kalerkantho

বুধবার । ১১ কার্তিক ১৪২৮। ২৭ অক্টোবর ২০২১। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

করোনাকালে বন্ধুত্ব টিকে আছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে

বিশ্ব বন্ধু দিবস আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনাকালে বন্ধুত্ব টিকে আছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে

সমমনা লোকেরাই সফলভাবে বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে পারেন। এটা জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে গড়ে উঠতে পারে। সাধারণত একই বয়স, চিন্তাধারা এবং একই মেজাজের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। বন্ধুত্বের সম্পর্ককে খানিকটা আলাদা করে মূল্যায়ন করার জন্যই প্রতিবছর আগস্ট মাসের প্রথম রবিবার বিশ্বজুড়ে বিশ্ব বন্ধু দিবস পালন করা হয়। সেই হিসেবে আজ রবিবার ‘বিশ্ব বন্ধু দিবস ২০২১’।

উইকিপিডিয়া অনুসারে, বন্ধু দিবস ঘোষণার উত্পত্তি বা কারণ সঠিকভাবে বলা মুশকিল। তবে বন্ধু দিবসের শুরু বেশ আগে। ১৯৩৫ সালে আমেরিকায় এক ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়েছিল। দিনটি ছিল আগস্টের প্রথম শনিবার। এর প্রতিবাদে পরদিন ওই ব্যক্তির এক বন্ধু আত্মহত্যা করেন। এরপর থেকে জীবনের নানা ক্ষেত্রে বন্ধুদের অবদানের প্রতি সম্মান জানাতে আমেরিকান কংগ্রেস ১৯৩৫ সালে আগস্টের প্রথম রবিবারকে বন্ধু দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। সেই থেকে বন্ধু দিবস জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং আন্তর্জাতিক বন্ধু দিবসে রূপ লাভ করে।

বন্ধু শব্দটি ছোট কিন্তু এর গভীরতা অনেক। বন্ধুত্বের ব্যাপ্তি সীমাহীন। বন্ধুত্বে অহংকার ও হিংসার স্থান নেই। বন্ধুত্ব এমন বিষয়, যা অনেক ক্ষেত্রে জীবনের চেয়েও দামি। বন্ধুত্ব সম্পর্ককে সহজ করে। তবে আজকাল এমন বন্ধুর সংখ্যা খুব বেশি নেই। এ সময় সত্যিকারের বন্ধু পাওয়া বা থাকা দুটোই ভাগ্যের ব্যাপার।

মানুষের স্কুলজীবনে এক ধরনের বন্ধু থাকে, কলেজজীবনে আরেক ধরনের, বিশ্ববিদ্যালয়ে আবার আলাদা ধরনের। কর্মক্ষেত্রে গিয়ে সাধারণত সর্বশেষ বন্ধুর সঙ্গে পরিচয় হয়। তবে বিভিন্ন সময় বন্ধুত্ব হলেও সব বন্ধু টিকে থাকে না। শেষ পর্যন্ত যারা সম্পর্ক টিকিয়ে রাখে তারাই প্রকৃত বন্ধু।

বন্ধুত্ব মানে আড্ডা, হৈ-হুল্লোড়, একে অপরের আনন্দ-বেদনা ভাগ করে নেওয়া। কিন্তু প্রায় দেড় বছর ধরে বিশ্বজুড়ে করোনার প্রাদুর্ভাবে সব কিছু বন্ধ। করোনাকালে ঘন ঘন লকডাউন, নানা বিধি-নিষেধে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

এ সময় বন্ধুত্ব টিকে আছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। বিশেষ করে ম্যাসেঞ্জার, জুম, হোয়াটসঅ্যাপসহ নানা মাধ্যমে। সরাসরি না হয়ে এসব মাধ্যমেই এখন বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে। আবার কিশোর-তরুণরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম দীর্ঘ সময় ব্যবহার করায় নানা ধরনের অপরাধেও জড়িয়ে পড়ছে, যা রীতিমতো উদ্বেগের কারণ হয়ে  দাঁড়িয়েছে।

করোনাকালে প্রকৃত বন্ধুর আসল পরিচয়ও পেয়েছেন অনেকে। অনেকে পরিবার-পরিজনসহ করোনায় আক্রান্ত হয়ে বড় বিপন্নের সময় পাশে পাননি বন্ধুকে। আবার অনেক বন্ধু সম্ভাব্য বিপদ জেনেও এই করোনাকালে বন্ধুর পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁরাই সত্যিকারের বন্ধু।