল’। এরপর জাহাজ থেকে চাল খালাস বন্ধ রাখা হয়। গতকাল শুক্রবার জাহাজে থাকা বাকি চাল থেকে নতুন নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় পাঠানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদন আসার পর চাল খালাসের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত হবে।

অভিযোগ উঠেছে, খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তার উপস্থিতিতে জাহাজ থেকে নমুনা সংগ্রহের পর ল্যাব পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। কিন্তু জাহাজে না গিয়ে শিপিং এজেন্টের মাধ্যমে সংগ্রহ করা নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। ফলে পরীক্ষায় প্রকৃত অবস্থা উঠে আসেনি। যদিও খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, জেলা প্রশাসন, ম্যাজিস্ট্রেট, খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তার উপস্থিতিতে নমুনা সংগ্রহ করেই ল্যাবে পাঠানো হয়েছে; সেখানে ভালো প্রতিবেদন আসার পরই চাল খালাস শুরু হয়।

চট্টগ্রাম খাদ্য বিভাগের চলাচল ও সংরক্ষণ নিয়ন্ত্রক দপ্তরের প্রধান আবু নঈম মোহাম্মদ সফিউল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, “আগের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট ভালো ছিল বলেই চাল খালাস হয়েছে। এখন ‘লাল বা বিবর্ণ চাল’ সরবরাহের অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই জাহাজটি থেকে চাল খালাস বন্ধ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার আমরা বন্দর জেটিতে থাকা জাহাজে গিয়ে সরেজমিনে দেখি। সেখানে বস্তাভর্তি এসব চালের নিচের দিকে কিছু বস্তায় বিবর্ণ চাল পাওয়া যায়; জাহাজে থাকা সব বস্তায় খারাপ চাল পাওয়া যায়নি। এরপর গতকাল শুক্রবার টেকনিক্যাল টিমসহ গিয়ে পাঁচ ঘণ্টা ধরে আবারও নমুনা সংগ্রহ করি। নমুনা ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। ফলাফল আসার পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত। ”

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মূলত জাহাজ থেকে চাল ছাড় নিয়ে লক্ষ্মীপুর সরকারি গুদামে পাঠানোর পরই বিষয়টি ধরা পড়ে।

জানা গেছে, সরকারিভাবে (জিটুজি) ভারত থেকে একাধিক সরবরাহকারী চাল সরবরাহ দিচ্ছে। এর মধ্যে ভারতীয় সরবরাহকারী ন্যাশনাল অ্যাগ্রিকালচারাল কো-অপারেটিভ মার্কেটিং ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া লিমিটেড (নাফেদ) থেকে এই চাল আসে। নাফেদ থেকে প্রথম চালানে কনটেইনারে করে ৫০০ টন চাল চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছে। দ্বিতীয় চালানে ভারতের বিশাখাপত্তনম বন্দর থেকে এমভি ড্রাগন জাহাজে করে ২৯ হাজার ২০০ টন চাল চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছয় ২২ জুলাই। জাহাজ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে সরকারি খাদ্য বিভাগের ল্যাবে পাঠানো হয়। প্রতিবেদন আসার পরই চট্টগ্রাম বন্দরের ১ নম্বর জেটিতে ভিড়িয়ে জাহাজ থেকে চাল খালাস শুরু হয়। সরকারি চাল অগ্রাধিকার দিয়ে ৩১ জুলাই জাহাজটি জেটিতে ভেড়ার সুযোগ দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ।

খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা আবু নঈম মোহাম্মদ সফিউল আলম বলেন, ভারত থেকে নাফেদ কম্পানি চট্টগ্রাম বন্দরে ৩০ হাজার টন চাল সরবরাহ দেওয়ার কথা। কনটেইনারে আসা প্রথম চালানটি ভালো ছিল। এবার বাল্কে চাল সরবরাহ দেওয়া হয়েছে। এ জাহাজেই নিম্নমানের চাল সরবরাহের অভিযোগ এসেছে।



সাতদিনের সেরা