kalerkantho

রবিবার । ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৫ ডিসেম্বর ২০২১। ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৩

লকডাউন বাড়লেও নেই তেজ

ঢাকায় ফিরছে পুরনো আমেজ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঢাকায় ফিরছে পুরনো আমেজ

কঠোর লকডাউন চলছে, তবে দেখে বোঝার কোনো উপায় নেই। গতকাল রাজধানীর দৈনিক বাংলা মোড় থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে চলমান বিধি-নিষেধ (লকডাউন) আরো পাঁচ দিন বাড়িয়েছে সরকার। কিন্তু এই বিধি-নিষেধের প্রভাব রাজধানীর সড়কে দেখা যাচ্ছে না। গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল ঈদ-পরবর্তী বিধি-নিষেধের প্রথম কিস্তির শেষ দিন। আর এই শেষ দিনই নতুন করে আরো পাঁচ দিন বিধি-নিষেধ চলমান থাকবে জানিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। কাগজে-কলমে বিধি-নিষেধ বাড়লেও বাস্তব ছবি বলছে ঢাকা যেন প্রায় স্বাভাবিক। সড়কে গণপরিবহন না থাকলেও গাড়ির চাপে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে লম্বা যানজট দেখা দিচ্ছে। মানুষও চলাচল করছে স্বাভাবিক দিনের মতো। নেই তেমন পুলিশের তল্লাশি চৌকি, কড়াকড়ি জিজ্ঞাসা। সেনাবাহিনী ও র‌্যাবের টহলও খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। সব মিলিয়ে নতুন করে লকডাউনের ঘোষণার সঙ্গে ফিরছে ঢাকার পুরনো আমেজ।

এদিকে গতকাল অপ্রয়োজনে ঘর থেকে বের হওয়ার অপরাধে ৩৮৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। এ ছাড়া ১২৬ জনকে দুই লাখ ৪৪ হাজার ৮৫০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আর ৫৩৮টি গাড়ির নামে মামলা করেছে ট্রাফিক বিভাগ। এসব মামলার বিপরীতে ১২ লাখ ২৫ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

এদিকে পাড়া-মহল্লার চায়ের আড্ডাও ফের জমতে শুরু করেছে। বিকেল হলেই পল্টন থেকে দৈনিক বাংলার মোড়, বিজয়নগর, কারওয়ান বাজারের প্রধান সড়কে পসরা সাজিয়ে বসতে শুরু করেছেন ফুটপাতের দোকানিরা। ফুটপাতের এমন দৃশ্য অবশ্য রাজধানীর অন্যান্য এলাকায়ও দেখা যাচ্ছে। চলছে রাইড শেয়ারের মোটরসাইকেল। উত্তরার সোনারগাঁ জনপথ সড়ক থেকে খাল পার পর্যন্ত চলাচল করছে যাত্রীবাহী লেগুনা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বন্ধ ঘোষণা করার পরও শহরের প্রধান প্রধান সড়কে চলছে ব্যাটারিচালিত রিকশা।

রাজধানীর প্রবেশপথ গাবতলী, আব্দুল্লাহপুর, চট্টগ্রাম রোড ও ঢাকা-মাওয়া সড়কের প্রবেশদ্বার থেকে যাত্রী বহন করছে মাইক্রোবাস। স্থানীয় শ্রমিক নেতার পরিচয়ধারী লোকদের চাঁদা দিয়ে নির্বিঘ্নে ডাকাডাকি করে মাইক্রোবাসে যাত্রী তোলা হচ্ছে। গতকাল সকাল ১১টার দিকে গাবতলী বাস টার্মিনাল সংলগ্ন খালেক ফিলিং স্টেশনের সামনে গিয়ে দেখা যায়, সেখান থেকে যাত্রী তুলে পাটুরিয়া ঘাটে যাচ্ছে একাধিক মাইক্রোবাস। যাত্রীপ্রতি ভাড়া ৫০০ টাকা। যাত্রী খুঁজে দিচ্ছেন গাবতলী বাস টার্মিনালের শ্রমিকরা। বিনিময়ে যাত্রীপ্রতি ১০০ টাকা কমিশন নিচ্ছেন তাঁরা। টার্মিনালের শ্রমিক লোকমান হোসেন বলেন, ‘আমাদের তো বাঁচতে হবে, সে জন্য উপায় বের করেছি। দয়া করে লেখালেখি করে রোজগারটা বন্ধ করবেন না।’

এদিকে গণপরিবহন বন্ধ থাকার সুযোগে অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের চালকরা যাত্রীদের কাছ থেকে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ যাত্রীদের। তবে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েও গন্তব্যে পৌঁছতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের। আনোয়ার নামে এক যাত্রী বলেন, ‘পাটুরিয়া থেকে মোটরসাইকেলে গাবতলী এসেছি ৭০০ টাকায়। বাসে এই পথ যেতে সর্বোচ্চ ১২০ টাকা লাগে। মাঝে কয়েক জায়গায় পুলিশও আটক করেছে। তবে আইডি কার্ড দেখানোর পর ছেড়ে দিয়েছে।’

গাবতলী এলাকায় দায়িত্বরত এক ট্রাফিক পুলিশ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘রপ্তানিমুখী শিল্প-কারখানা খুলে দেওয়ার ফলে গ্রাম থেকে শ্রমিকরা ঢাকায় আসতে শুরু করেছেন। প্রতিদিনই কিছু শ্রমিক ঢাকায় আসছেন নিজস্ব ব্যবস্থাপনায়। তবে করোনার সময় স্বাস্থ্যবিধি যেন উপেক্ষিত না হয় সে জন্য সতর্ক করা হচ্ছে। বিনা প্রয়োজনে কেউ বাইরে বের হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

রাজধানীর সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু অটোরিকশারও দেখা মিলছে। সড়কের মোড়ে মোড়ে যানজটের পাশাপাশি ফুটপাতেও বেড়েছে মানুষের চলাচল। মালিবাগ, কাকরাইল, রামপুরা, ফকিরাপুল ঘুরে দেখা গেছে সব সড়কেই ব্যস্ততা। এসব এলাকায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশকেও দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। ব্যক্তিগত এক গাড়ির চালক শামীমের সঙ্গে গুলিস্তানে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘গুলশান থেকে এসেছি। সব জায়গায় যানজট দেখলাম। রাস্তায় নামলে লকডাউন নেই বললেই মনে হয়।’

আজিমপুর, পলাশী, কলাবাগান ও আসাদ গেট এলাকার সড়কে পুলিশের তেমন কড়াকড়ি অবস্থান দেখা যায়নি। বনানীর চেকপোস্টের সামনে পুলিশের দেওয়া নির্দেশিত পথে ব্যক্তিগত গাড়ি, পণ্যবাহী গাড়ি বাধাহীনভাবে চলাচল করছে। জামাল নামের এক রিকশাচালক বলেন, ‘পুলিশের চেকপোস্টে আগের মতো গাড়ি থামাইয়া রাখে না। লকডাউন শেষের দিকে বইলা এই অবস্থা।’



সাতদিনের সেরা