kalerkantho

রবিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৮। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৮ সফর ১৪৪৩

গ্রামের শ্মশানে শেষ ঠাঁই হলো না সুমনের

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

১ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার ফান্দাউক গ্রামের সুমন আচার্য্য (৩৮) করোনায় আক্রান্ত হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা যান শুক্রবার সন্ধ্যায়। তাঁর মরদেহ সত্কারের জন্য রাতেই গ্রামের শ্মশানে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু স্থানীয় লোকজন এগিয়ে না আসায় সেখানে তাঁর সত্কার করা সম্ভব হয়নি। পরে মৌলভীবাজারে শ্বশুরবাড়ির এলাকায় তাঁর মরদেহ সত্কার করা হয়েছে।

জানা গেছে, ফান্দাউক গ্রামের বিনয় আচার্য্যের ছেলে সুমন আচার্য্য করোনা আক্রান্ত হয়ে ঢাকার ডিএনসিসি করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। শুক্রবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে মারা যান এক ছেলে ও এক কন্যাসন্তানের জনক সুমন। রাত ২টার দিকে তাঁর লাশ গ্রামের শ্মশানে নিয়ে আসেন সঙ্গে থাকা দুই স্বজন। তবে সত্কারের জন্য এলাকার লোকজন এগিয়ে না আসায় তাঁকে শ্বশুরবাড়ির এলাকায় নিয়ে সেখানকার শ্মশানে সত্কার করা হয়।

স্থানীয় এক বাসিন্দা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মৃত্যুর পরই সুমনের স্বজনরা সত্কারের জন্য যোগাযোগ শুরু করেন। আচার্য্য সমাজের লোকজন এ নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেন। কিন্তু কেউ এগিয়ে আসতে চাননি। দীর্ঘ সময় শ্মশানে লাশ ফেলে রেখে উপায়ান্তর না দেখে স্বজনরা মরদেহ শ্রীমঙ্গলে নিয়ে যান।

প্রতিবেশী ভূদেব আচার্য্য বলেন, ‘আমি অসুস্থ। সুমনের মৃত্যুর খবর পেয়ে সত্কারের জন্য যা যা প্রয়োজন হয় সেগুলো প্রস্তুত রাখার ব্যবস্থা করি। এরই মধ্যে সত্কারে অংশ নিতে এলাকার লোকজনকে আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু করোনার ভয়, রাত বেশি হওয়ায় এবং বৃষ্টির কারণে লোকজন তেমন হয়নি। সুমনের শ্বশুরবাড়ির লোকজনও চাচ্ছিলেন যেন মরদেহ তাঁদের ওখানে নিয়ে যাওয়া হয়।’

ফান্দাউক ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আলমগীর শাহ গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় বলেন, ‘সুমনের সত্কারের বিষয়ে আমাদের অবহিত করা হয়নি। তবে করোনার ভয়ে লোকজন না আসায় মরদেহ গ্রামের শ্মশানে দাহ করা যায়নি।’

শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সত্কার কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ভানু লাল রায় বলেন, ‘সুমন আচার্য্যের আত্মীয় বাবলু আচার্য্য রাতেই আমাকে বিষয়টি জানান। পরে সকালে তিনি আমার বাসায় গিয়ে জানান যে লাশ নিয়ে এসেছেন।’



সাতদিনের সেরা