kalerkantho

শুক্রবার । ৭ মাঘ ১৪২৮। ২১ জানুয়ারি ২০২২। ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

চট্টগ্রামে ৯৩ শতাংশই ডেল্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

৭ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চট্টগ্রামে ৯৩ শতাংশই ডেল্টা

চট্টগ্রামে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর ৯৩ শতাংশই ডেল্টা ধরনের (ভেরিয়েন্ট) শিকার। করোনার দ্বিতীয় টেউয়ে এই ভেরিয়েন্ট নগর ও গ্রামে সমান ছড়িয়েছে। অপর ৭ শতাংশ ক্ষেত্রে আলফা ও লিনিজ এ ভেরিয়েন্ট। চট্টগ্রাম অঞ্চলে করোনা সংক্রমণ এখন ডেল্টা ভেরিয়েন্ট দিয়ে হচ্ছে, যা অতি উচ্চ সংক্রমণশীল।

বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু) এবং বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) উদ্যোগে পরিচালিত যৌথ গবেষণায় এসব তথ্য পেয়েছেন গবেষকরা। গতকাল শুক্রবার দুপুরে এ গবেষণার ফল প্রকাশ করা হয়।

গতকাল সিভাসু থেকে জানানো হয়, গবেষণার জন্য গত ১ থেকে ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে সংগৃহীত ৩০টি নমুনা থেকে SARS-COV-2 বা নভেল করোনাভাইরাসের পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্স বা জীবনরহস্য উন্মোচন করার জন্য ঢাকার বিসিএসআইআরে পাঠানো হয়। প্রতিষ্ঠানটির দুজন ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ গবেষণায় অংশ নেন। চট্টগ্রামে করোনায় আক্রান্ত ১২ জন পুরুষ এবং ১৮ জন নারীর (মোট ৩০) নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তাদের বয়স ২১ থেকে ৭৪ বছরের মধ্যে। এর মধ্যে ১৫ জন শহরের এবং ১৫ জন গ্রামের বাসিন্দা।

গবেষণায় জিনোম সিকোয়েন্সে দেখা যায়, সংগৃহীত ৩০টি নমুনার মধ্যে ২৮টি ডেল্টা ভেরিয়েন্ট, যা মোট নমুনার ৯৩ শতাংশ। অপর দুটি নমুনার মধ্যে একটির আলফা (যুক্তরাজ্য) ভেরিয়েন্ট এবং অন্যটির চীনের উহানের ভাইরাসের সঙ্গে মিল রয়েছে। ডেল্টা সংক্রমিত এসব রোগীর মধ্যে ১৫ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, যাঁদের মধ্যে ৯ জনের বয়স ৫০ বছরের বেশি। জিনোম সিকোয়েন্সে সহযোগিতা করেন বিসিএসআইআর ল্যাবের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. সেলিম খান ও ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মোরশেদ হাসান সরকার।

সিভাসু থেকে আরো জানানো হয়, গত জুলাই মাস থেকে দেশে করোনা সংক্রমণ দ্রুততার সঙ্গে বাড়তে থাকে। প্রথমে সীমান্তবর্তী জেলা এবং পরে ঢাকা অঞ্চলের নমুনায় দেখা যায়, ডেল্টা ভেরিয়েন্টের কারণে এ ঢেউ শুরু হয়েছে। তবে চট্টগ্রাম অঞ্চলে ভাইরাসের কোন ভেরিয়েন্ট এ ঢেউয়ের জন্য দায়ী তার সঠিক চিত্র ছিল না, যদিও এর আগে দু-তিনটি নমুনায় এ ভেরিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদন রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) উপাচার্য অধ্যাপক ড. গৌতম বুদ্ধ দাশের তত্ত্বাবধানে ‘কভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি মূল্যায়ন’ শীর্ষক এ গবেষণায় পোলট্রি রিসার্চ ও ট্রেনিং সেন্টার (পিআরটিসি) সহযোগিতা করে। মুখ্য গবেষক ছিলেন অধ্যাপক ড. পরিতোষ কুমার বিশ্বাস। গবেষক ছিলেন সিভাসুর অধ্যাপক ড. শারমিন চৌধুরী, ডা. ইফতেখার আহমেদ রানা, ডা. ত্রিদিব দাশ, ডা. প্রনেশ দত্ত, ডা. মো. সিরাজুল ইসলাম ও ডা. তানভীর আহমদ নিজামী।

উপাচার্য গৌতম বুদ্ধ দাশ সাংবাদিকদের বলেন, ডেল্টা ভেরিয়েন্ট অত্যন্ত সংক্রামক। এটি এখন দেশজুড়ে করোনাভাইরাসের প্রভাবশালী স্ট্রেইন। ডেল্টা ভেরিয়েন্ট যখন কাউকে আক্রান্ত করে, তখন তার শরীরে সেই ভাইরাসটি সংখ্যায় অনেক বেশি থাকে। ভাইরাসটি খুব দ্রুত তাদের সংখ্যা বাড়াতে পারে। এর ফলে আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি থেকে অধিকসংখ্যক ভাইরাস বেরিয়ে আসে, যা সহজেই অন্যকে আক্রান্ত করতে পারে।

মুখ্য গবেষক পরিতোষ কুমার বিশ্বাস জানান, জুলাই মাস থেকে ডেল্টা ভেরিয়েন্ট দ্রুত ছড়িয়েছে। এতে সব বয়সীরাই সংক্রমিত হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি মানতে মানুষের মধ্যে অনীহা, শারীরিক দূরত্ব না থাকা এবং হাঁচি-কাশিতে শিষ্টাচার বজায় না রাখাসহ এই করোনাকালে বিধি-নিষেধের মধ্যেও সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধ না করায় শহর ও গ্রামে সমান সংক্রমণ বাড়ছে। বলা যায়, চট্টগ্রামে এখন ডেল্টা ভেরিয়েন্টের দাপট চলছে। এর প্রমাণ পাওয়া গেছে এ গবেষণায়।

উপাচার্য গৌতম বুদ্ধ দাশ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এর আগে চট্টগ্রাম অঞ্চলে আলফা (ইউকে ভেরিয়েন্ট) ও বিটা (সাউথ আফ্রিকান ভেরিয়েন্ট) ভেরিয়েন্টের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছিল, যদিও আলফা ভেরিয়েন্টের উপস্থিতি এখনো আছে। তবে এর শতকরা হার খুবই কম। ৩০টি নমুনার ১৫টি সিটি করপোরেশন এলাকার রোগীর এবং ১৫টি বিভিন্ন উপজেলার রোগীদের থেকে সংগ্রহ করা হয়। প্রাপ্ত ফল নির্দেশ করে, শহর ও গ্রামাঞ্চলে সমভাবে এই ভেরিয়েন্ট ছড়িয়েছে।



সাতদিনের সেরা