kalerkantho

শুক্রবার । ৬ কার্তিক ১৪২৮। ২২ অক্টোবর ২০২১। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

কফিনের অপেক্ষায় ২১ পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কফিনের অপেক্ষায় ২১ পরিবার

ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর হাসনাইনকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি। এটুকু জানা ছিল যে সে জুস কারখানায় কাজ করতে গিয়েছিল। তখন থেকে বাবা ফজলুর রহমানের শঙ্কা ছিল, কলিজার টুকরা ছেলে আর বেঁচে নেই। পুড়ে অঙ্গার হয়ে যাওয়ায় সন্তানের লাশটাও হয়তো পাওয়া যাবে না। বাস্তবেই কফিনে যে মরদেহ থাকছে তা চেনার উপায় নেই। পুড়ে অনেকটাই কয়লা হয়ে গেছে। সে জন্য লাশের পরিচয় শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষা করতে হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাসেম ফুডস লিমিটেডের কারখানায় আগুনে দগ্ধ হয়ে প্রাণ হারানো হতভাগাদের মধ্যে ২৪ জনের মরদেহ গত বুধবার স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তাদের মধ্যে হাসনাইনের লাশ ছিল না। আর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গের সামনে অন্য অনেকের সঙ্গে কফিনের অপেক্ষায় থাকা ফজলুর রহমান এ সময় নিজেকে আর সামলাতে পারেননি। আহাজারি করে বলতে থাকেন, ‘আমার পোলা (সন্তান) কই? তার খোঁজ তো দ্যায় না কেউ! পোলার কঙ্কালডা পাইলেও মনডারে বুঝাইবার পারতাম। গ্রামে নিয়া মাডি দিবার পারতাম!’

ফজলুর রহমানের মতো আরো অনেকেই স্বজনের মরদেহ বুঝে নিতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন মর্গের সামনে। এদিনে ডিএনএ প্রোফাইলের মাধ্যমে হস্তান্তর হওয়া ২৪ লাশের পাশাপাশি আরো যাদের লাশ হস্তান্তর হয়নি তাদের লাশও খুঁজে ফিরছিল স্বজনহারা মানুষগুলো। অশ্রুভরা চোখে কেউ সন্তানের, কেউ মায়ের, কেউ বাবার, আবার কেউ ভাই-বোন বা অন্য নিকটজনের লাশের খোঁজ করছিলেন। সামনে কফিন মোড়ানো লাশ দেখলেই তাঁরা দৌড়ে সেখানে যাচ্ছিলেন, আর কান্নাকাটি করছিলেন। একেকটি লাশ যখন অ্যাম্বুল্যান্সের মাধ্যমে স্বজনরা গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছিলেন সেখান থেকেও কান্না আর আর্তনাদ ছড়িয়ে পড়ছিল।

সিআইডি সূত্র জানায়, হাসেম ফুডসের কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া ৪৮ শ্রমিকের মরদেহের মধ্যে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে ৪৫ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। পুড়ে বিকৃত হয়ে যাওয়া এসব মরদেহের মধ্যে গত বুধবার ২৪ জনের কফিন পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মরদেহ ও পরিবারের সদস্যদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত হওয়া বাকি ২১ জনের মরদেহ আগামীকাল শনিবার সকাল থেকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

আগামীকাল যাঁদের মরদেহ হস্তান্তর করা হবে তাঁরা হলেন হাসনাইন, মাহমুদা আক্তার, সান্তা মনি, মাহবুবুর রহমান, জিহাদ রানা, রহিমা আক্তার, মিনা খাতুন, নোমান, আমেনা আক্তার, রহিমা, রাবেয়া আক্তার, আকাশ মিয়া, নাজমুল হোসেন, কল্পনা রানী বর্মণ, স্বপন মিয়া, শেফালী রানী সরকার, অমৃতা বেগম, শামীম, সেলিনা আক্তার, তাসলিমা আক্তার ও ফাতিমা আক্তার।

নারায়ণগঞ্জ জেলা সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জীবন কান্তি সরকার গতকাল বৃহস্পতিবার জানান, রূপগঞ্জের ওই অগ্নিকাণ্ডে উদ্ধার হওয়া ৪৮টি মরদেহের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৪৫ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকি তিনজনের পরিচয় শনাক্তকরণের কাজ চলছে। গত ৮ জুলাই বিকেলে রূপগঞ্জে অবস্থিত সেজান জুস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।



সাতদিনের সেরা