kalerkantho

রবিবার । ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৫ ডিসেম্বর ২০২১। ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৩

প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরে জন্ম নাম শেখ মুজিবুর রহমান

বেনাপোল প্রতিনিধি   

৬ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রধানমন্ত্রীর উপহারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পেয়ে আনন্দে আত্মহারা ছিলেন যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানার বালুণ্ডা গ্রামের হাফিজা বেগম। সেই ঘরে তিনি ছেলেসন্তান জন্ম দিয়ে নাম রেখেছেন ‘শেখ মুজিবুর রহমান’। নবজাতক এই শেখ মুজিবের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন যশোরের জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান ও শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর আলিফ রেজা। শিশুটিকে একনজর দেখতে ভিড় করছে আশপাশের মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেনাপোলের পুটখালী ইউনিয়নের বালুণ্ডা গ্রামের আবু তাহেরের মেয়ে হাফিজা বেগমের (৩০) সঙ্গে প্রায় দেড় যুগ আগে বিয়ে হয় পাটবাড়ী গ্রামের ছেলে আসাদুল হকের (৪০)। অসচ্ছলতার কারণে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে শ্বশুরবাড়িতে ঘরজামাই থাকতেন আসাদুল। এরই মধ্যে একে একে জন্ম হয় তিন সন্তান। কিছুদিন আগে পুটখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাস্টার হাদিউজ্জামানের সহযোগিতায় পেয়ে যান বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ভূমিহীনদের জন্য আশ্রয় প্রকল্পের ঘর। প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরে ওঠার ২১ দিন পর জন্ম নেয় ছেলেসন্তান।

শার্শা উপজেলায় মোট ১২৭টি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ হয়েছে। তার মধ্যে বালুণ্ডা গ্রামে ১০ জন উপকারভোগী পেয়েছেন ১০টি ঘর। এই প্রকল্পের ঘরগুলোতে সুবিধা রয়েছে, রান্নাঘর, গোসলখানা, টয়লেট, বিদ্যুতের ব্যবস্থা এবং জনস্বাস্থ্য বিভাগ থেকে বরাদ্দকৃত একটি আর্সেনিকমুক্ত গভীর নলকূপ।

হাফিজা খাতুন বলেন, “প্রধানমন্ত্রী আমাদের জমিসহ পাকা ঘর দিয়েছেন। যিনি আমাদের ঘর ও জমি দিচ্ছেন, তাঁর বাবার নামেই আমার ছেলের নাম রাখা হয়েছে। আমার ঘরের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। তাই সন্তানের নাম রেখেছি ‘শেখ মুজিবুর রহমান’।”

বালুণ্ডা আশ্রয়ণ প্রকল্পের অন্যান্য উপকারভোগী তানজিলা (২৫) ও সাবিনা (৫৫) বলেন, ‘আমরা ঘর আর শেখ মুজিবুরকে পেয়ে অনেক খুশি।’

উপকারভোগী আব্দুস সাত্তার (৭০) বলেন, ‘চার ছেলে-মেয়ে নিয়ে অনেক কষ্ট করেছি জীবনে। কোনো দিন ভাবিনি পাকা ঘরে শোব। হাসিনা আমারে ঘর দেছে, ইকিনে কারেন আচে, টিউকল আচে, রান্নাঘর আচে—সপ আচে। আমি হাসিনার জন্যি নামাচ পড়ি দোয়া করি।’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা লাল্টু মিয়া বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে যেভাবে ঘরগুলো নির্মাণ করার নির্দেশনা দিয়েছে, নকশা ঠিক রেখে আমরা সেভাবেই করেছি।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর আলিফ রেজা বলেন, ‘যশোরের জেলা প্রশাসক স্যার এখানে একদিন এসেছিলেন এবং জেলা প্রশাসক স্যারই আবিষ্কার করেছেন বালুণ্ডা আশ্রয়ণ প্রকল্পে একজন উপকারভোগী আছেন, যে এখানে আসার পরে তাঁর একটি সন্তান হয়েছে। সেখানকার উপকারভোগীরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতাস্বরূপ বঙ্গবন্ধুর নামে ওই শিশুর নাম রেখেছেন।’



সাতদিনের সেরা