kalerkantho

সোমবার  । ১২ আশ্বিন ১৪২৮। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৯ সফর ১৪৪৩

৫৫ বছর পর সচল চিলাহাটি স্থলবন্দর

নীলফামারী ও ডোমার প্রতিনিধি   

২ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দীর্ঘ ৫৫ বছর পর কার্যত সচল হলো নীলফামারী জেলার চিলাহাটি স্থলবন্দর। গতকাল রবিবার ভারত থেকে রেলপথে ৪০টি মালবাহী ওয়াগনে দুই হাজার ২৮৫.২০ মেট্রিক টন পাথর আমদানির মাধ্যমে স্থলবন্দরটি দিয়ে নিয়মিত আমদানি-রপ্তানি শুরু হয়।

ভারতের হলদিবাড়ী রেলস্টেশন থেকে ভারতীয় রেলবহরটি বিকেল ৫টার দিকে বাংলাদেশের সীমান্তে এসে পৌঁছে। সেখানে আনুষ্ঠানিকতা শেষে চিলাহাটি স্টেশনে পৌঁছে সাড়ে ৫টার দিকে। স্টেশনে অপেক্ষারত উত্সুক জনতা করতালি দিয়ে এবং হাত নাড়িয়ে স্বাগত জানায় রেলবহরটিকে। রেলবহরে আগত প্রতিনিধিদলকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।

২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর এই পথে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল উদ্বোধনের পর এটিই প্রথম পণ্য আমদানি। সূত্র জানায়, উদ্বোধনের সাড়ে সাত মাস পর প্রথম দিনেই পণ্য আমদানিতে বাংলাদেশ রেলওয়ে ১৫ লাখ টাকা এবং কাস্টমস ১১ লাখ এক হাজার ২৭৫ টাকা আয় করেছে।

সূত্র জানায়, ভারতের উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের আলিপুর দুয়ার ডিভিশনের ডামডিম রেলস্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করে রেলবহরটি। ওই বহরে ছিল পাথরভর্তি ৫৯টি ওয়াগন। ভারতীয় সময় সকাল সোয়া ১১টায় সে দেশের হলদিবাড়ী সীমান্ত স্টেশনে পৌঁছার পর ১৯টি ওয়াগন রেখে ৪০টি নিয়ে চিলাহাটি পৌঁছে। ওই রেলবহরে ছিলেন ভারতীয় রেলওয়ের সিনিয়র গার্ড মুকেশ কুমার সিং, লোকো মাস্টার সঞ্জীত পাল চৌধুরী ও অরজিৎ রায়। বাংলাদেশের পক্ষে চিলাহাটি স্টেশনে তাঁদের ফুল দিয়ে বরণ করেন পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী সুলতান মৃধা, বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন, আনোয়ার হোসেন, বিভাগীয় লোকোমোটিভ প্রকৌশলী আশিষ কুমার, চিলাহাটি-হলদিবাড়ী রেল সংযোগ প্রকল্পের পরিচালক আব্দুর রহীম, রাজস্ব কর্মকর্তা তুষার কান্তি রায়, রেলওয়ের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর লুৎফর রহমান, ডোমার উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাহিদ হাসান ও চিলাহাটি স্টেশন মাস্টার আশরাফুল ইসলাম। নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটি-হলদিবাড়ী রেলপথটি বন্ধ হয় ১৯৬৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধের সময়। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রেলপথটি চালু করার উদ্যোগ নেন। এরপর উভয় দেশের রেলপথ নির্মাণ শেষে গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচলের উদ্বোধন করেন উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী। ওই উদ্বোধনের সাড়ে সাত মাস পর গতকাল ভারত থেকে পাথর আমদানির মাধ্যমে কার্যত পুনরায় চালু হলো স্থলবন্দরটি।

চিলাহাটি রেলস্টেশন মাস্টার আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘পাথরবোঝাই ৪০টি ওয়াগনের মালপত্র থেকে ভাড়া বাবদ বাংলাদেশ রেলওয়ে ১৫ লক্ষাধিক টাকা আয় করবে। চিলাহাটি স্থলবন্দর দিয়ে রেলপথে পণ্য পরিবহনে বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রতিদিন ছয় থেকে ১৮ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারবে।’

নীলফামারী সদর সার্কেলের কাস্টমস কর্মকর্তা তুষার কান্তি রায় বলেন, ‘আমদানিকারক চায়না সেভেন ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের পক্ষে দিনাজপুরে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট খান অ্যান্ড সন্স ওই পাথর আমদানি করেছে। এতে সরকার ১১ লাখ এক হাজার ২৭৫ টাকা রাজস্ব আয় করবে।’

তিনি জানান, ব্যবসায়ীরা চিলাহাটি-হলদিবাড়ী রেলপথে আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে ব্যাপক আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এ পথে ভারত থেকে আমদানি-রপ্তানিতে দূরত্ব কমবে। খরচ সাশ্রয় হবে ব্যবসায়ীদের।