kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২ ডিসেম্বর ২০২১। ২৬ রবিউস সানি ১৪৪৩

লকডাউনে গ্রেপ্তার তবে কারাবাস নয়

ওমর ফারুক   

১ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লকডাউনে গ্রেপ্তার তবে কারাবাস নয়

দেশজুড়ে চলমান কঠোর লকডাউনে বিধি-নিষেধ অমান্য করায় গত শুক্রবার পর্যন্ত আট দিনে রাজধানীতে গ্রেপ্তার হয়েছে চার হাজার পাঁচজন। তবে তাদের কাউকেই কারাগারে যেতে হয়নি। ভ্রাম্যমাণ আদালত অথবা সিএমএম কোর্টের মাধ্যমে জরিমানার দণ্ড দিয়েই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে পুলিশও তাদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে গত আট দিনে বন্দির সংখ্যা বেড়েছে ৩৭০। তারাও লকডাউনের বিধি-নিষেধ না মানার দায়ে গ্রেপ্তার হওয়া বন্দি কি না সে প্রশ্ন রয়েছে। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া চার হাজারের বেশি মানুষ গেল কোথায়? জানতে চাইলে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহাবুবুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা এ ধরনের কোনো বন্দি পাইনি।’

অনুসন্ধানে জানা গেছে, করোনা লকডাউনের বিধি-নিষেধ কার্যকর করতে পুলিশকে তত্পর থাকতে হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে নিয়ম ভেঙে রাস্তায় নামা মানুষকে তল্লাশি, জেরা, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা এবং গ্রেপ্তারের মতো পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে। তবে পুরো কার্যক্রমেই পুলিশ অনেকটা মানবিক আচরণ করছে।

রাজধানীর একাধিক থানার ওসিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিধি-নিষেধ অমান্য করার কারণে গ্রেপ্তারকৃতদের ভ্রাম্যমাণ আদালত অথবা সিএমএম কোর্টে পাঠানো হয়। দুই কোর্টেই তাদের সামান্য কিছু জরিমানা করে সেখান থেকেই মুক্তি দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে তাদের কারাগারের মুখ দেখতে হচ্ছে না।

কারাগারেই যদি না নেওয়া হয় তাহলে গ্রেপ্তার কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে মাঠ পর্যায়ের একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, বিধি-নিষেধ অমান্য করে রাস্তায় নামার দায়ে গ্রেপ্তারের ঘটনাগুলো গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে। আর তা জেনে অন্যরা সতর্ক হয়ে যাচ্ছে। মানুষের মনে কিছুটা ভয়ও কাজ করছে। এটা বিধি-নিষেধ পরিপালনে সহায়ক হচ্ছে। কারণ ভয় ও সতর্কতা থেকে পারতপক্ষে মানুষ ঘরের বাইরে বের হচ্ছে না।

র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসুর নেতৃত্বে গত ২৮ জুলাই মতিঝিল শাপলা চত্বরে ভ্রাম্যমাণ আদালত ১৮ জনকে জরিমানা করেন। এ বিষয়ে পলাশ কুমার বসু গতকাল শনিবার কালের কণ্ঠকে জানান, বিধি-নিষেধ অমান্য করে বাইরে বের হওয়ার দায়ে ১৮ জনকে জরিমানা করা হয়। অনাদায়ে এক দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। জরিমানার টাকা দিয়ে তারা মুক্তি পায়। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী জরিমানা করা হয়েছে। যেমন—এক নারীকে রাস্তায় পাওয়া যায়, যিনি তাঁর দুই সন্তান নিয়ে বেড়াতে বের হয়েছিলেন। একজন ওষুধ কিনতে ফার্মেসিতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু তাঁর সঙ্গে আরো দুজন গেছেন। একজন ব্যাংকে টাকা তুলতে যাচ্ছেন, তাঁর সঙ্গে আরো দুজন যাচ্ছেন। এমন সব বিষয় ছিল।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিধি-নিষেধ ভঙ্গ করার দায়ে প্রতিজনকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করার সুযোগ ছিল ভ্রাম্যমাণ আদালতের। কিন্তু মানবিক দিক বিবেচনা করে জরিমানার অঙ্কটা তাঁরা ১০০ থেকে দুই হাজার টাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছেন।

মুগদা থানার ওসি প্রলয় কুমার সাহা জানান, লকডাউনে যাদের গ্রেপ্তার করা হয় তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালত অথবা সিএমএম কোর্টে পাঠানো হয়। সেখানে জরিমানা করে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

একই তথ্য জানান কদমতলী থানার ওসি জামাল উদ্দিন মীর। তিনি বলেন, ‘মাস্ক ছাড়া বাইরে বের হওয়া এবং বিনা প্রয়োজনে রাস্তায় ঘোরাঘুরি করায় অনেককে আমরা গ্রেপ্তার করি। এরপর তাদের আদালত জরিমানা করেন এবং অনাদায়ে জেল দেন। তবে প্রায় প্রত্যেকেই জরিমানা দিয়ে মুক্তি পান।’



সাতদিনের সেরা