kalerkantho

রবিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৮। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৮ সফর ১৪৪৩

স্কুলছাত্রী ও গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ

পৃথক ঘটনায় মাদরাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৫ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



স্কুলছাত্রী ও গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ

নরসিংদীর রায়পুরায় এক স্কুলছাত্রী ও নোয়াখালীর হাতিয়ায় এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীটি প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে নির্যাতন করা হয়। হাতিয়ার ঘটনায় নির্যাতিতার স্বামীসহ চার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাগেরহাটের চিতলমারীতে ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এক মাদরাসা শিক্ষককে।

রায়পুরা উপজেলায় গত রবিবার রাতের ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রীর (১৪) মা গতকাল বুধবার দুজনকে আসামি করে রায়পুরা থানায় একটি মামলা করেন। পরে এক আসামি সালামত উল্লাহ ওরফে সামছুলকে (২৫) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সামছুল উপজেলার বাঁশগাড়ি ইউনিয়নের দীঘলিকান্দি এলাকার হযরত আলীর ছেলে। অন্য আসামি তরুণের (১৬) বাড়ি একই এলাকায়। এজাহার সূত্রে জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে ছাত্রীটিকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল অভিযুক্ত তরুণ। এতে সে রাজি হয়নি। রবিবার রাতে ছাত্রীটি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে ঘরের বাইরে যায়। সেখানে ওত পেতে ছিল ওই সামছুল ও তরুণ। পরে তারা ছাত্রীটিকে মুখ চেপে ধরে কিছুদূরে নিয়ে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়।

রায়পুরা থানার এসআই দেব দুলাল দে জানান, কিশোরীটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিকে ধরতে অভিযান চলছে।

হাতিয়া উপজেলার ঘটনায় নির্যাতিতা গৃহবধূ (২৪) সাতজনের নাম উল্লেখসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে হাতিয়া থানায় গতকাল বিকেলে একটি মামলা করেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নিঝুম দ্বীপ এলাকার গৃহবধূর স্বামী, হক সাব, রাশেদ ও আক্তার হোসেন।

মামলার অভিযোগে জানা গেছে, গৃহবধূ কাজ করার সুবাদে চট্টগ্রামে বসবাস করতেন। গত মঙ্গলবার তিনি নিজ এলাকা নিঝুম দ্বীপ যাওয়ার উদ্দেশে শিশুসন্তানসহ হাতিয়ার মুক্তারিয়া ঘাট থেকে ট্রলারযোগে রওনা দেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তিনি বন্দরটিলা ঘাটে নেমে একটি ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেলে করে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। কিছুদূর যাওয়ার পর তাঁর স্বামীসহ কয়েকজন মোটরসাইকেলটি থামিয়ে তাঁকে নামিয়ে হাত ও মুখ বেঁধে ফেলেন। পরে তাঁরা তাঁকে সিডিএসপি বাজারের পাশে বান্ধাখালী এলাকার মেঘনা নদীর তীরে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে আটকে রেখে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত হক সাব, রাশেদ, আক্তার হোসেন, গৃহবধূর স্বামীসহ সাতজন নির্যাতন করেন। পরে মুখের বাঁধন খুলে গেলে তিনি চিত্কার করেন। এ সময় স্থানীয়রা এগিয়ে এলে ধর্ষণকারীরা পালিয়ে গেলেও তাঁর স্বামীকে ধরে ফেলে। খবর পেয়ে নিঝুম দ্বীপ পুলিশ ফাঁড়ির এসআই সৌরজিৎ বড়ুয়ার নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গৃহবধূকে তাঁর সন্তানসহ উদ্ধার করে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রাতে বিষয়টি হাতিয়া থানায় জানালে নিঝুম দ্বীপে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠিয়ে অভিযান চালিয়ে হক, রাশেদ ও আক্তারকে আটক করা হয়। কয়েক দিন ধরে গৃহবধূর কাছ থেকে তালাক নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ দিচ্ছিলেন তাঁর স্বামী। কিন্তু তাতে তিনি রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হন সোহেল।

হাতিয়া থানার ওসি আনোয়ারুল ইসলাম জানান, আজ বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে ও নির্যাতিতাকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

চিতলমারীতে গত রবিবার সকালের ঘটনায় গ্রেপ্তার আমিনুল ইসলাম (৩৫) চিতলমারী চিংগড়ী হাফিজিয়া মাদরাসার শিক্ষক ও চিংগড়ী জামে মসজিদের ইমাম। তিনি মোরেলগঞ্জ উপজেলার বারইখালী গ্রামের ওমর আলীর ছেলে। এ ঘটনায় ছাত্রীর (৭) মা চিতলমারী থানায় শিশু ও নারী নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন।

মসজিদের সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী জানান, প্রতিদিন সকালে আমিনুল মসজিদ এলাকার আশপাশের শিক্ষার্থীদের ছিপারা শিক্ষা দিতেন। রবিবার সকালে তিনি সুযোগ পেয়ে মসজিদের সঙ্গে তাঁর থাকার ঘরে নিয়ে দরজা আটকে এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। অভিযুক্ত আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমি নিজের মেয়ের মতো ওই ছাত্রীকে একটু আদর করেছি। আমার কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না।’

[প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন কালের কণ্ঠ’র নোয়াখালী, রায়পুরা (নরসিংদী) ও চিতলমারী-কচুয়া (বাগেরহাট) প্রতিনিধি]



সাতদিনের সেরা