kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ কার্তিক ১৪২৮। ২৬ অক্টোবর ২০২১। ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

নারীর প্রতি সহিংসতা

মহা-উৎসাহের প্রতিরোধ কমিটি এখন ‘নিষ্কর্মা’

ফাতিমা তুজ জোহরা   

৩১ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। গত অক্টোবরে তোড়জোড় করেই কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় প্রতিরোধ কমিটি করতে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ‘মহাউৎসাহে’ নভেম্বরেই ‘কেন্দ্রীয় নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি’ গঠন করা হয়। কমিটি গঠনের ৯ মাস পেরোলেও দেখা যায়নি কমিটির দৃশ্যমান কোনো মহামারির অজুহাতে অনেকটা হাত গুটিয়েই বসে আছে কমিটি।

কমিটির কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৯ মাসে একটি বৈঠক হয়েছে। কমিটির কার্যপরিধির মধ্যে চলমান মামলা, নির্যাতন প্রতিরোধে পদক্ষেপ গ্রহণ, বাস্তবায়ন ও পরিকল্পনা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। তবে কমিটির উদ্যোগে এখনো কোনো মামলাই পর্যবেক্ষণ করা হয়নি। অপরাধীর শাস্তি, নির্যাতন বন্ধে থানা থেকে শুরু করে তদন্ত প্রক্রিয়ার দেখভাল, ত্রুটিগুলো ধরে পদক্ষেপ নেওয়াসহ ন্যায়বিচার নিশ্চিতের কোনো পদক্ষেপও নেই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই কমিটি তো কোথাও কোনো বাধা পাওয়ার কথা নয়। সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদৌ দাখিল করা হচ্ছে কি না, স্থায়ী কমিটিতে দেওয়া হচ্ছে কি না, জনপ্রতিনিধিরা কিভাবে মূল্যায়ন করছেন, সংসদে এসব ইস্যু উঠছে কি না—এসব দেখতে হবে কমিটিকে। 

কমিটির সদস্য ও মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, ‘আমি এখানকার সদস্য, অথচ আমার কাজ কী এটাই আমি জানি না। গত ৯ মাসেও দৃশ্যমান কোনো কাজ দেখিনি। পরে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যানসহ একটি প্রগ্রাম করেছি। সেটাও আমাদের নিজ উদ্যোগে। শেষ কবে মিটিং হয়েছে মনেও নেই।’

মন্ত্রণালয়ের নারী ও শিশু নির্যাতন কেন্দ্রীয় প্রতিরোধ সেল অধিশাখার উপসচিব সাবিনা ফেরদৌস বলেন, ‘মহামারির কারণে আমরা জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম করতে পারছি না। প্রতিটি উপজেলায় সচেতনতামূলক কার্যক্রমের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সাধারণ সম্পাদক নাসিমা আক্তার জলি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখন যেসব মামলা ঝুলে আছে, সেগুলো সুরাহা ও শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে কমিটিকে। প্রয়োজনে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সমাধান করতে হবে।’

কমিটির এক সদস্য বলেন, ‘প্রশাসনে যাঁরা আছেন, তাঁরাই মিলে বৈঠক করেন। আমাদের শুধু একটি প্রেজেন্টেশন দেখানো হয়েছে। সম্প্রতি এক হাজার ২০০ ভুক্তভোগীকে আর্থিক সহযোগিতার জন্য বাছাই করা হয়েছে। কিসের ভিত্তিতে বাছাই করা হলো, জানি না।’

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কমিটির বিষয়ে তথ্য দেওয়ার কোনো অনুমতি আমাদের নেই। যেভাবে নির্দেশনা আসে আমরা সেভাবেই কাজ করি।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে জেলা-উপজেলা-ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটি থেকে প্রতি মাসে প্রতিবেদন পাওয়া যায় না। প্রতিবেদন এলে সামগ্রিক চিত্র জানা যায়।’



সাতদিনের সেরা