kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ আশ্বিন ১৪২৮। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৫ সফর ১৪৪৩

লক্ষ্মীপুরে আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি   

৬ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



লক্ষ্মীপুরে এক ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সদর উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের ফতেহ ধর্মপুর গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে। রাত ১টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে কুমিল্লা বিশ্বরোড এলাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহত হারুনুর রশিদ হারুন (৫২) ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। এই ঘটনায় তাঁর ছেলে আল আমিন গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে চন্দ্রগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন। এতে অচেনা ছয়-সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

বিকেলে বশিকপুরের বটেরপুকুর এলাকায় নিহতের জানাজা হয়। এতে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু, সাধারণ সম্পাদক নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন এমপি, সাবেক সভাপতি এম আলাউদ্দিন, আওয়ামী লীগ নেতা শামছুল ইসলাম পাটোয়ারী, রাসেল মাহমুদ ভূঁইয়া মান্না, যুবলীগ নেতা আবদুল্লাহ আল মামুনসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। সেখানে নেতারা হারুন হত্যাকাণ্ডের জন্য বিএনপির লাদেন মাসুম বাহিনীকে দোষারোপ করেন এবং এর সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে প্রশাসনকে আহ্বান জানান।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আওয়ামী লীগ নেতা হারুন বাড়ির পাশে একটি চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছিলেন। হঠাৎ সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে চার-পাঁচজন দুর্বৃত্ত এসে তাঁর ওপর হামলা চালায়। তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে দুই হাতের কবজি, পা ও মাথায় রক্তাক্ত জখম করে। এ সময় আতঙ্ক ছড়াতে তারা কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও বেশ কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহতের ছেলে আল আমিন বলেন, ‘আমার বাবার কী অপরাধ ছিল? বাবা সব সময় অন্যায়-জুলুমের প্রতিবাদ করতেন। আমরা এ হত্যার বিচার চাই। জড়িতদের ফাঁসি চাই।’

বশিকপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আমির হোসেন জানান, হারুন এলাকায় সন্ত্রাসরোধে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সব সময় সহযোগিতা করতেন। এর আগেও বিএনপির সন্ত্রাসী বাহিনী লাদেন মাসুম গ্রুপ তাঁর ওপর হামলা চালিয়েছিল। সন্ত্রাসীরা আবার এলাকাতে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।

স্থানীয় তিনজন আওয়ামী লীগ নেতা জানান, বশিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম জেহাদী পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। তাঁর নিজের নামে ‘জেহাদী বাহিনী’ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকায় বাহিনীর সদস্যদের ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, খুনাখুনিসহ নানা অপকর্ম করছেন বলে মানুষের অভিযোগ রয়েছে। জেহাদীর সঙ্গে আধিপত্য নিয়ে অন্য সন্ত্রাসীদের মতবিরোধ আছে। এসব সন্ত্রাসীর হাতে আছে বিপুলসংখ্যক অবৈধ অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র।

এদিকে মঙ্গলবার আবুল কাশেম জেহাদী ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে লেখেন, ‘আমি কোনো সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ লালন-পালন করি না। এমনকি তাঁদের আশ্রয়-প্রশয়ও দিই না। কেউ আমার নাম ভাঙিয়ে হয়রানি করলে প্রশাসনের কাছে জানাবেন।’

এ প্রসঙ্গে গতকাল কাশেম জেহাদী বলেন, ‘আমার কোনো বাহিনী নেই। বিএনপি-জামায়াত ষড়যন্ত্র করে আমাকে ৬৩ মামলার আসামি করেছিল। সন্ত্রাসীদের ভয়ে আমি এখন নিজেও নিরাপত্তাহীন। প্রশাসনকে সন্ত্রাসীদের নাম-পরিচয়সহ তালিকা দিয়েও কোনো কাজে আসছে না। সন্ত্রাসী লাদেন মাসুমের অনুসারীরা কুপিয়ে হারুনকে হত্যা করেছে।’

চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসি এ কে এম ফজলুল হক বলেন, ‘হারুনুর রশিদ হত্যায় আসামিদের গ্রেপ্তারে আমাদের একাধিক দল কাজ করছে। হত্যার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে আমরা সজাগ রয়েছি। লক্ষ্মীপুরে কোনো সন্ত্রাসী বাহিনী থাকবে না।’

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু বলেন, ‘লক্ষ্মীপুরে সরকারের কঠোর হস্তক্ষেপের কারণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে অনেক বাহিনী প্রধানসহ

সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। কিন্তু তাদের সহযোগীরা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। এমনকি বিপুল সংখ্যক অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র মজুদ থাকলেও তা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি আমি আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় একাধিকবার বলেছি। এসব অস্ত্র উদ্ধার না হলে আমাদের কারো বাঁচার নিশ্চয়তা নেই।’



সাতদিনের সেরা