kalerkantho

শুক্রবার । ৬ কার্তিক ১৪২৮। ২২ অক্টোবর ২০২১। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

১৫ বছরে দেশে বন্যাদুর্গত ২০ শতাংশ বেড়েছে

গৌরাঙ্গ নন্দী, খুলনা   

৬ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দেশে বন্যা বেড়েছে, বেড়েছে ক্ষয়ক্ষতিও। গত ১৫ বছরে দেশে বন্যাদুর্গত মানুষের সংখ্যা আগের তুলনায় ২০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। আর বৈশ্বিক স্তরে এই দুর্গতদের সংখ্যা বেড়েছে ২৪ শতাংশ। ভূ-উপগ্রহের মাধ্যমে প্রাপ্ত মানচিত্র জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করে একদল বিজ্ঞানী এই কথা বলেছেন। ২০০০ থেকে ২০১৫ সালের তথ্য এখানে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণা প্রতিবেদনের ফল বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী নেচারের গতকাল ৫ আগস্টের সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০০ সালের তুলনায় বাংলাদেশে ২০১৫ সালে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১৮ থেকে ২০ শতাংশ বেড়েছে। মূলত গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় বন্যার প্রকোপ বেড়েছে। ভারতের বিশাল এলাকাজুড়ে এই অববাহিকা, যার নিম্নভাগ আমাদের দেশের মধ্যে পড়েছে। এই অববাহিকায় ২০০০ সাল নাগাদ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ১১ কোটি, যা ২০১৫ সালে বেড়ে প্রায় ১৪ কোটিতে দাঁড়ায়। একই সময় বিশ্বে প্রায় ৫১ কোটি থেকে প্রায় ৮১ কোটি মানুষ কম-বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ছিল ২৫ থেকে ৩০ কোটি। এই সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বেড়ে চলেছে এবং আরো বাড়বে। এর ফলে ২০৩০ সাল নাগাদ ৩২টি দেশে জলবায়ু ও জনমিতির অবস্থানগত পরিবর্তন ঘটবে।

বন্যার কারণ সম্পর্কে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত, বরফ গলা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস প্রভৃতিকে দায়ী করা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বাড়ছে। অনেক সময় বন্যারোধী বাঁধ ভেঙে বন্যা আরো ভয়াল রূপ নেয় বলে প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়েছে। 

গবেষণা প্রতিবেদন মতে, বিশ্বের মধ্যে ৯০ শতাংশ বন্যা দক্ষিণ ও দক্ষিণ এশিয়ায় দেখা দেয়। এখানেই সিন্ধু, গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেকং অববাহিকা। আবার এসব অববাহিকায় বিশ্বের মধ্যে তুলনামূলকভাবে বেশি মানুষ বসবাস করে। বিশ্বে ২০০০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর গড়ে ৮ লাখ ৬১ হাজার বর্গমাইল এলাকা প্লাবিত হয়, যাতে ২৫ থেকে ২৯ কোটি মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দিয়ে বলা হয়, দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়া ছাড়াও ইউরোপেও বন্যাঝুঁকি রয়েছে, যা সাম্প্রতিককালের বন্যায় স্পষ্ট হয়েছে। চলতি বছরেও ইউরোপের নানা দেশ ছাড়াও চীন ও ভারতে এরই মধ্যে বন্যা দেখা দিয়েছে। একাধিক জায়গায় যা মারাত্মক রূপ নিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশেও এ বছর বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনের সহ-লেখক অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পোস্ট ডক্টরাল সায়েন্টিস্ট ড. জোনাথন সুলিভান বলেন, দুর্যোগের কারণে মানুষের অপেক্ষাকৃত নিরাপদ এলাকায় যাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। আবার অন্য কোনো সুযোগ না থাকায় এক বিশাল জনগোষ্ঠীকে ওই দুর্যোগপ্রবণ এলাকায়ই বসবাস করতে হচ্ছে।

মূল লেখক, অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. বিথ টেলম্যান বলেন, এই প্রতিবেদন নীতিনির্ধারকদের খুবই কাজে লাগবে। দুর্যোগে অসহায়ত্ব এবং বন্যাপ্রবণ এলাকা নিরূপণে এটি সহায়ক ভূমিকা রাখবে। এই গবেষণাকাজে অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান, ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস, ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয় এবং নাসা ও গুগল আর্থ আউটরিচ যুক্ত ছিল।



সাতদিনের সেরা