kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ আশ্বিন ১৪২৮। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৫ সফর ১৪৪৩

তিনি এখন প্রজন্ম লীগের নেতা!

আলম ফরাজী, ময়মনসিংহ (আঞ্চলিক)   

৬ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ২ নম্বর গৌরীপুর ইউনিয়নের কোনাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বিএনপি নেতা মো. মাহমুদুল হোসেন রাসেল এখন ‘বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম লীগের’ ঢাকা উত্তরের সভাপতি। আসছে ১৫ই আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীতে এই ভুঁইফোড় সংগঠনটির পোস্টার লাগিয়ে তিনি এখন আলোচনায়। জাতির জনক ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে নিজের ছবিসংবলিত এই পোস্টার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। এ নিয়ে গৌরীপুরে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মাহমুদুল হোসেন রাসেল আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই ঢাকায় পাড়ি দেন। সেখানে তিনি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করেন এবং একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। গৌরীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও রাসেলের সহপাঠী প্রতিবেশী আব্দুল মন্নাফ জানান, মাহমুদুল হোসেন রাসেল ৯০-এর দশকের প্রথম দিকে গৌরীপুর সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। ওই সময়ে বিভিন্ন দাবিতে করা ছাত্রলীগের মিছিলের ওপর আক্রমণের মূল হোতা ছিলেন তিনি। ছাত্রজীবন শেষে তিনি যুবদলের সক্রিয় নেতা ছাড়াও পরে বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত থেকে ঢাকায় চলে যান। তাঁর পরিবারের সবাই এখনো বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এর মধ্যে গত বছর হঠাৎ করে তিনি আওয়ামী রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ঢাকায় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন মিছিল-মিটিংয়ে তাঁকে দেখা যায়। সম্প্রতি ১৫ই আগস্ট শোক দিবস উপলক্ষে কিছু পোস্টার ঢাকায় দেখতে পান গৌরীপুরের অনেকেই। সেসব পোস্টারের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার হলে দৃষ্টিগোচর হয় গৌরীপুরের অনেকের। তাঁরা খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন, এই রাসেলই হলেন গৌরীপুরের এককালীন ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা। জাতির জনক ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পোস্টারে তাঁর ছবি দেখে ‘চোখ কপালে’ ওঠে তাঁদের। এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় গৌরীপুরে। পরিবারের কেউ মুক্তিযুদ্ধে অংশ না নিলেও তিনি ‘মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম লীগের’ সভাপতি হয়ে যাওয়ায় অনেকেই হতবাক হন।

ময়মনসিংহ জেলা উত্তরের স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর আনিস বলেন, ‘এটা তো সবাই জানে উনি (রাসেল) বিএনপি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।’

মাহমুদুল হোসেন রাসেল বলেন, ‘আমাকে গত বছর হঠাৎ করেই সভাপতি ছুটন ভাই সংগঠনটির সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। বলেন, ১৫ই আগস্ট যেন জাঁকজমকভাবে পালন করতে পারি। উনার কথা রাখতে গিয়ে আমি সাময়িক সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি মাত্র।’ আপনি তো বিএনপি করেন, তাহলে আওয়াম লীগের রাজনীতি কিভাবে করেন—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সময় সব বদলে দেয়।’



সাতদিনের সেরা