kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ কার্তিক ১৪২৮। ২৬ অক্টোবর ২০২১। ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

কাঁচাবাজারে স্বাস্থ্যবিধি শিথিল হয়ে পড়েছে

রোকন মাহমুদ   

৩১ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কাঁচাবাজারে স্বাস্থ্যবিধি শিথিল হয়ে পড়েছে

দেশে করোনায় সংক্রমণ ও মৃত্যুহার বৃদ্ধির মধ্যেই লকডাউনের মেয়াদ সপ্তাহ পার না হতেই শিথিল হয়ে পড়েছে কাঁচাবাজারগুলোর স্বাস্থ্যবিধি। সচেতন কিছু ক্রেতা-বিক্রেতা মাস্ক পরলেও বাকি নিয়মের কোনো বালাই নেই। সামাজিক দূরত্বের কথা যেন ভুলেই গেছেন বাজারের আসা ক্রেতা-বিক্রেতারা। মাছ বাজার, কাঁচাবাজার, মুদি দোকানসহ সবখানেই গাদাগাদি করে কেনাবেচা করছেন। সরকারের পক্ষ থেকে সচেতন করার কর্মকাণ্ডগুলোও ধীরে ধীরে কমে আসছে। অনেক বাজারে সচেতনতার কোনো আলামত দেখা গেল না। ক্রেতা-বিক্রেতারা বলছেন, বাজারের সময় কম হওয়ায় মানুষ একসঙ্গে কেনাকাটা করতে আসছে। ফলে ভিড় বেড়ে যাচ্ছে। কারণ নির্দিষ্ট সময় পর আর কেনাকাটা করতে পারছে না তারা।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সর্বশেষ গত ২৩ জুলাই সারা দেশে শুরু হয়েছে কঠোর লকডাউন। শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, ক্রেতা-বিক্রেতা কেউই স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। কোনো কোনো ক্রেতা স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী চলার চেষ্টা করলেও অন্যদের কারণে পারছে না। প্রতিটি দোকানেই ক্রেতাদের ভিড় রয়েছে। সবজির বাজারগুলোতে একটি দোকান আরেকটির লাগোয়া হওয়ায় ক্রেতাদেরও দাঁড়াতে হচ্ছে গায়ে গা ঘেঁষে। মালিবাগ, সেগুনবাগিচা, মগবাজারসহ বিভিন্ন স্থায়ী বাজারের দুই দোকানের মাঝের রাস্তাগুলো সরু হওয়ায় ক্রেতাদের চলাচলেও কোনো দূরত্ব নেই। কিছু কিছু বাজার সকালে খোলা রাস্তায় বসলেও দূরত্বের বিষয়টি উপেক্ষিত। সবচেয়ে বেশি গাদাগাদি মাছের বাজারে। ছোট-বড় সব মাছের বাজারেই ক্রেতাদের ভিড় করে মাছ কিনতে দেখা যায়। কিছু ক্রেতা মাস্ক পরলেও অনেক ক্রেতার মুখেই মাস্ক নেই। আর বিক্রেতাদের মধ্যে হাতে গোনা কয়েকজন মাস্ক পরেন। মুদি দোকানগুলোতে গত বছরের লকডাউনে ক্রেতার দূরত্ব বজায় রাখতে গোল দাগ দেওয়া হলেও এবার তেমন কিছু চোখে পড়ল না।

গতকাল সকালে মালিবাগ বাজারে গিয়ে দেখা যায়, মূল সড়কে কিছু ভ্রাম্যমাণ সবজির দোকান বসেছে। তবে বাজারের ভেতর স্থায়ী দোকানগুলো স্বাভাবিক সময়ের মতোই বেচাবিক্রি করছে। এই বাজারে ১৩ থেকে ১৫টি সবজির দোকান রয়েছে। এর বেশির ভাগ বিক্রেতার মুখেই মাস্ক ছিল না। ক্রেতাদের মধ্যে অর্ধেকের মুখে মাস্ক নেই। একই অবস্থা মাছ ও মুরগির বাজারে। খিলগাঁও, মুগদা, মালিবাগসহ ছোট ছোট বাজারে রাস্তায় অস্থায়ী সবজির দোকান বেশি। কিন্তু একটি দোকান থেকে আরেকটি দোকানের দূরত্ব কম।

খিলগাঁও বাজারের সবজি বিক্রেতা আনোয়ার বলেন, মাস্ক পরলে অনেক ক্রেতাই ঠিকমতো কথা বোঝে না। তাই মাঝেমধ্যে মাস্ক খুলতে হয়। এই বাজারের ক্রেতা আলাউদ্দিনের মুখে মাস্ক ছিল না। জানতে চাইলে তিনি কিছুটা বিরক্ত হয়েই বলেন, ‘শুধু মাস্ক পরে কী হবে। বাজারের যে অবস্থা। একজন আরেকজনের গায়ে এসে পড়ছে। এগুলোর সমাধান আগে করতে হবে।’

বাজারে অনেক ক্রেতাকেই ফেরিওয়ালার কাছ থেকে মাস্ক কিনতে দেখা গেল। জানতে চাইলে মুগদা বাজারের প্রবেশমুখে আয়েশা নামের একজন ক্রেতা বলেন, ‘বাসা থেকে মাস্ক আনতে ভুলে গেছি। বাজারে যে হারে মানুষ আসে, এই ভিড়ের মধ্যে বাজার করতে হয়। কোনো উপায় নেই। কী থেকে কী হয়। তাই অন্তত মাস্কটা পরে থাকি।’

বিক্রেতাদের অনেকের দাবি, বাজারের সময় কম হওয়ায় ভিড়ও বেশি। বাজারের সময় বাড়লে যার যখন সুবিধা তখন কেনাকাটা করতে পারে। এখন বিকেল ৩টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়ায় এর মধ্যেই আসতে হয় সবাইকে। তাই বাজারের সময় বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন অনেক বিক্রেতা।

স্বাস্থ্যবিধি সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত কারওয়ান বাজার, বাবুবাজার, শ্যামবাজার, যাত্রাবাড়ীসহ রাজধানীর পাইকারি বাজারগুলোতে। এ ছাড়া পুরান ঢাকার খুচরা বাজারগুলোর অলিগলি থেকেই ভিড় শুরু।

করোনা মহামারি পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাজারের জন্য নতুন করে কোনো নির্দেশনা না দিলেও আগের দেওয়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বাজারের প্রবেশমুখে তাপমাত্রা পরিমাপের ব্যবস্থা থাকতে হবে। ক্রেতা-বিক্রেতা সবাইকে মাস্ক বাধ্যতামূলক পরতে হবে। বাজারের কসাইখানা ও প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রকে সুরক্ষিত রাখতে হবে। বাজার বন্ধের পর জীবাণুমুক্ত করতে হবে। কেনাকাটার সময় অবশ্যই নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। গত বছর লকডাউনের সময় বাজারের প্রবেশমুখে জীবাণুনাশক ও তাপমাত্রা পরিমাপের ব্যবস্থা ছিল। এবার এই ব্যবস্থা কোথাও দেখা যায়নি।



সাতদিনের সেরা