kalerkantho

রবিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৮। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৮ সফর ১৪৪৩

মিশু হাসানসহ আরো দুজন গ্রেপ্তার

৫০ মডেলকে দিয়ে চলত অনৈতিক কর্মকাণ্ড : র‌্যাব

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মিশু হাসানসহ আরো দুজন গ্রেপ্তার

মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা ও মৌ আক্তারের দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গত মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর ভাটারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে গ্রেপ্তার করা হয় ওই দুই মডেলকে।

গ্রেপ্তার হওয়া দুজন হলেন শরফুল হাসান ওরফে মিশু হাসান (৩১) ও মাসুদুল ইসলাম ওরফে জিসান (৩৯)।

দুজনের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি আগ্নেয়াস্ত্র, ছয় রাউন্ড গুলি, ১৩ হাজার ৩০০টি ইয়াবা ট্যাবলেট, ফেরারি মডেলের একটি গাড়ি, সিসার সরঞ্জাম, দুটি ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, বিভিন্ন ব্যাংকের চেক ও এটিএম কার্ড, পাসপোর্ট, ৪৯ হাজার ৫০০ ভারতীয় জাল রুপি।

র‌্যাব কর্মকর্তারা বলছেন, পিয়াসা ও মৌয়ের সিন্ডিকেট গুলশান, বারিধারা, বনানীসহ বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় পার্টি বা ডিজে পার্টির নামে অর্ধশত কথিত মডেলকে দিয়ে মাদকের আসর বসাতেন। সেখানে চলত অনৈতিক কর্মকাণ্ড। সেসব ছবি ও ভিডিও ধারণের পর ব্ল্যাকমেইল করে হাতিয়ে নেওয়া হতো বিপুল পরিমাণ অর্থ। এসব কথিত মডেলকে টাকার বিনিময়ে ব্যবহার করতেন মিশু হাসান। তিনি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বিলাসবহুল গাড়ি আমদানির ব্যবসাও করছিলেন।

গতকাল বুধবার বিকেলে র‌্যাব সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীর লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক খন্দকার আল মঈন বলেন, গ্রেপ্তারকৃত দুজন পিয়াসা ও মৌয়ের একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। এ চক্রের সদস্য ১০-১২ জন। তাঁরা গুলশান, বারিধারা, বনানীসহ বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় পার্টি বা ডিজে পার্টির নামে মাদক সেবনসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ব্যবস্থা করেন। এ জন্য তাঁরা অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পান। অংশগ্রহণকারীরা সাধারণত উচ্চবিত্ত পরিবারের সদস্য। প্রতিটি পার্টিতে ১৫ থেকে ২০ জন অংশগ্রহণ করত। এ ছাড়া বিদেশেও প্রমোদভ্রমণের আয়োজন করা হতো। একইভাবে উচ্চবিত্ত প্রবাসীদের জন্যও দুবাই, ইউরোপ ও আমেরিকায় এ ধরনের পার্টি আয়োজন করা হতো। তাঁরা ক্লায়েন্টদের গোপন ছবি ধারণ করে অপব্যবহার করতেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।

র‌্যাব কর্মকর্তা আরো বলেন, এই অবৈধ আয় থেকে উপার্জন করা অর্থ নামে-বেনামে গাড়ির ব্যবসা ও গরুর খামারে বিনিয়োগ করেছেন মিশু হাসান ও জিসান। এই ব্যবসায় তাঁদের গ্রুপের সদস্যদের অবৈধ আয়েরও নিয়োগ রয়েছে। মিশু হাসান বাংলাদেশে নামিদামি ব্র্যান্ডের বিলাসবহুল গাড়ির ব্যবসা করেন। তিনি গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে অনিয়মের আশ্রয় নিতেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে। তাঁর ব্যক্তিগত দুটি রেঞ্জ রোভার, অ্যাকুয়া, ফোকসভাগেন, ফেরারিসহ পাঁচটি গাড়ি রয়েছে। তিনি অত্যন্ত সুকৌশলে গাড়ির ট্যাক্স জালিয়াতি করেছেন বলে প্রমাণ মিলেছে। তাঁর একটি গরুর খামার রয়েছে, যেখানে তিনি অননুমোদিত ব্রাহমা জাতের গরু লালন-পালন করেন।

গ্রেপ্তারকৃত দুজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে, ভারতীয় জাল মুদ্রা রাখা এবং অননুমোদিত গাড়ি আমদানি ও ব্যবহারের অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইনে পৃথক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান র‌্যাব কর্মকর্তা।

এর আগে গত রবিবার রাতে রাজধানীর বারিধারার বাসায় অভিযান চালিয়ে মডেল পিয়াসা এবং মোহাম্মদপুরের বাসায় অভিযান চালিয়ে মডেল মৌকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। দুজনের বাসা থেকে মাদকদ্রব্য উদ্ধারের ঘটনায় করা মামলায় তাঁরা তিন দিনের রিমান্ডে রয়েছেন।



সাতদিনের সেরা